ঝিনাইদহে পেট্রোল নেওয়াকে কেন্দ্র করে পাম্পকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে শহরের আরাপপুর এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম ফারদীন আহমেদ নিরব (২০)। তিনি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের বাদুরগাছা গ্রামের বাসিন্দা আলিমুর রহমানের ছেলে। তবে ছোটবেলা থেকেই তিনি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় পালক বাবা আবুল কাশেমের কাছে বড় হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি ফাস্টফুডের দোকান চালাতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব তার এক বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পেট্রোল নিতে ওই পাম্পে যান। সে সময় পাম্পকর্মীরা মোটরসাইকেলে তেল দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা সেখান থেকে চলে যান। পরে তারা লক্ষ্য করেন, অন্য একজনকে বোতলে করে পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় পাম্পকর্মীদের সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, পাম্পকর্মীদের লাঠির আঘাতে নিরব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন জানান, গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিরবের পালক বাবা আবুল কাশেমের অভিযোগ, মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে অন্যদের বোতলে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় পাম্পকর্মীরা তার ছেলের ওপর হামলা চালায়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুল আরেফিন বলেন, তেল নেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে সংঘর্ষে লাঠির আঘাতে নিরবের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা পেট্রোল পাম্পে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।