চান্দিনায় জুতায় সনাক্ত হলো নসিমন চালক হত্যার ঘাতক

37
আকিবুল ইসলাম হারেছঃ গত শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জাকির হোসেন (৪৮) নামে এক নসিমন চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।শুক্রবার রাতের অন্ধকারে কে বা কাহারা তাকে হত্যার পর একটি ডোবার পাশে মরদেহ ফেলে যায় হত্যাকারীরা।শনিবার নিহতের মেয়ে নাঈমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। শান্ত স্বভাব সুলভ আচরণের নিরীহ জাকির হোসেনকে কেন হত্যা করবে বা কারা হত্যা করতে পারে এ নিয়ে এলাকায় শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। হত্যা কান্ডের রহস্য উদঘাটন সহ হত্যকারীদের সনাক্ত করতে মাঠে নামে চান্দিনা থানা পুলিশ।নসিমন চালক জাকির হত্যা কান্ডের কোন স্বাক্ষী না থাকলেও হত্যাকারীদের সনাক্ত করতে স্বাক্ষী হলো জুতা! ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একপাটি রাবারের জুতা পাওয়ার পর ওই জুতাটি ঘিড়ে শুরু হয় পুলিশের তদন্ত। স্থানীয়দের তথ্যমতে বের হয়ে আসে ওই জুতার মালিক কে? পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই জুতার মালিক শ্রীমন্তপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে সিএনজি চালক ছানাউল্লাহ (২৬)কে আটক করে। ছানাউল্লাহর দেওয়া তথ্যমতে একই গ্রামের আব্দুল এরশাদ এর ছেলে আব্দুল মালেক (২৮)কেও আটক করার পর হত্যাকান্ডের রহস্যের জট খুলতে থাকে। তাদের দেওয়া তথ্য মতে জানা যায়- শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাতে ছানাউল্লাহ ও আব্দুল মালেক এক পতিতা নারীর সঙ্গ পেতে ঘর থেকে বের হয়। অজ্ঞাতকারণে ওই নারীর সাথে তাদের সাক্ষাৎ না হওয়ায় ফিরে আসেন শ্রীমন্তপুর স’মিল সংলগ্ন চা দোকানে। ওই চা দোকানে বসা ছিলেন জাকির হোসেন। এদিকে সম্প্রতি জাকির হোসেন এর সাথে সিএনজি কেনা-বেচা নিয়ে ছানাউল্লাহর কথা কাটাকাটি হয়। ওই কথা কাটাকাটির ক্ষোভ পুষে রাখে ছানাউল্লাহ। রাত প্রায় ১টার সময় জমির আইল দিয়ে জাকির হোসেন বাড়ি ফেরার সময় মনের ক্ষোভ মিটাতে আক্রমন করেন ছানাউল্লাহ ও তার সহযোগী মালেক। তার মুখ চেপে ধরে কিল ঘুষির এক পর্যায়ে হঠাৎ অচেতন হয়ে পরে জাকির হোসেন।কিছুক্ষণ পর তারা বুঝতে পারেন জাকির হোসেন মারা গেছেন। আর হত্যাকান্ডটি ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করতে মরদেহ বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলার চেষ্টা করে তারা। মরদেহ ডোবার পাড়ে নিয়ে যেতেই দূর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির টর্চের আলো পড়ে তাদের উপর। আর মুহুর্তের মধ্যে মরদেহ ফেলে পালিয়ে আসে হত্যাকারী মালেক ও ছানাউল্লাহ। এসময় তাড়াহুড়া করে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পরার সময় পথিমধ্যে পরে যায় ছানাউল্লাহর বাম পায়ের একটি জুতা। এমন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) কুমিল্লার ৭নং আমলী আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট গোলাম মাহবুব খানের আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয় আব্দুল মালেক। তার একদিন পর বুধবার (২০ নভেম্বর) একই আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয় ঘটনার মূল হোতা ছানাউল্লাহ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) গিয়াস উদ্দিন জানান,হত্যাকারীদের তথ্যমতে তারা জাকির হোসেনকে মারধর করতেই আক্রমন শুরু করে। কিন্তু তাদের এলোপাথারী কিল-ঘুষিতে মৃত্যু ঘটে জাকির হোসেনের। আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।