চৌদ্দগ্রামে মাত্র ৩০ মিনিটে লবণের বাজার নিয়ন্ত্রণ 

44
নূরুল আলম আবিরঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে লবণের গুজবের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রি করছে বলে খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার সাথে সাথে মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম পৌর সদর বাজারসহ অন্যান্য বাজারে লবণের মূল্য নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এ সময় উপজেলা সদরের ৭ প্রতিষ্ঠানকে দুই লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরের পর থেকে চৌদ্দগ্রাম বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দামে লবণ বিক্রি করতে থাকে। আর এ গুজব ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র উপজেলায়। সাধারণ মানুষ মুদি দোকানগুলোতে লবণ ক্রয় করার জন্য ভীড় জমাতে থাকে। অনেক দোকানে গ্রাহকের লম্বা লাইন লক্ষ্য করা গেছে। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন মুদি দোকানে লবণের খোঁজ-খবর নিতে গেলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। অনেক দোকানদার বলে, তাদের কাছে লবণ নেই। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি লবণ ১০০ টাকার উর্ধ্বে বিক্রি হতে থাকে।
বিষয়টি সংবাদকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানাকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানকালে তিনি চৌদ্দগ্রাম বাজারের সাহা স্টোরকে ২০ হাজার টাকা, বিসমিল্লাহ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা, রাসেল স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা, আনন্দ বেকারীকে ৩০ হাজার টাকা, ইব্রাহিম স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা, মেসার্স বশর স্টোরকে ১০ হাজার টাকা, শ্রী হরি ভান্ডারকে ৫০ হাজার টাকাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।
এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে দেখে সাধারণ মানুষ প্রশাসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ রানা বলেন, ‘লবণের প্যাকেটের গায়ে মূল্য দেয়া থাকে। কেউ বেশি দামে লবণ ক্রয় করবেন না। যদি কোনো ব্যবসায়ী প্যাকেটের গায়ের মূল্য থেকে অতিরিক্ত মূল্য দাবি করে, তাহলে তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেন।