মানদন্ডে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

49

মো. আখতার হোসেন আজাদ: প্রচলিত সংজ্ঞা মতে বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে উচ্চ শিক্ষা প্রদানের সাথে জ্ঞান আহরণ, বিতরণ ও বিভিন্ন ধরনের গবেষনামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবীরা ভর্তি পরীক্ষা নামক যুদ্ধে উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় এবং নির্দিষ্ট মেয়াদী কোর্স শেষ করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহার লাল নেহেরু বলেছিলেন- ‘একটি দেশ ভালো হয় যদি সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো হয়’। নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজয় অর্জন করার পর স্বাধীন বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি ভিন্ন লক্ষ্য ছিল। আধুনিক শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আদর্শ ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে ও ঝিনাইদহ শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর নামক স্থানে ১৭৫ একর জমিতে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) আর্থিক সাহায্যে পরিচালিত হয়ে আসলেও বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৮ টি অনুষদের অধীনে ৩৪ টি বিভাগের চালু আছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা চড়াই-উৎরাই পার করে ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার ৪১ তম বার্ষিকীতে পদার্পণ করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও পারদর্শিতামূলক কর্মকান্ড, গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম উজ্জ্বল করেছেন; তেমনই নানা সময়ে বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকতা-কর্মচারীর অপকর্মের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কালিমা লেপনও কম হয়নি। শিক্ষকদের নানামূখী গবেষণা, শিক্ষার্থীদের অবিস্মরণীয় সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার লাভ, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় অভাবনীয় সাফল্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদন্ডের বিচারে প্রথমেই শিক্ষার মান ও পরিবেশ বিশ্লেষণ করা উচিত। শিক্ষার মান ও পরিবেশ অবশ্য বেশকিছু সূচকের উপর নির্ভরশীল। যেমন: শ্রেনীকক্ষের ধরণ, শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক প্রভৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অপরিহার্য অংশ অবকাঠামো। এক্ষেত্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অনেকাংশে এগিয়ে গেলেও পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনি। হাঁটি-হাঁটি পায়ে বিভিন্ন একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়েছে। কিছু ভবনের সম্প্রাসরণ কাজও চলছে। বিভিন্ন বিভাগ খোলা হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্রেনীকক্ষের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিএসসিসির করিডোর বা অন্যান্য বিভাগের ক্লাসরুমে জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৪০ বছর অতিবাহিত হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছেলেদের জন্য ৫টি ও মেয়েদের জন্য ৩ টি হল থাকলেও যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তখন হলসমূহ সেই সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ধারাবাহিকভাবেই বর্তমানে প্রতিটি হলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ছাত্রলীগ হাতে। হলের সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা কাঠের পুতুলের মতো। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্ত ও স্বাধীন বুদ্ধিবৃত্তির চর্চার স্থান। কিন্তু হলে অবস্থানকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের কর্মীর খাতায় নাম লেখানো এবং নিয়মিত দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা যেন বাধ্যতামূলক! ছাত্রশিবিরের আধিপত্য চলাকালীন প্রতিটি হলে একই অবস্থা বিরাজমান ছিল। বর্তমানে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগও একই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে। আবার শিক্ষার্থীদের আবাসস্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর খাবারের মানও অত্যন্ত নি¤œ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না, প্রায়ই খাবারে ইঁদুরের বিষ্ঠা, তেলাপোকার পা এসব যেন স্বাভাবিক হয়ে পড়েছে; অথচ এসব দেখার যেন কেউই নেই।

একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হওয়া উচিত বন্ধুসুলভ। শিক্ষার্থী-শিক্ষকের মধ্যে সামাজিক, রাজনৈতিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা কাম্য। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই অল্পসংখ্যক শিক্ষক আছেন যারা শিক্ষার্থীদের সাথে আত্মিকভাবে মেলামেশা করেন। ক্লাসরুমে শিক্ষকদের পাঠদান, পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে উত্তরদান আর শিক্ষকদের ডিউটি পালনেই যেন শিক্ষা কার্যক্রম নিহিত! অধিকাংশ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেতা ও বিক্রেতার সম্পর্ক বিদ্যমান! আবার কখনো কখনো শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের অভিমানী ক্ষোভও লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষার্থীদের থেকে শুনতে পাওয়া যায় এমনও কিছু শিক্ষক রয়েছেন যারা সকাল ৯টায় ক্লাসের শিডিউল দিয়ে নিচ্ছি-নিব, নিচ্ছি-নিব করে দুপুর ২টায় বলেন আমার ব্যস্ততার দরুণ ক্লাস নিতে পারবনা। সেই সাথে এটিও যুক্ত করে দেন যে বিশ্ববিদ্যালয় নাকি এমনই! শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শিক্ষকরা এগিয়ে আসবেন এটিই স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশিত। কিন্তু রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির জন্য বিভিন্ন নায্য অধিকারের জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা থাকে নীরব দর্শকের মতো।

