পুলিশে’র প্রেমে প্রতারিত হয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্বহত্যা!

90

উজ্জ্বল রায়: নড়াইলে প্রেমে প্রতারিত হয়ে হিরা খানম (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় মেয়ের প্রেমিক পুলিশ কনস্টেবল মো. তুরান আলীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার নড়াগাতি থানায় মামলা দায়ের করেন হিরার পিতা। হিরা নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার নড়াগাতি থানায় কলাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। প্রেমে প্রতারিত হয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে হিরা শুক্রবার রাতে আত্মহত্যা করে। মৃত্যুর আগে ওই ছাত্রীর লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, জানা যায়, নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার নড়াগাতি থানায় কলাবাড়িয়া গ্রামের মো. ফরিদ শেখের মেয়ে হিরা খানমের সঙ্গে পাশের গ্রাম আইজপাড়ার মৃত রায়জল হক শেখের ছেলে মো. তুরান আলীর (২০) দীর্ঘ ২ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক বছর আগে তুরান পুলিশের চাকরি পায়। চাকরির পর হিরার পরিবার তুরানের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয়।

তখন তুরান হিরার সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করতে থাকে। একপর্যায়ে তুরানও বিয়ে করে ফেলে। তার বিয়ে করার খবরও সর্বমহলে জানাজানি হয়ে যায়। এ খবরের পর ওই ছাত্রী তার প্রেমিক তুরানের মা হোসনেয়ারা বেগমের নিকট প্রতিকার চায়। কিন্তু তার মা ছেলের প্রতারণার বিষয়টি আমলে না নিয়ে হিরাকে গালি-গালাজসহ নানাবিধ ভৎসনা করেন। এরই জেরে হিরা বাড়ি এসে নিজ ঘরে শুক্রবার রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। মৃত্যুর আগে সে একটি চিরকুটে লিখে যায় ‘তার মৃত্যুর জন্য তার প্রেমিক তুরান শেখ দায়ী করে। তাকে যেন ক্ষমা না করা হয়। এ প্রসঙ্গে নিহত হিরা খানমের চাচা মো. আবুল হাসান বলেন, ‘হিরার সঙ্গে তুরানের প্রেমের সম্পর্ক আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু তুরান কিছুদিন আগে তাদের পরিবারের কাউকে কিছু না বলে গোপনে বিয়ে করে। এ অপমান সইতে না পেরে হিরা আত্মহত্যা করেছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার নড়াগাতি থানার এসআই মো.কামরুজ্জামান বলেন, নড়াইলের কালিয়ায় প্রেমে প্রতারিত হয়ে হিরা খানম (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় রোববার রাতে মেয়ের প্রেমিক পুলিশ কনস্টেবল মো. তুরান আলীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার নড়াগাতি থানায় মামলা দায়ের করেন হিরার পিতা।‘হিরার আত্মহত্যার ঘটনায় তার পিতার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে আটকের চেষ্টা চলছে। অপরদিকে, যৌতুক মামলায় কারাগারে পুলিশের সার্জেন্ট স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় বগুড়ায় কর্মরত পুলিশের এক সার্জেন্টকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন জয়পুরহাটের আদালত। সোমবার দুপুরে, জয়পুরহাট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নাহিদ আখতার জুলিয়েট এ আদেশ দেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১১ই নভেম্বর জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিতা বাজার এলাকার গোলাম মোস্তফার মেয়ে মায়া আকতারের সঙ্গে একই উপজেলার উত্তর হাট গ্রামের শিশি নাজিরপাড়া এলাকার তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলামের বিয়ে হয়।

বিয়ের পরপরই তরিকুল ২০ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করলে, মায়ার পরিবার যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় তরিকুল মায়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এমন অভিযোগে, গত ১৪ই নভেম্বর মায়া আকতার বাদী হয়ে জয়পুরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতে জামিন আবেদন করা হলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট ফিরোজা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।