কুমিল্লায় ভূমিদস্যুরা গিলে গিলে নিঃশেষ করে দিচ্ছে তিন নদীর মোহনা!

69

ষ্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ২নং চৌয়ারা ইউনিয়নের টঙ্গীরপাড় পিপুলিয়া এলাকার সুইচগেটে এসে মিলিত হয়েছে তিনটি নদী। ডাকাতিয়া, গুইঙ্গাঝুরি এবং সোনাইছড়ি এই তিন নদীর মোহনায় ভূমিদস্যুরা নিজেদের রাজত্ব কায়েম করে গিলে ফেলছে নদী তিনটির মোহনার অববাহিকা। সুইচ গেট নামে পরিচিত স্থানে তিন নদীর মোহনায় চলতি শুকনো মৌসুমে প্রতিদিন ৭টি এক্সেলেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে দূর দূরান্তে পাচার করা হচ্ছে হাইড্রোলিক ট্রাকের মাধ্যমে। যাতে করে নদীর অস্তিত্ব প্রায় বিলীনের পথে।

স্থানীয় রাজনীবিদ এবং প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে নদী তিনটির মাটি খেয়ে সাবাড় করছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চৌয়ারা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সোহাগের করমর্দনে দস্যু চক্রের সাইফুল ইসলাম, ইউপি মেম্বার আবদুল মজিদ, মনির হোসেন, শাহ আলম, শাহজাহান, আবুল হোসেন এর এই মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন মাটি পাচারের বিষয়টি অবগত থেকেও প্রভাবশালী মহলের তীব্র চাপে চোখে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকছে না। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, কুমিল্লা অঞ্চলের নদীগুলোর ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিকভাবে গঠন-গড়ন বালুমাটির এবং সেগুলো অত্যন্ত নরম, শিথিল।

যার কারনে এ অঞ্চলের মাটির চাহিদা রয়েছে বেশ। নদী কাটার বিরুদ্ধে সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও প্রতিদিনই অবাধে মাটি বিক্রি’র সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। ফলে হারিযে যাচ্ছে তিনটি নদীর ইতিহাস এবং ঐতিহ্য। প্রভাবশালীরা পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রায় ২মাস ধরে অবৈধভাবে এক্সেলেটার (ভেকু) দ্বারা মাটি ও বালু উত্তোলন করছে। অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুসংখ্যক অসাধু মাটি ব্যবসায়ী জমিতে অন্তত ১০টি ভেকু মেশিন দিয়ে অন্তত কয়েকশ ফুট মাটি উত্তোলন করে বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহ করছেন। এতে নদী পাড়ের জমিগুলো ক্রমে ধসে পড়ে বিলীন হচ্ছে এবং এলাকার নিরীহ চাষিরা তাদের চাষাবাদযোগ্য জমি হারাচ্ছেন। এভাবে মাটি কাটার মাধ্যমে জমিগুলো গভীর জলাশয়ে পরিণত হয়ে কৃষিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, আমি এখন ছুটিতে গ্রামের বাড়ি আছি, এই মুহূর্তে এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারবো না। এব্যাপারে পানিউন্নয়ন বোডের্র নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন আমাদের কোন অনুমোতি নেয়নি মাটি খেকোরা ।