মাদক দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী’র জিরো টলারেন্স -খাদ্যমন্ত্রী

62

নওগাঁ প্রতিনিধি: খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন বর্তমানে মাদক আমাদের বড় সমস্যা। মাদক পরিবার, সমাজ সর্বোপরি দেশকে ধ্বংস করছে। কাজেই দেশকে মাদকের কড়ালগ্রাস থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত নির্বাচনী ইস্তেহারে মাদক প্রতিরোধের উপর জোর দিয়েছেন। বর্তমানে মাদক, দুর্নীতি,সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

খাদ্যমন্ত্রী বৃহষ্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবি’র প্যারেড গ্রাউন্ডে ১ বিজিবি ও ১৬ বিজিবি কর্ত্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।

বিজিবি রাজশাহী’র সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বিপিএমজি’র সভাপতিত্বে আয়োজিত এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আরিফুল ইসলাম, নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৪ বিজিবি পত্নীতলার অধিনায়ক লেঃ কর্নেল জাহিদ হাসান এবং নওগাঁ’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা হোসেন বক্তব্য রাখেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন আজকের যুবকরা আগামীদিনের দেশনায়ক। তারাই আগামীতে বিভিন্নভাবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন। কাজেই বাংলাদেশকে মাদকের কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত করে এই যুব শক্তিকে নির্মল এবং মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেছেন দেশের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী, কিশোর এবং যুবকরা মোবাইল ব্যবহরা করে। ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদি মাধ্যমে প্রত্যেকে যদি প্রতিদিন মাদকের বিরুদ্ধে ঘৃনা প্রকাশ করে ষ্ট্যাটাস দিতে থাকি তাহলে আপনাতেই মাদকের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে। কারন মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এই ভয়াল ব্যাধি থেকে আমাদের নিস্তার নাই।

সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি’র ভুমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেছেন সীমান্তে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের মত আমাদের উন্নত সুযোগ সুবিধা নাই। অনেক ঘাত প্রতিঘাত, কষ্ট করে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে তাদের সীমান্ত রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাদের মধ্যে প্রবল দেশপ্রেম আছে বলেই এত প্রতিকুলতার মধ্যেও তাঁরা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি আশা দিয়ে বলেছেন সরকার সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আলো সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলার সীমান্ত বরাবর রাস্তা তৈরী এবং আলোকিত করে সীমান্তকে সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে এবং তা শীঘ্র্ই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নওগাঁস্থ ১৬ বিজিবি ও পত্নীতলাস্থ ১৪ বিজিবি কর্ত্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এসব মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, চোলাই মদ, ভারতীয় গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন, ট্যাপেট্টা ট্যাবলেট এবং নেশার ইনজেকশন। ধ্বংসকৃত মালামালের মুল্য ৭৭ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮শ ৫৫ টাকা।