হ্যাপি নিউ ইয়ার ইংরেজি – ২০২০

98

শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী শিপন: স্বাগত ২০২০ ইংরেজি। জমকালো আতশবাজির নানা রঙের আলোর নাচন,অন্ধকার আকাশের মাঝে হঠাৎ ভেসে উঠবে আলোকছটা । আলোর মিছিলের সাথে নাচ- উচ্ছাসের মধ্যে দিয়ে অঘটনের বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্বের প্রতিটি মুকুট পড়া দেশে। একটাই কামনা সকলের আগামীটা যেন ভালো হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত বারোটায় উচ্ছাসের আনন্দে ফুটে উঠবে আপন আপন মহিমায়।

আলোচিত সমালোচিত কাঙ্খিত – অনাকাঙ্খিত আলোড়ন তোলা নানা ঘটনার জন্ম মৃত্যু নিয়ে মহাকালের পরিক্রমায় বিদায় নিচ্ছে আরো একটি বছর । প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ,উৎকন্ঠা-উদ্বেল,আনন্দ-বেদনায সাক্ষী হয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল আরো একটি বসন্ত। আগামীকাল সূর্য্য উঠবে নতুন স্বপ্ন নিয়ে,আর সেই নতুন সূর্যলোকিত দিনের প্রতি মানুষের অসীম প্রত্যাশা প্রতিক্ষা।

এশিয়া থেকে ইউরোপ,আমেরিকা থেকে আফ্রিকা সমগ্র বিশ্ব উৎসবে মাতোয়ারা। বড় বড় শহরগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্টান নামী দামী অনুষ্টানের আয়োজন করে। উৎসব আয়োজনের মধ্যে দিয়ে নতুনত্ব,আকস্মিকতা কিংবা আশ্চর্য বা বিস্মিয়কর কিছু পাওয়া কঠিন। আমরা অভ্যস্থ,কেননা আমরা বছরে দু‘বার পালন করি বর্ষবরণ।একটি হলো বাংলা বর্ষবরণ আর অপরটি হলো আজ রাতে যে বরণের মহা আয়োজন। উৎসবের সুগন্ধিটা কারোরই চোখ কান এড়িয়ে যায়না তাইতো উৎসব পালনে থাকেনা কোন কার্পণ্যতা।আজ প্রতি বছরের মতো ২০২০ সালকে বরণ করে নেওয়া হবে।

বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মানুষের সাথ একাত্ব হয়ে আমাদের দেশের তরূণ যুব জৈষ্ঠ নির্বিশেষে সবাই বর্ষবরণের উৎসবে যোগ দিবেন। এক কথায় বলতে হয় ইংরেজি নববর্ষ বিশ্ব জুড়ে পালিত হওয়া সেই বিরল উৎসব গুলো মধ্যে অন্যতম,যাতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই পরস্পরের প্রতি শুভ কামনার বাণী জানিয়ে থাকেন। নতুন নতুন আয়োজন উৎসবের এই ব্যাপ্তি দিন দিন আরো প্রসারিত হচ্ছে ,যোগ হচ্ছে একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ ডিজিটাল পদ্ধতি। মানুষ মানুষের কাছাকাছি হয়ে আসছে নানাবিধ প্রয়োজনে।

ফেলে আসা বিগত বছরের ক্লেদ,যুদ্ধ-সংঘাত,রক্তপাত,সংঘর্ষ মন্দা-বিপর্যয়,গুম –খুন –হত্যা,অপহরণ ,ছিনতাই সহ অধিকাংশ অসামাজিক অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে যেমন পার হয়েছে পুরাতন বছর তেমনি এই বছরের শিক্ষা ,চিকিৎসা,অর্থনীতি,প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনার জয় জয়কার শ্লোগান কি সত্যিই আলোর পথ তৈরী করতে পেরেছে ?

নতুন বছরের শুরুতে আমাদের কামনা ধীরে ধীরে সকল অনাচার স্থিমিত হয়ে আসুক। প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট বিপর্যয় তা দূর হয়ে যাক,সরকার ও দেশেন জনগনের পূত পবিত্র সমন্নয়কৃত সহযোগিতার হাতই পারে নব জাগরণ ঘটাতে। বিশেষ করে পণ্যর দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ হীনতার কালো থাবা থেকে মুক্ত হোক আমাদের দেশ। দূর হয়ে যাক নেশার ঘোেরে স্বপ্ন গড়ার ব্যর্থ প্রয়াস। ধর্ম সংস্কৃতি তার আপন সত্তা নিয়ে আমাদের চলার পথ আলোকিত করে দিক । শিশু কিশোর নারীদের প্রতি যে অনাকাঙ্খিত ইতিহাস রচিত হয়ে আছে তা যেন আর দীর্ঘায়িত না হয় এমনটাই কামনা সদৃশ প্রার্থনা।

অপরের প্রতি দায় চাপিয়ে নতুন কিছু তৈরী হোক তা অনেকেরই কাম্য নয়। সহযোগিতা ও সহমর্মিতা হোকে মানব সমাজের চালিকা শক্তি। রাজনৈতিক,সামাজিক,সরকারী ,বেসরকারী চাকুচিজীবি এবং ব্যবসায়ী ও সামাজবদ্ধ শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকলের একটাই শ্লোগান ‘ সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে”-মানব জাতির মূল ভিত্তি হিসেবে আগামীর জন্য এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে যাওয়ার শপথ নিয়েই নতুন বছরের সূর্যকে স্বাগত জানাই। আর তা এখনই হয়ে উঠুক আমাগীর জন্য দৃঢ় অঙ্গিকার।

আমাদের দেশ তথা সারা বিশ্বের মাটিতে নাই ঘটুক কোন সংঘাত যুদ্ধ বিগ্রহ কিংবা প্রাকৃতিক দূর্যোগ নামক মরণ থাবা। সব জাতি – বর্ণ গোষ্ঠীর প্রতি সুখময় হয়ে উঠুক এমনটাই কামনা হোক আমাদের অন্তরের বাণী।
সকলের প্রতি রইল ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা ।
লেখকঃ ফ্রি-ল্যান্সার।