চান্দিনা উপজেলা আ’লীগের নব গঠিত কমিটি নিয়ে চাপা ক্ষোভ

59
আকিবুল ইসলাম হারেছ: ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত ৮ নভেম্বর সম্পন্ন হলো চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন।ওই সম্মেলনে আগামী তিন বছরের জন্য উপজেলা আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এম. হুমায়ূন মাহমুদ।
কমিটিতে সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি তনয় এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু কে সভাপতি এবং এড. মহিউদ্দিন আহমেদ আলমকে সাধারন সম্পাদক করে ৭২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয়।
কিন্তু নবগঠিত ওই কমিটিতে দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করে আত্মীয়করণের অভিযোগ এনে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর পৃথক দুইটি অভিযোগ করেন দুই আওয়ামীলীগ নেতা।তারা হলেন- কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক নাজনীন আক্তার এবং চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী গোলাম দস্তগীর পাপন।আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বরাবর তাদের লিখিত ওই অভিযোগের অনুলিপি দলটির সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে দেওয়া হয়।
ছবি সম্বলিত অভিযোগের অনুলিপির কপিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পরলে প্রতিবাদ করেন অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি সমর্থিত নেতা-কর্মীরা।
কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক নাজনীন আক্তার জানান,বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চান্দিনা উপজেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছি। গত ৮ নভেম্বর চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে একটি ব্যক্তিগত ও পকেট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ওই কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি।এ বিষয়ে আমি আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করে দলের সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে অনুলিপি দিয়ে আমার অভিযোগ জানিয়েছি। যেহেতু এখনও কমিটির অনুমোদন হয়নি সেহেতু চলমান শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে চান্দিনা উপজেলাকে সু-সংগঠিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
প্রায় একই অভিযোগে এনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী গোলাম দস্তগীর পাপন জানান, আমরা কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের নেতৃত্বে চান্দিনা উপজেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতি করি। এটাই আমাদের বড় অপরাধ। বর্তমান যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তাতে আমাদের কারও কোন নাম নেই।
এ ব্যাপারে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এম. হুমায়ূন মাহমুদ জানান- আমি আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়ে এসেছি। আর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের পর কেন্দ্রিয় ভাবে আমাদেরকে জানানো হয়েছে যে, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিই উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটির অনুমোদন দিবেন। আর সম্মেলন ছাড়া বাকি সব কাজ জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করবেন। এছাড়া আমি নাজনীন আক্তারের অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সিদ্ধান্ত নিবেন।
কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক ম. রুহুল আমিন জানান- চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের নব ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে নেত্রী বরাবর যে চিঠি দিয়েছেন তার অনুলিপি আমি পেয়েছি। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এখতিয়ার। এছাড়া কমিটির অনুমোদন সম্পর্কে রুহুল আমিন আরও জানান- সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের মাধ্যমে স্পষ্টই বলা হয়েছে যে, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের সকল কমিটির সম্পন্ন করবে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি।
ভিন্নমত পোষণ করে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার জানান, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটিকে বিলুপ্ত করা হয়নি। এখনও জেলা কমিটি বলবৎ রয়েছে। যেখানে কমিটি বহাল রয়েছে সেখানে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি উপজেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়ার কোন ভিত্তি নেই। চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটির অনুমোদনের বিষয়ে আমাদের কাছে কোন মতামত জানানো হয়নি। উপরন্তু কমিটির বিরুদ্ধে সভানেত্রী বরাবর ২টি আপত্তির অনুলিপি পেয়েছি।
কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল আউয়াল সরকার জানান- কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ আমাদের বাদ না দিলেও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আমাদেরকে অনেক দূরে রেখেছে। আমাদের নাকি কোন কাজই নেই। আমার জানামতে যেহেতু আমাদের কমিটি এখন বলবৎ রয়েছে সেহেতু সকল কমিটির অনুমোদন আমাদেরই দেওয়ার কথা।
এদিকে অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি সমর্থিত একাধিক নেতা-কর্মীরা জানান ভিন্ন কথা। তারা জানান- গত ৮ তারিখে কমিটি ঘোষণার পরপর নব কমিটির অনুমোদন করা হয়েছে।সংগঠনকে গতিশীল করতে যথোপযুক্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।