ছাত্রকে চেয়ারম্যানের “অর্ধচন্দ্র”; অনিশ্চিত শিক্ষাজীবন

172
ফয়সাল আরেফিন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হালিমের ব্যক্তিগত ক্ষোভের শিকার হয়ে এক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে পড়েছে। শিক্ষার্থীর ক্লাস-পরীক্ষা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিষ্ট্রার, প্রক্টরের নির্দেশনাও তোয়াক্কা করছেন না তিনি। পরীক্ষা-ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে গেলে ঘাড় ধরে বের করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও অফিস কক্ষে নিয়ে নানা বাজে মন্তব্য করে ওই শিক্ষক।
জানা যায়, গত ২২ মে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান সোহান ও মাহমুদুল হাসান মিশু, মিতৌরা মাহজাবিন ও সানজিদা আক্তারের নামে ‘ধারাবাহিক অপরাধমূলক কর্মকান্ড’ এর অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আবেদন করেন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হালিম। এরপর গত ০৩ সেপ্টেম্বর মাহমুদুল হাসান সোহান ও মাহমুদুল হাসান মিশুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর বাদী, বিবাদী ও সাক্ষীদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সহকারী প্রক্টর শিল্পী রানী সাহা ও মো. মহিউদ্দিন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহমুদুল হাসান সোহানকে সাময়িক বহিষ্কার ও মাহমুদুল হাসান মিশুর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে করার সুপারিশ করা হয়। এরপর সুপারিশ সাপেক্ষে মাহমুদুল হাসান সোহানকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে ওই দুই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কোন সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করেই তাদেরকে কোন ক্লাস, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি বিভাগের চেয়ারম্যান। এদিকে মাহমুদুল হাসান মিশুর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলেও গত ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে দেয়া হয়নি। পরীক্ষার হলে থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। এবং ওই শিক্ষার্থীকে পরবর্তীতে পুলিশে সোপর্দ করা ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে বের হতে না দেয়ার হুমকি দেন জুনায়েদ হালিম। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হালিম বলেন, এই ধরণের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া উচিত না। এদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কোন মানসিক যোগ্যতা নাই। পরীক্ষার হল থেকে বের করার বিষয়ে বলেন এদের পরীক্ষা দিতে দিবনা। প্রক্টর অফিসের অনুমোদনের পরও কেন পরীক্ষা দিতে দিচ্ছেন না জানতে চাইলে বলেন আমি প্রক্টর অফিসের কোন আনুষ্ঠানিক অর্ডার পাইনি। এ বিষয়ে রেজিস্টার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, চেয়ারম্যান যদি পরীক্ষা দিতে না দেন সেটার ব্যাপারে আমরা কি করব। আমি এ বিষয়ে আর মন্তব্য করতে চাই না।