প্রাণের টানে ঢাকা হলো মিনি কাপ্তাই

588

শাহাদাৎ হোসেন শিপন: পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায় ও সেই চোখের দেখা প্রাণের কথা সেই কি ভুলা যায় কবি গুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের সেই চীরচেনা হৃদয় নিংরানো গানের কলি যেন সবার মনে ঠাই করে নিল। প্রাণের টানে মিলন মেলায় রূপ নিল ঢাকার প্রাণ কেন্দ্র বাইতুল মোকারম সংলগ্ন জাতীয় ক্রীড়া ভবনের ৬ষ্ঠ তলার পুস্পদাম রেস্টুরেন্ট এর হলরূম।

গতকাল ৬ ডিসেম্বর এক মিনি কাপ্তাইতে পরিনত হয়েছে রাজধানী শহর ঢাকা। পার্বত্য চট্রগ্রামের রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই প্রজেক্ট সেই বিশ্ব পরিচিত “ছুটির ঘন্টা’ চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যবহৃত স্কুল “বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড মাধ্যমিক বিদ্যালয় (প্রাক্তন কর্ণফুলী প্রকল্প উচ্চ বিদ্যালয়) এর (১৯৭১ হইতে ২০১৪) সালের শ’তিনেক প্রাক্তন ছাত্র/ছাত্রী আর শিক্ষকদের আগমনে। ছোট বড় সকলের এমন মিলন মেলা সচরাচর কোথাও তেমন দেখা না মিললেও অসম্ভবকে সম্ভব করাটা ছিল আয়োজকদের মাত্র অর্ধমাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল ।একে একে সকাল আটটায় সমস্ত হল রূম ভরপুর হয়ে উঠে। কুলাকুলি করার মধ্যে দিয়ে একে অপরকে ঝড়িয়ে ধরা ,করমর্দন,সালাম বিনিময় আর চোখের কোণে জল জমে আসা ছলছল চোখের দিকে তাকিয়ে হারিয়ে যেতেই যেন এই আয়োজন।কতকাল পর একে অপরের সাথে দেখা হওয়াটাই যেন অপরুপ এক আনন্দের করিডোরটি খনিকের জন্য নিরবতার রূপ দিতে পারেনি উপস্থাপক। পিননিরবতা শুধু একমিনিট ছিল যখন প্রয়াত শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্র ছাত্রীদের আত্বার শান্তি কামনায় দাড়িয়ে হারানো বন্ধু ,সহপাঠীদের মনে করা হচ্ছিল।

সময় বাধা থাকলেও এমন আয়োজন সঠিক সময়ে যেমন শুরু করতে পারা যায়না তেমনি শেষটাও যেন শেষ হয়েও হয়না শেষ।খানিকটা দেরি হলেও কারো কোন অভিযোগ নেই।সকাল সাড়ে নটায় সঞ্চালনার মাইক হাতে স্টেজে উঠে আসেন দিপু কুমার বড়–য়া।শুভেচ্ছা বিনিময় ও স্বাগত জানিয়ে কবিত্বের ভঙ্গিমায় সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করাতে হিমশিম খেতে হতে হয়েছে বেশ কয়েকবার।পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন সূহৃদ সদস্য নাছির উদ্দিন। বিশাল আকারের কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী কুয়েত নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব:) আসহাব উদ্দিন,এয়ার মার্শাল (অব:) নাঈম হাসান, খাদ্য অধিদপ্তর পরিচালক মাহমুদ হাসান বাদল,টঙ্গি সরকারী কলেজের প্রফেসর নাজনীন হাসান,আইসটি মন্ত্রনালয় যুগ্ন সচিব সেলিনা পারভেজ কলি,রিয়াল এডমিরাল লোকমানুর রহমান স্বপন,লে.কর্নেল ডা.হারূন অর রশীদ,বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন ,শাহ আলম ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন খান খোকন। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন অতিনু প্রসাদ বড়–য়া, গাজী জাহাঙ্গীর আলম পলাশ,জাহাঙ্গীর আলম,তাসনীম ফয়েজ মেরী,রোকনুজ্জামান রোকন,কামাল হাকিম প্রমূখ।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সকল ব্যাচের ছাত্র ছাত্রী একে অপরকে দেখে মুগ্ধতায় মাঝে কখনো আবার আবেগী হয়ে উঠতে দেখা গেছে ,জড়িয়ে ধরছেনতো ছাড়তে চাইছেন না কেহ,মিলন মেলা আনন্দের সাথে কিছুটা ভারাক্রান্তও হয় তা এই দিনগুলোতেই উপলব্দি করা যায়।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন মানব সেবা ফোরাম ও সূহৃদ এর পক্ষ থেকে প্রত্যেকের জন্য আকর্ষনীয় সিরামিক মগ ও ২০২০ সালের ক্যালেন্ডার সুবেনির হিসেবে বিতরন করা হয়। স্মৃতিচারণের ফাঁকে চলতে থাকে কফি পানের পর্ব,দুপুর সাড়ে বারোটায় জুম্মা নামাজের বিরতির পর মধ্যাহৃ ভোজের আয়োজন শেষে আবারো মুখরিত হয়ে উঠে অয়োজনের বিশাল পরিসর।

পর্যায়ক্রম পর্বে শুরূ হয় নিজস্ব শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা। কোকিলা কন্ঠের অধিকারীনি গৃহিনী শিল্পী ইয়েস কার্ডপ্রাপ্ত সুরমা আক্তার বিজয়ের মাসকে স্বরণ করে দেশের গান ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাও না’ সহ বেশ কয়েকটি গান গেয়ে সবাইকে যেন নিয়ে গেছে পঁচিশ ত্রিশ বছর আগে। তারপর বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী কলি আপার কন্ঠে ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ গানের সুরে সব যেন নিরবতায় ভর করে তুলেছে , আধুনিক গানের ভরাট কন্ঠের শিমুল ভাই, রাসেল,কামাল সহ স্কুলের অনেক শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মোট এগারোজন ভাগ্যবান ব্যক্তিকে র‌্যাফেল ড্রয়ের মধ্যে দিয়ে আকর্ষনীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান বিকেল পাঁচটায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পুস্পদাম রেস্টুরেন্টের মালিক আরো এক ঘন্টা সময় বাড়িয়ে দিয়ে আনন্দ মূহুর্তকে আরো মুখরিত করে দেওয়ায় আয়োজক বৃন্দের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়, অনুষ্ঠানের সফলতা আর ব্যর্থতা সকল কিছু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।