কবে থামবে চীনের উইঘুর মুসলিম নির্যাতন, বিশ্ব নেতাদের চোখে কি পড়ছে না এই দৃশ ?

60

কালজয়ী ডেস্ক: চোখ বন্ধ করে একবার ভাবুন তো, আপনি মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও নামাজ রোজা রাখতে পারছেন না, কোরআন ও অন্যান্য ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন না, নারীরা হিজাব চাইলেও ব্যবহার করতে পারছেন না, এমনকি সরকারি চাকরিতে হিজাবি নারীদের নিয়োগ পথ বন্ধ; এক কথায় ধর্মীয় স্বাধীনতার সকল পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সরকারিভাবে। তখন আপনি কি করবেন? এই প্রশ্নের সামনে দাড়িঁয়ে আপনারা হয়তো ভাবছেন, এমন কোন সমাজ ব্যবস্থার অস্তিত্ব কী বর্তমান পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে? অথচ এমনি ঘটনা দীর্ঘ ৭০ বছর বছর যাবত প্রত্যক্ষ করে আসছে চীনের উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়, চীন সরকার নির্মম নির্যাতন এবং নৃশংশতার সাক্ষী শিনজিয়াং প্রদেশের ১ কোটি ১০ লাখ মুসলমান।

চীনের শিনিজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিম নির্যাতনের কাহীনি বহু পুরোনো। চীনের একবারে পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত সবচেয়ে বড় প্রদেশ এটি। শিনজিয়াং কাগজে কলমে স্বায়ত্বশাসিত হলেও, চীনের কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত হয়।

১৪৪৯ সালে চীনের সমাজতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক বিল্পবের কিছুদিন পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার উইঘুরদের বৃহত্তর চীনের সাথে যোগ দেয়ার প্রস্তাব জানায়। কিন্তু সেই প্রস্তাব মেনে নেয়নি উইঘুর মুসলিমরার। এরপর থেকে নেমে আসে উইঘুর মুসলিমদের উপর অমানুষিক নির্যাতন। নিষিদ্ব করা হয় ধর্মীয় শিক্ষা। ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ধর্মীয় পার্থনালয়। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে প্রিয়জনদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সন্তানদের ধরে নিয়ে রাখা হচ্ছে ক্যাম্পে। এ রকম ভীতিকর পরিস্থিতির মাঝেই চলছে তাদের জীবন।
১৯৪৯ সালে শিনজিয়াং এ যেখানে উইঘুর মুসলিম সংখ্যা ছিল ৯৫%, ১৯৮০ সালে মধ্যেই তা নেমে আসে ৫৫%।

বিশ্বের সব দেশের মুসলমানদের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছে। চীনের উইঘুর তার সবচেয়ে বড় প্রমান। কিন্তু বিশের বড় বড় নেতারা যেন দেখে না দেখার ভান করে আছে। এই নির্যাতনের শেষ কোথায়। এই অন্যায় অত্যাচারের কি কোনো বিচার হবে কোনো দিন। মুসলিম বলে কি তাদের কোনো স্বাধীনতা থাকবে না। মা হারাবে তার সন্তান, স্ত্রী হারাবে তার স্বামী, আর বোন হারাবে তার ভাই। এই দিন কবে শেষ হবে?

এই অপেক্ষায় আছে পুরো বিশ্বের মুসলিম জাতি। যারা নির্যাতনে আছে। অপেক্ষায় আছে কবে তারা এই নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে।