কুমিল্লার মেঘনায় ব্রীজে উঠতে হলে বাইতে হয় সাকোঁ

65

কালজয়ী ডেস্ক;কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বালু ব্যবসায়ীদের কারণে গোবিন্দপুর ও ভাওরখোলা ২টি ইউনিয়নের সংযোগস্থলে জরাজীর্ণ সেতুটিতে উঠতে হয় ঝুঁকিপূর্ণ সাকোঁ বেয়ে। এ কারণে স্কুলগামী শিশু শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজারো মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ। কাঁঠালিয়া আলিপুর নদী হয়ে মহেশখালী রামগড়ে প্রবাহিত খিরাচক খালে অবস্থিত ঝুকিঁপূর্ণ সেতুটির এক পাশে বাশেঁর সাকো।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নের খিরাচক খালের উপর জরাজীর্ণ পাকা সেতুটি ভাঙ্গা পিলার নিয়ে দাড়িয়ে আছে ঝুকিপূর্ন অবস্থায়। সেতুর সঙ্গে লাগানো রয়েছে লম্বা বাশেঁর সাকোঁ।

স্থানীয়রা জানান, এ পথ দিয়ে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের মির্জানগর, মহেশখালী, করিমাবাদ, আলিপুর, হিজলতলী ভাওরখোলা ইউনিয়নের খিরাচক, দড়িকান্দি, ওমরাকান্দ, নোয়াগাঁওসহ ১৫টি গ্রামের শিক্ষার্থী নারী পুরুষের যাতায়াত। বড়ররা যদিও ঝুকিঁ নিয়ে যাতায়ত করতে পারলেও শিশু শিক্ষার্থীদের বেলায় সেটা হয়ে থাকে মরণ ফাদেঁর মত। অনেক শিক্ষার্থী বই খাতা নিয়েও পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অনেকবার। ব্রীজের দুইপাশের মানুষ অনেক ভোগান্তিতে আছে এই ব্রিজ নিয়ে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সময় মতো স্কুল কলেজে উপস্থিত হতে পারে না। দুইদিক দিক থেকে মানুষ আসা যাওয়ার সময় একজনকে ব্রীজের সাথে ঝুলে থাকতে হয়। বৃদ্ধ অথবা অসুস্থ রোগীদের নিয়ে তো আরো অনেক বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এই সেতু সম্পর্কে জানতে গিয়ে জানা যায়, এলাকার প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী বাল্কহেড আনা-নেওয়ার সুবিধা করতে গিয়ে রাস্তা কেটে বাশেঁর সাকোঁ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল।

গোবিন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মুন্সি তপর সাংবাদিকদের বলেন, খিরাচক সেতুটি সঙ্গে লাগানো ছিল রাস্তা। স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী জামাল মেম্বার ও তার সহযোগীদের বালুবাহি বাল্কহেড আনা-নেওয়ার সুবিধার জন্য রাস্তা কেটে সাকোঁ বানানো হয়েছে ৩ বছর আগে। বালুভর্তি বাল্কহেড পাকা ব্রিজের নিচ দিয়ে যেতে পারলেও আনলোড অবস্থায় ব্রিজের নিচ দিয়ে পার হতে পারত না। তাই তারা ভাল রাস্তা কেটে এই সাকোঁ তৈরি করে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের জামাল মেম্বার বলেন, আমি বালু ব্যবসা করি, কিন্তু রাস্তা কাটিনি। প্রথমে আমিই ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটি করে দিয়েছিলাম।

মেঘনা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা আফরোজা পারভীন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোজঁ নিয়ে দেখব। জনদূভোর্গ লাগলে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নিব।