নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এক মর্মান্তিক পারিবারিক ঘটনায় নিজের স্ত্রী ও সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার পর স্বামী জয় সরকার আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গভীর রাতে, আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভোঁপাড়া ইউনিয়নের বলরামচক গ্রামের চৌধুরী পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে তিনজনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট বছর আগে জয় সরকার মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। এ সময় দিনাজপুর জেলার বৃষ্টি রানীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছেলেকে মাদক থেকে দূরে রাখার আশায় পরিবার পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে দেয়। কিন্তু বিয়ের পরও জয়ের আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। ফলে দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।
জয়ের মাদকাসক্তি ও বেপরোয়া আচরণের কারণে তার স্ত্রী বৃষ্টি রানী একাধিকবার সংসার ছেড়ে চলে গেলেও পরে আবার ফিরে আসেন। মাদক কেনার জন্য জয় প্রায়ই বাবার কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না পেলে তিনি বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করতেন, যার ফলে পরিবারে নিয়মিত অশান্তি তৈরি হতো।
বৃহস্পতিবার রাতেও একই বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে জয়ের ঘর থেকে চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে গিয়ে দেখেন, স্ত্রী ও সন্তানের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং জয় সরকারের গলাতেও আঘাতের চিহ্নসহ তিনজনই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
পরবর্তীতে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বৃষ্টি রানীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় জয় সরকার ও তার মেয়ে জিনি সরকারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তাদের মৃত্যু হয়।