হোমনায় নদী খননের বালুতে কৃষি জমি ভরাটের অভিযোগ 

105
মো.নাছির উদ্দিন: কুমিল্লার হোমনা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর এলাকায় তিতাস নদী খননের বালুতে কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়  পঞ্চাশ জন কৃষক বুধবার (২৭ নভেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন । অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মাইজচর গ্রামের হাফিজুল ,রামকৃষ্ণপুর গ্রামের ফুল মিয়া ও কামাল তাদের দলীয় লোকজন নিয়ে রামকৃষ্ণপুর মৌজার  তিন ফসলি জমি তাদের অনুমতি ছাড়া তিতাস নদী ড্রেজিং এর বালু দিয়ে জোর পূর্বক ভরাট করা হচ্ছে । এতে  ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ জমিতে  অনেকে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করে আসছে। ড্রেজিং এর বালুর কারনে দরিদ্র চাষীদের একমাত্র আয়ের উৎস সবজি চাষ বন্ধ হয়ে গেলে তারা ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে পড়ছে । সরেজমিনে  গেলে স্থানীয় লোকজন জানায়, মাইজচর গ্রামের হাফিজুল ইসলাম, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের ফুল মিয়া ও কামাল মিয়া, হোসেন সহ একটি সিন্ডিকেট ড্রেজিং কর্মকর্তাদের যোগসাজসে প্রশাসনের বিনানুমতিতে কৃষকদের  তিন ফসলি জমি জোর করে বেকু দিয়ে বাধ নির্মান করে বালু ভরাট করে  লাখ লাখ টাকা বানিজ্য করছে ।স্থানীয় ভাবে অনেক চেষ্টা-তদবিরের পরও তাদের জমি রক্ষা করতে পারেনি।  কৃষকরা বাধা দিলে তারা তা মানেনি। বরং উল্টো মিথ্যা মামলার ভয় দেখায় । রামকৃষ্ণপুর  গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক আবুল কালাম বলেন,  হাফিজুল, কামাল ও ফুল মিয়া কয়েক জন মিলে  ড্রেজিংএর লোকদের যোগসাজসে আমাদের ফসলি জমিতে জোর পূর্বক বালু ভরাট করে আমাদের নিকট থেকে জোর করে টাকা দাবী করছে। স্থানীয় ভূমি অফিসে মৌখিক ভাবে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।  তাই ইউএনও স্যারের নিকট অভিযোগ দিয়েছি । এ বিষয়ে  সিন্ডিকেট সদস্য হাফিজুল ইসলাম  বলেন, এখানে আমার ২০ শতাংশ জমি আছে ড্রেজারের বালু দিয়ে তা ভরাট করার জন্য পাড় বেধেছি । যারা জমি ভরাট করতে ইচ্ছুক তারা স্বেচ্ছায় রাজি হয়েছে, কাউকে জোর  করা হয়নি। তবে এর জন্য প্রশাসনের অনুমতির বিষয়টি অবগত নই । বিআইডব্লিউটিএর  নদী খনন কাজে দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. রাসেল মুঠো ফোনে প্রতিনিধিকে জানান, ড্রেজিংএর বালুদিয়ে জায়গা ভরাট করতে চাইলে আবেদন পেলে যাচাই বাছাই করে বালু ভরাট করা হচ্ছে । এর জন্য কোন টাকা  নেয়া হচ্ছে না । টাকা নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই । এ বিষয়ে আমি কোন অভিযোগও পাইনি । এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) তাপ্তি চাকমা বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য । প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফসলি জমি নষ্ট করার সঙ্গে জড়িতদের কোনো ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।