সোনারগাঁয়ে দুই শিক্ষকের উপর হামলার অভিযোগ

36

শাহাদাৎ হোসেন শিপন: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বিষ্ণাদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে ওই স্কুলের ভেতরে ওয়াজ মাহফিলের দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষকদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম বাদী হয়ে বিকেলে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বিষ্ণাদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশর্^বর্তী স্থানে স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে এক ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওয়াজ মাহফিলের জন্য বিদ্যালয়ের মাঠে প্রায় ৫০টির অধিক দোকান বসায় ওই এলাকায় বখাটে ইলিয়াস মোল্লা ও নুরুল ইসলাম। বিষয়টি ওই স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনিছুজ্জামান মুকুল ও এলাকায় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের জানিয়ে স্কুল মাঠ থেকে ওই দোকানগুলো সরিয়ে দেয় স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুপুরে ওই এলাকার সাহেব আলীর ছেলে ইলিয়াস মোল্লা, ওসমান মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলামসহ ৫-৭ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খোরশেদ আলম ও সহকারী শিক্ষক মনিরা সুলতানাকে পিটিয়ে আহত করে। পরে আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহত মো. খোরশেদ আলম জানান, ইলিয়াস মোল্লা টাকার বিনিময়ে স্কুলের কাউকে না জানিয়ে স্কুলের মাঠে ৫০টির অধিক দোকান বসায়। এতে করে সুষ্ঠভাবে স্কুলের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এ বিষয়টি পরিচালনা কমিটিকে জানিয়ে স্কুলের পক্ষ থেকে দোকানগুলো সরিয়ে দেয়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ও এক শিক্ষিকাকে পিটিয়ে আহত করে। এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। এর আগেও ইলিয়াস মোল্লার ইভটিজিংয়ের কারনে এ স্কুলের দু’জন মহিলা শিক্ষক অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। বিষয়টি পরিচালনা কমিটির সকলেই অবগত রয়েছেন।

অভিযুক্ত ইলিয়াস মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শিক্ষকদের মারধর করা হয়নি। তবে ধাস্তাধস্তি ও গালিগালাজ হয়েছে।

সোনারগাঁ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এসে সঠিক বিচার দাবি করছি।

সোনারগাঁ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র বিশ^াস বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়ে ইউএনও স্যারকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অঞ্জন কুমার সরকার জানান, সোনারগাঁ থানার ওসিকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।