নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গণধর্ষণের ঘটনায় আটক ২

65

শাহাদাৎ হোসেন শিপন: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিন সন্তানের জননী কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে গলায় চাপাতি ও ছুরি ধরে দুই যুবক জোর পূর্বক নিয়ে যায় কলাবাগানে। এরপর চালায় পালাক্রমে ধর্ষণ। গত বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) ফজরের নামাজ পড়ে সকালের শিফটে অফিসে যাওয়ার সময় জেলার রূপগঞ্জে গোলাকান্দাইলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার ভোর রাতে অভিযুক্ত ওই দুই ধর্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন- গোলাকান্দাইল মধ্যপাড়া এলাকার ইমান উল্লাহ মীরের ছেলে ইমরান (২৮) ও পূর্বপাড়া এলাকার মৃত রমজানের ছেলে মো. সবুজ (২৩)।

নির্যাতনের শিকার গার্মেন্টস কর্মী জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে ভাড়া বাসা থেকে নামাজ পড়ে কারখানার উদ্দেশ্যে রওনা হলে গোলাকান্দাইল হাটের বেড়িবাঁধর উপরে খোরশেদের রিকশার গ্যারেজের পাশে পৌঁছালে ইমরান ও সবুজ ভয় ভিত্তি দেখিয়ে জোরপূর্বক ভাবে বেড়িবাঁধর নিচে কলা বাগানের ভিতরে নিয়ে প্রথমে ইমরান ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে পালাক্রমে সবুজ ধর্ষণ করে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে ফেলে রেখে ইমরান ও সবুজ পালিয়ে যায়। বাগানে পড়ে থাকতে দেখে পথচারী দুই মহিলা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌছে দেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাসায় ফিরে স্বামীকে বিস্তারিত জানাই।

গণধর্ষনের শিকার ঐ নারী গণধর্ষণের ঘটনাটি এলাকার মানুষের কাছে বললে তাদের বিচার করতে কেউ রাজি হয় নাই। অভিযুক্ত ইমরান ও সবুজ এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকায় কেহ তাদেও বিরূদ্ধে কথা বলতে সাহস পায়না। তাই নারী শ্রমিক বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূলতা পুলিশ ফাঁড়িতে যায়। পরে এ ঘটনায় ফাঁড়িতে এসে মৌখিক অভিযোগ দেয়। এর প্রেক্ষিতে রাতে ভূলতা ফাঁড়ির দুইটি টিম অভিযান চলায়। টিমের নেতৃত্বে ছিলেন, এটিএসআই বিজন কুমার দেবনাথ,এটিএসআই দেলোয়ার হোসেন, এটিএসআই তাইজুল ইসলাম, এটিএসআই রাশেদুল ইসলাম। অভিযান পরিচালনা করে রাত তিনটার দিকে ধর্ষকদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান। তিনি গণধর্ষনের দায়ে মামলা হয়েছে। ২ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের আজ শনিবার কোর্টে চালান করে দেয়া হবে। এ ঘটনায় ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শহিদুল আলম জানান, নির্যাতনের শিকার ওই নারীর মেডিকেল করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। তাদের বিরূদ্ধে অইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।