বগুড়ায় সব সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

45

জিএম মিজান: উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজির পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটে সবজির বাজার এখন বেশ চড়া। হাটে শীতের নতুন সবজি উঠলেও তা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন। মহাস্থান হাটে পাকড়ী জাতের নতুন আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা করে। এর প্রভাব পড়েছে পুরোনো আলুর বাজারেও। পুরোনো আলুর দাম গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ২২ থেকে ২৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পাতা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে বড় আগুন লেগেছে শসার বাজারে। প্রতি কেজি শসা ২০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। দুই দিন আগেও শসা বিক্রি হয়েছে ৭ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। সারা দেশে পেঁয়াজের দাম এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হলেও এই হাটে এই পণ্যটি তেমন বিক্রি হয় না। এটি মূলত মৌসুমি সবজির পাইকারি মোকাম। হঠাৎ প্রায় সব সবজির ঊর্ধ্বমুখী দাম প্রসঙ্গে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিতে অনেক সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদনে ঘাটতি পড়েছে। বুধবার মহাস্থান হাট ঘুরে দেখায় দুই দিনের ব্যবধানে ফুলকপি ও মুলার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বেড়েছে অন্যান্য সবজির দাম। মহাস্থান হাট ইজারাদার রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি,আলহাজ্ব আজমল হোসেন,শাহাদত হোসেন বারিদার,মোশারফ হোসেন ,জিয়াউর রহমান জিয়া,শিরাজুল ইসলাম সহ বেশ কিছু ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম দুই দিন ধরে বেড়েছে। কৃষকেরাও সরবরাহ কম থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন। তারিকুল ইসলাম নামে হাটের এক ক্রেতা বলেন, ‘ক্রমাগতভাবে দেশে বিভিন্ন দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন পেঁয়াজের বাজারে আগুন। আলুতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। এক কেজি শসার দাম ২০০ টাকা। এটা কল্পনা করা যায়। মহাস্থান এলাকার কৃষক কামরুল হোসেন বলেন, এবার আগাম সবজির উৎপাদন খারাপ হয়েছে। নতুন করে কিছু সবজি এর মধ্যে বাজারে উঠবে। তখন দাম কমতে পারে। মহাস্থান হাট বাজারের বেশ কিছু কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার বৃষ্টির কারণে তাঁদের অনেকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।