লতিফ মির্জার নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করায় ক্ষুব্ধ উল্লাপাড়ার মানুষ

82

উল্লাপাড়া প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার প্রয়াত নেতা বীর মুক্তিযুদ্ধা পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক জাতীয় সংসদের স্পিকার ও উল্লাপাড়া থেকে দুই দুই বার ব্যাপক ভোটে নির্বাচিত সংসদ মরহুম আলহাজ আব্দুল লতিফ মির্জার নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ এলাকার মানুষ ক্ষোব প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে উল্লাপাড়ায় হাটে বাজারে চা স্টলে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে পড়েছে। তাদের মনে একটাই প্রশ্ন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও নির্দেশকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে নেতা নিজের জীবনকে বাজি রেখে ঝোড় ঝাপটার মাঝে লুকি থেকে পাকসেনাদে বিরুদ্ধে মাঠে ময়দানে খেয়ে না খেয়েে যুদ্ধ করেছে তার নাম যদি রাজাকারের তালিকায় থাকে দেশে কি?মুক্তিযোদ্ধা আছে! প্রশ্ন উল্লাপাড়ার সর্বস্তরের মানুষের এবং তীব্র প্্রতিবাদ করছেন তারা। উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা অবিলম্বে সংশোধনের জন্য প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষনা দিয়েছেন। উল্লাপাড়ার মুক্তিযোদ্ধারা ১৮ ডিসেম্বর বুধবার পৌর শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও শহীদ মিনার প্রাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। থ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন “পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের” সর্বাধিনায়ক ছিলেন মির্জা আব্দুল লতিফ। থ৭১ এর ১১ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের তাড়াশের নওগাঁয় পাকসোনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের বড় যুদ্ধ হয়। মির্জা আব্দুল লতিফ ওই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। এই যুদ্ধে ১৫/১৬ জন পাকসেনা নিহত হয়। ক্যাপ্টেন সেলিম নামে একজন পাকসেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এই শিবিরের মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ শত। নওগাঁর যুদ্ধে গ্রেফতার হওয়া সেলিমকে পরে মির্জা আব্দুল লতিফ গুলি করে হত্যা করেন। মির্জা আব্দুল লতিফ দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একবার সভাপতি এবং একবার সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের তৈরি রাজাকারের তালিকাটি প্রকৃতই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় থেকে করা কিনা, নাকি এক্ষেত্রে কোন ষড়যন্ত্র হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা দরকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলে বেসামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত “পলাশডাঙ্গা যুব শিবির” পাকবাহিনীর জন্য ছিল রীতিমতো আতঙ্কজনক।

রাজাকারের তালিকায় মির্জা আব্দুল লতিফের নাম প্রকাশের ব্যাপারে মির্জা আব্দুল লতিফের মেয়ে নারী নেত্রী সেলিনা মির্জা মুক্তি গণমাধ্যম কর্মীদেরকে জানান, তিনি এবং তার পরিবার এই তালিকা দেখে হতবাক হয়েছেন। এর নিন্দার কোন ভাষা তার জানা নেই। এটা গোটা জাতির জন্য অবমাননাকর। মুক্তি বলেন, এটা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের ভুল নাকি কোন ষড়যন্ত্র তা তদন্ত করে দেখা উচিত। মির্জা আব্দুল লতিফ যদি রাজাকার হন তাহলে বাংলাদেশই অবৈধ বলে তিনি মনে করেন। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের ভুল হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন মুক্তি মির্জা। তিনি সিরাজগঞ্জের সকল মুক্তিযোদ্ধার কাছে তার প্রয়াত পিতার এই অবমাননার বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে প্রকাশিত রাজাকার তালিকা অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার খোরশেদ আলম ও অপর মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা জানান, রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা মির্জা আব্দুল লতিফের নাম থাকায় মুক্তিযোদ্ধারা খুবই ক্ষুব্ধ। তারা ইতোমধ্যেই এর প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষনা দিয়েছেন। সাবেক কমান্ডার খোরশেদ আলম বলেন, তাদের তৈরি করা তালিকার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের প্রকাশিত তালিকার কোন মিল নাই। বিষয়টি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের তদন্ত করে দেখা উচিত।