নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাবের হাতে ভূয়া ডাক্তার গ্রেফতার

38

স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাব-১১’র হাতে মায়া বেগম ও কামাল হোসেন দুই ভূয়া ডাক্তার গ্রেফতার হয়ে জেল খেটে জামিনে এসে। আবারও ভূয়া একটি হসপিটালের নাম ব্যাবহার করে মায়া বেগম ডাক্তার। জানাগেছে, গত ( ৯ জুলাই) হিরাঝিল হাজী রজ্জব আলী সুপার মার্কেট তৃতীয় তলায় অনুমোদনহীন “ পপুলার হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ল্যাব” এ রোগী দেখার সময় ভূয়া ডাক্তার মায়া বেগম(৩৬) পিতা সোলেমান খলিফা, সাং রজনী চৌধুরী রোড, পো: গেন্ডারিয়া, থানা সূত্রাপুর, জেলা ঢাকা ও কামাল হোসেন(৪৩) পিতা আব্দুস সালাম ভূইয়া, সাং মিজমিজি পূর্ব পাড়া, থানা সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা নারায়ণগঞ্জ। তাদের কাছ থেকে রোগী দেখার প্রেসক্রিপশন , বিভিন্ন প্যাথোলজিক্যাল রিপোর্ট, এক্স-রে রিপোর্ট ও আল্ট্রাসনো রিপোর্ট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার কলে জিজ্ঞাসাবাদে জানাযায়, মায়া বেগম হসপিটাল চেয়ারম্যান ও কামাল হোসেন ব্যাবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রায় দুই বছর যাবত অবৈধ অনুমোদনহীন ভাবেই হসপিটাল ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এমতাবস্থায় দুইজনে দীর্ঘদিন যাবত জেল খেটে বের হয়ে। এরিমধ্যে ভূয়া ডাক্তার মায়া বেগম মিজমিজি বাতান পাড়া এলাকায় লোকমান টাওয়ার দ্বিতীয় তলায় উক্ত হসপিটালের প্রথম অংশ পরিবর্তন করে “পিপল’স হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ল্যাব” ভূয়া অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান জন্মদিয়ে মায়া বেগম নিজে মালিকানা পরিচয়ে প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এহেন কর্মকান্ডে এলাকাবাসী দু:খের সাথে ক্ষোভ বিরাজ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, মায়া বেগম র‌্যাব-১১’র হাতে গ্রেফতারে বিভিন্ন প্রশাসন ও সাংবাদিকদের নজরে পড়েছেন। এজন্য তিনি ভূয়া নতুন প্রতিষ্ঠান জন্মদিয়ে মোটা অংকে শেয়ার হোল্ডার বিক্রির নামে ব্যাপক ভাবে প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে এক নিরহ ভোক্তভোগী আব্দুস সালাম পিতা এমদাদুল হক, বর্তমান ঠিকানা নিবাস ৬ নং পূর্বাঞ্চল সড়ক, পো: গুলসান, থানা বাড্ডা, জেলা ঢাকা ও স্থায়ী সাং বগাদি, পো: চিকন্দি, থানা ও জেলা শরীয়তপুর। তার থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে। দীর্ঘদিন যাবত ঘুরাঘুরি করে তালবাহনা তালিয়ে যাচ্ছেন। মায়া বেগম অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে অনেক ছেলেদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তিনি একাধীক পর-পুরূষের সাথে অবৈধ প্রেমের সখ্যাতা গড়ে। নিজের স্বামী পরিচয়ে ব্যাপক স্বার্থ লুটিয়ে নিয়েছেন বলে একাধীক সূত্রে জানাগেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সালাম সাংবাদিকদের জানান, মায়া বেগম আগে তার ভূয়া প্রতিষ্ঠান ও ভূয়া ডাক্তার ছিলো আমি তা জানতাম না। আমাকে কোন এক সূত্রে বন্ধু মহলের পরিচয়ে-পরিচিত হয়ে। তিনি আমাকে তার নতুন প্রতিষ্ঠান নামে “পিপল’স হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ল্যাব” ব্যাবসার কথা বললে, আমি আমার স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে, তার সম্মতিক্রমে ব্যাবসায় রাজি হয়ে যাই। পরে তিনশত টাকার ষ্টাম্পে ডিড ডকুমেন্ট করি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ত্রিশ ভাগ শর্তে। যার পরিপ্রেক্ষিতে মায়াকে ছয় লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা প্রদান করি। কিছুদিন পূর্বে সোস্যাল মিডিয়ায় দেখতে পাই কালাম ও মায়া বেগম ভূয়া ডাক্তার। আমার যানা ছিলো না তাদের আগে একটি ভূয়া প্রতিষ্ঠান ছিলো। তাই আমার মনে সন্দেহ জাগলে আমি ব্যাবসা বাণিজ্যর কথা ভূলে গিয়ে। আমার পাওনা অর্থ দেওয়ার কথা বলি তাকে। তিনি অনেক দিন যাবত ঘুরাঘুরি করে অর্থ ভেঙ্গে ভেঙ্গে দেন, এখনো সম্পূর্ণ অর্থ থেকে বাকী ৭০ হাজার টাকা রয়েছে বলে জানান সালাম। তার দীর্ঘদিন অর্থের তাগাদায় অনেক অর্থ ও ব্যাপক পরিশ্রম হয়েছে এবং তাকে বাকী অর্থের কথা বললে। মায়া বেগম ও তার ভাই মোবাইল ফোনে হুমকি ধামকি প্রদান করেন। এবিষয়ে প্রাথমিক ভাবে কিছু অর্থ লেন-দেন কালে মার্কেট মালিক ইসলাম মিয়া নামে, মায়া বেগমের পক্ষে কথাবার্তা বলে তিনি ওই এলাকার প্রভাবশালী নেতা বলে আমাকে গালমন্দ করেন। এক পর্যায় আইনানুগ ভাবে ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের কথা বললে, আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বিভিন্ন সময়ে একাধীকবার মোবাইল ফোনে হুমকি দেন তারা।

হসপিটাল মালিক মায়া বেগমকে মুঠোফোনে জানালে বলেন, সালামের সাথে কোন প্রকান লেন-দেন নেই। আমি একজন ডাক্তার, আগে গ্রেফতারের রিপোর্ট হয়েছে ভূয়া। আপনি সংবাদ করলে করেন কোন সমস্যা নেই।

এ বিষয়ে লোকমান টাওয়ার মালিক ইসলাম মিয়াকে জানালে বলেন, ভাই আমি বিষয়টা দেখে আপনাকে জানানো হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, যদি তারা র‌্যাব-১১’র হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খাটারপর আবার হসপিটাল কিংবা ডাক্তার পরিচয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করে তাদের দ্বিগুন হারে কঠোর আইনের শাস্তি পেতে হবে এবং আপনারা সংবাদ প্রকাশ করেন। পরবর্তী সময়ে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনের আওতায় আনা হবে জানান তিনি।