ওসি মোয়াজ্জেমের ৮ বছর কারাদন্ড ও ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানা

50

কালজয়ী রিপোর্ট: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে ৮ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-সামছ জগলুল হোসেন বৃহস্পতিবার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। ৮ বছরের কারাদন্ডের পাশাপাশি ওসি মোয়াজ্জেমকে ১৫ লাখ টাকাও জরিমানা করা হয়েছে।

এই রায় ঘোষণা করা হয় নিরাপত্তা আইনে দুটি ধারায়। এর মধ্যেই ২৬ ধারায় ৫ বছর কারাদন্ড ও ১০ লাখ জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ড এবং ২৯ ধারায় ৩ বছরের কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের জেল দেন আদালত। এই দুই ধারায় মিলে ৮ বছর এবং ১৫ লাখ টাকা ধার্য করা হয়, অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদন্ড ভোগ করতে হবে।

ফেনীর আলোচিত হত্যাকান্ড মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম এর বিরুদ্ধে।

গত ২০ নভেম্বর এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন। এই মামলা ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

গত ১৭ জুলাই বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-শামস হোসেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনে বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ১৭ জুন আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৬ জুন রাজধানীর শাহবাগ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ১৫ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ব্যারিষ্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। আদালতে তার জবানবন্দি নিয়ে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’’ ২০১৮ এর ২৬,২৯ ও ৩১ ধারা করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহন করেন। পরে এ সক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে শ্রেনিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। এমন অভিযোগ উঠলে দুজনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় ওসি নিয়ম ভেঙ্গে জেরা করেন এবং নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন।