সেনাবাহিনীর ভূয়া পরিচয় পত্র দেখিয়ে একাধিক বিয়ে,কোর্টে মামলা

147

মোঃ ওবায়দুর রহমান: সেনাবাহিনীর ভূয়া পরিচয় পত্র দেখিয়ে মেয়েদের ঠকিয়ে একের পর এক বিয়ে করে যাচ্ছে এক প্রতারক। এক স্ত্রী বলেন সে ৬ বছরে বিয়ে করেছে ৬ ছয়টি। এ ব্যাপারে কোর্টে মামলা হয়েছে বলে যানা গেছে।

নড়াইল জেলার সদর উপজেলার ছাগল ছেড়া গ্রামের রফিক মোল্যার ছেলে মোঃ মাজেদুল মোল্যা (২৬) বাংলাদেশ সেনাবহিনীর ভুয়া পরিচয় পত্র দেখিয়ে একাধিক বিয়ে করেছে। এ ঘটানাকে কেন্দ্র করে নড়াইল কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছে মাজেদুলের স্ত্রী নুসরাত জাহান।

নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, প্রতারক মাজেদুল সেনাবাহিনীর ভূয়া পরিচয় পত্র দেখিয়ে নিজ জেলার লোহাগড়া উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের ওমর মোল্যার মেয়ে নুসরাত জাহানকে বিয়ে করে এবং তাদের নিকট থেকে ৩ লাখ টাকা যৌতুক গ্রহন করে। জামাই যেহেতু সেনা সদস্য তাই মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে অনেক কষ্ট করে ধার দেনা করে যৌতুকের এই টাকা তুলে দেয় নুসরাতের পরিবার। এই টাকা নিয়ে বেশ কিছুদিন ঘর সংসার করতে থাকে মাজেদুল ও নুসরাত। এর মাঝে মাজেদুল মোল্যার ঔরষে ফাইজা নামের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। প্রতারক মাজেদুল নুসরাতের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ায় স্ত্রীকে নানা ভাবে নির্যাতন করতে থাকে।

সে প্রায়ই নুসরাতকে বলে আমি সেনা সদস্য এই দেখ আমার পরিচয় পত্র তুই আমার স্ত্রী হওয়ার যোগ্য না। তাছাড়া আমার দরকার ছেলে সন্তান, তুই মেয়ে জন্ম দিয়েছিস। টাকার জন্য তোকে বিয়ে করেছিলাম এখন টাকা শেষ তোকে আমার আর প্রয়োজন নাই। এ নিয়ে দির্ঘদিন তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিল। এ বিষয়ে দিঘলিয়া ইউপি সদস্য মোঃ মিলন মোল্যা বলেন, ভুয়া সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে মাজেদুল একাধিক মেয়ের জীবন নষ্ট করছে, এর সঠিক বিচার হওয়া দরকার।

এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে সে আবার সখ্য গড়ে তোলে লোহাগড়া উপজেলার দোয়া মল্লিকপুর গ্রামের মৃত মান্দার মোল্যার মেয়ে দশম শ্রেণী পড়ুয়া রিয়া খানমের সাথে। রিয়া খানমের যেহেতু বাবা বেচে নাই তাই তার মাকে ফুসলিয়ে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকেও বিয়ে করে প্রতারক মাজেদুল। এ বিষয়ে কথা হয় রিয়া খানমের মায়ের সাথে। তিনি জানান, আমি গরীব মানুষ আমাকে যেহেতু সেনা সদস্য পরিচয় দিয়েছে তাই আমি সরল বিশ^াসে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে এই বিয়ে দিয়েছি। বাল্য বিয়ে দিলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান আমাদের ইউনিয়নের ফাইজার মেম্বর উপস্থিত থেকে এই বিয়ে দিয়েছে তাই আমি কিছুই বলতে পারিনি। তবে আমার মেয়ে নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত কারন জানতে পেরেছি মাজেদুল ভুয়া সেনা সদস্য। সে পুর্বে আরও একাধিক বিয়ে করেছে। আমার মেয়ে নিয়ে সে সংসার করবে এর কোন নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। আমার মেয়েকে সে ফুসলিয়ে কোথায় নিয়ে রেখেছে তাও আমি জানি না। আমি চাই এই প্রতারকের উপযুক্ত শাস্তি হোক। রিয়া খানমের বাল্য বিয়ের বিষয়ে ফাইজার মেম্বরের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, যেহেতু ছেলে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়েছে তাই আমি এ বিয়ে দিয়েছি। সেনা বাহিনির ছেলে বাল্য বিয়ে হলেও দোষ কি? মেয়ের বয়স এক সময় তো হবে, তখন হয়তো সেনা সদস্য পাওয়া যাবে না। এই প্রতারক,ভুয়া সেনা সদস্য মাজেদুলকে প্রশাসন উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে নুসরাত ও তার না বালিকা মেয়ের জীবনের একটা বিধি ব্যবস্থা করবেন এটাই সচেতন মহলের কাম্য।