হারার আগে হেরে গেছে বাংলাদেশ

54
নূরুল আলম আবির: বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে হাল শুক্রবার বিকেলে দেখা গেল, তাতে আর কারো বুঝতে বাকি রইল না যে— দেশের টেস্ট ক্রিকেট পেছনের দিকে দৌড়াচ্ছে। এত এত টেস্ট ম্যাচ খেলার পরও বঙ্গ ক্রিকেট দলের সোনার ছেলেরা যেন ভারতের সাথে ক্রিকেট নয় পুতুল খেলা খেলল। ভারতের সাথে গোলাপি বলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যে অযোগ্যতার গভীর ক্ষত চোখে পড়ল, এতে ক্রিকেটপ্রেমী বলতেই মর্মাহত হয়েছে। প্রতিটি বঙ্গ ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ে বেশ নীরবেই হয়েছে অবিরাম রক্তক্ষরণ। শুক্রবারের দিবারাত্রির ম্যাচ দেখে মনে হলো— লড়াই করার আগেই হেরে গেছে টিম টাইগার। গোলাপী বলে নিজেদের স্বপ্ন রাঙানোর বদৌলতে চরম দুঃখগাঁথার অমরকাব্য লিখতে বসেছেন, মুমিনুল, মাহমুদউল্লাহ আর মুশফিকরা। সোনালী বিকেলে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, দেশের পতাকা উঁচিয়ে ধরে যাদের চার, ছয় হাঁকানোর কথা; সেই সেনাদলের সদস্যরা তার বদৌলতে হারার আগেই হেরে গেছে। বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করতে ভারতের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩০.৩ ওভার। এর মধ্যেই ১০৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ। ১০৬ রানে অলআউট হওয়া মানে বিপর্যয়ের তলদেশে হারিয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কি তবে ১০৬ রানে অলআউট হওয়ার দল? মানছি নতুন গোলাপী বলে বাংলাদেশ নতুন, রাতের ম্যাচেও প্রথম। ভারতের ব্যাটসম্যানরা ওতো প্রথম। তাদেরকে স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে যেতে দেখা গেছে। ঠিক যেন বাংলাদেশ টিমের উল্টোচিত্র। আমাদের দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘন্টা বাজিয়ে গোলাপি বলের বাংলাদেশ বনাম ভারতের দিবারাত্রির টেস্ট ম্যাচটি শুভ উদ্বোধন করেছেন। নিজ দেশের ছেলেদের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন খেলায় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় খুশি হননি। একবুক হতাশা নিয়ে দেশে ফিরেছেন। ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের এ বিষয়টিও মাথায় নেই যে— আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছেন। এমনটি ভেবে থাকলে তাদের এমন ভেঙে পড়া মনের যাচ্ছেতাই খেলা হয়ত আমাদেরকে দেখতে হতো না। গতকাল ৩ উইকেট খুইয়ে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে ভারত। তারা এগিয়ে গেছে ৬৮ রানে। হাতে আছে আরো ৭ উইকেট। একই উইকেটে বাংলাদেশ যেখানে দিনের আলোতেই নিঃশেষ হয়ে গেল, সেখানে রাতের রহস্যময়ী উইকেটেও ভারত স্বাচ্ছন্দ্যে খেলে গেছে। তাহলে বাংলাদেশ দলের সমস্যা কোথায়— মনোবলে, দক্ষতায়, দেশপ্রেমে নাকি দুঃসাহসে? ভারত তবে কি বাংলাদেশের জন্য যাদুরবিষ মাখা বল ছুঁড়েছে! যে বিষে নীল হয়ে একের এক উইকেট খুইয়ে এসেছে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। গতকালের চিত্রই বাংলাদেশ ক্রিকেটের আসল চিত্র নয়। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করেন, ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারলে কোনোরকম রক্ষা করা যাবে রাজ সম্মান। আর না হয় প্রথম টেস্টের মত ইনিংস ব্যবধানে হারার শংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। প্রথম টি-টুয়ান্টিতে ইতিহাস গড়ার পর বাংলাদেশ দলকে আর জ্বলে উঠতে দেখা যায়নি। দিবারাত্রির পিংক বলের টেস্ট ম্যাচে জ্বলে উঠার সম্ভাবনাই আর কতটুকু? কতদিন গড়াবে এ টেস্ট? বড়জোর তিনদিন। কিসের শংকায় বাংলাদেশ দলের এমন করুণ হাল— হয়ত বলা যাবে ম্যাচ শেষে। তবে আমাদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আর ওপেনার তামিম ইকবালের শূন্যতাটা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া গেছে। সাথে গোলাপি বলে হঠাৎ করে রাতের ম্যাচ খেলার অনভিজ্ঞতাও এমন বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশ দলের এমন বিপর্যয়কর ফলাফল কারোরই কাম্য ছিল না। ক্রিকেটপ্রেমীরা আরো ভালো কিছু আশা করেছিল। টেস্ট স্পেশালিষ্ট মমিনুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ভারতের সাথে দ্বিতীয় টেস্ট খেলছে। প্রথম দিনের খেলায় তিন তিনজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান শূন্য রানে ফিরে এসে বিপর্যয়ের গভীরে নিয়ে গেছে দলকে। আজ দ্বিতীয় দিনের খেলায় কি ঘটবে? বাংলাদেশ কি পারবে ভারতকে অলআউট করে ঘুরে দাঁড়াতে? আমরা আশা করছি, বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়াবে। বীর বাঙালির বীরত্বগাঁথা হোক শেষ টেস্টে। জিততে না পারলেও অন্তঃত লড়াই করে হারাটা আমাদের সকলের প্রত্যাশা।
লেখকঃ
কবি, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
২৩ নভেম্বর ২০১৯ ইং।