পরিবহন নির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সারা বছরে পরিবহন খাতেই প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে বিগত ৪০ বছরে কোনো প্রশাসনকেই বিশেষ পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। আবার বড় কোনো প্রকল্পের পরিকল্পনার হলেই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার প্রভাব, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, প্রকল্পে দূর্নীতির খবর শোভা পায় পত্রিকার পাতায়। ফলে বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেও চরম বেগ পেতে হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। বিশ্ববিদ্যালয়কে মূলত জ্ঞান সৃষ্টি ও জ্ঞান চর্চার গবেষণাগার বলা হয়ে থাকে। গবেষণা ছাড়া কখনও উচ্চ শিক্ষা পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। তবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এদিকে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। গবেষণা খাতে বরাদ্দ পর্যাপ্ত না থাকা, প্রশাসনের বিভিন্ন পদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্যানেল গঠন করে রাজনীতিতে মাত্রাতিরিক্ত সক্রিয় থাকার পাশাপাশি শিক্ষকদের মানসিকতার সঙ্কটও গবেষণার অন্যতম অন্তরায়। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করার পরিবর্তে অর্থকেই পরমার্থ মনে করছেন অনেক শিক্ষক। এক বা একাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, সান্ধ্যকালীন কোর্সে বিশেষভাবে মনোযোগী হয়ে শিক্ষা ব্যাণিজ্যের সাথে যুক্ত থাকার ফলে গবেষণার আর তেমন সময় থাকে না। ফলে পূর্বে তৈরীকৃত কোনো গবেষণাধর্মী নোট শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা আর বহু বছর আগে তৈরীকৃত স্লাইড প্রোজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করাকেই অনেক শিক্ষক উচ্চশিক্ষা হিসেবে পরিগণিত করে নিয়েছেন। আধুনিক বিশ্বের সাথে সমন্বয় না করে বহু বছর আগে প্রণিত সিলেবাস দিয়েই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
বর্তমান প্রশাসনের শ্লোগান হলো- ‘আন্তর্জাতিকীকরণের পথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’। শ্লোগানের সাথে মিল রেখে বেশ কিছু কার্যক্রম প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। শিক্ষাবৃত্তিতে ৪১ জন বিদেশী শিক্ষার্থী বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। চীন, তুরস্ক, ভারত, ব্রুনাইসহ বেশ কয়েকটি দেশের সাথে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিক্ষার্থীদের নায্য অধিকার ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য কার্যকরী ক্ষেত্র হলো ছাত্র সংসদ যা পৃথিবীর বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্রসংগঠন দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠনতন্ত্রে ছাত্র সংসদের উল্লেখ নেই এমনটি ব্যাখা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবরই এতে অনীহা প্রকাশ করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মকান্ড ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আলোচনা-সমালোচনার মুখোমুখি করেছে। বিগত দিনে প্রতিটি ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস যেন একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের সুদক্ষ তীক্ষতার দরুণ প্রশ্নফাঁস, জালিয়াতি বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়ায় সমাপ্ত হয়েছে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সম্মান শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষা; যা দেশব্যাপী সুনাম কুঁড়িয়েছে। আবার সম্প্রতি সময়ে হয়ে যাওয়া শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, সদ্য অপসৃত প্রক্টরের গাড়ির তেল ও নিয়োগ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টে শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্চিত হয়ে টুর্নামেন্ট স্থগিত, বছরের প্রায় সময়ই বিভিন্ন দাবীতে কর্মকর্তা-কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর্মবিরতি পালন, দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আবরার হত্যাকান্ডে বিচারের দাবীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরকে ইবি থানার ওসি কর্তৃক হুমকি প্রদানসহ বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনায় পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ছাত্রশিবিরের একক আধিপত্য থাকা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চোখে পড়ার মতো। শিবিরের রাজনৈতিক কর্মকান্ড অঘোষিতভাবে প্রায় একপ্রকার নিষিদ্ধ হবার পরে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের পাশাপাশি ছাত্র মৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমাজসেবা ও দক্ষ নেতৃত্ব গঠনে বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখছে। থিয়েটার, রোটার‌্যাক্ট ক্লাব, তারুণ্য, কনজুমার ইয়ুথ, রক্তিমা, আবৃত্তি-আবৃত্তি, সিআরসি, বুননসহ প্রায় ৩০ টি সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। রোভার স্কাউট ও বিএনসিসির সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচীতে শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচরণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন একেকজন বিশ্বমানের নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারে এজন্য প্রশাসনকে এখনই নজর দিতে হবে। শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাখাতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের নায্য অধিকার ও দাবী গুরুত্বের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদন্ডে শিক্ষার মান ও ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে এই চোরাবালি পদ্ধতিতে শিক্ষাব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে তা দেশের জন্য একদিন মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

মো. আখতার হোসেন আজাদ
সভাপতি
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষার্থী,
লোক প্রশাসন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।