কেন্দ্র থেকে জেএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র খোয়া

54

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার জেএসসি পরীক্ষা কেেেন্দ্রর একটি হল থেকে গণিত পরীক্ষার দুটি উত্তর পত্র হারিয়ে গেছে। হলের দায়িত্বে থাকা তিনজন হল পরিদর্শক এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেছেন। জগন্নাথপুর পৌর শহরের স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬টি বিদ্যালয়ের মোট ৪৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। ২০১৮ সালে গণিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য ৬টি বিদ্যালয়ের ৯৮ জন পরীক্ষার্থী কেন্দ্রের ৮নং হলে গণিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শেষ হলে পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র হল পরিদর্শকদের নিকট জমা দিয়ে হল ত্যাগ করেন। পরিদর্শকরা এ সময় উত্তর পত্র গুণতে গিয়ে ৯৮টি উত্তর পত্রেরমধ্যে ৯৬টি পান। দুটি উত্তরপত্র না পেয়ে হল পরিদর্শক তিনজন দিশেহারা হয়ে পুরো হল এবং হলের আশেপাশে খুঁজতে থাকেন। উত্তরপত্র দুটি না পাওয়ার বিষয়টি কেন্দ্র সচিব ছায়াদ আলীকে জানানো হলে কেন্দ্রে দায়িত্বরত অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীরা পুরো কেন্দ্র জুড়ে তল্লশী করেও উত্তরপত্রগুলো খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন।

হারিয়ে যাওয়া উত্তরপত্র দুটির পরীক্ষার্থীদের নাম জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাইমা বেগম এবং সুমাইয়া আক্তার নিপা বলে জানা গেছে। ফাইমা বেগম পৌর শহরের জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা আক্কাছ আলীর মেয়ে এবং সুমাইয়া আক্তার নিপা শেরপুর এলাকার শাহিনুর রহমানের মেয়ে। দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উত্তর পত্র ২টির সন্ধান না পেয়ে রাত ৯টায় কেন্দ্রের হল পরিদর্শক প্রদীপ রঞ্জন দাস, মো. শাহ আলম ও ফুলনেছা তাহেরা জগন্নাথপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

কেন্দ্র সচিব স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ছায়াদ আলী সাংবাদিকদের জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে জেএসসি পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে পরীক্ষার হল থেকে দুটি উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্তব্যরত হল পরিদর্শকগণ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিদর্শকগণ দায়িত্বে অবহেলা করেছেন কি না সেটা তদন্তে প্রমাণিত হবে। গণিত পরীক্ষার উত্তরপত্র যথাযথ নিয়মে পাঠানো হয়েছে এবং হারিয়ে যাওয়া দুটি উত্তর পত্রের ঘটনা তাৎক্ষণিক ভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছে।’ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। ইউএনও মাহ্ফুজুল আলম মাসুম জানান, এব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ওই দুই শিক্ষার্থীর পরিবার। হারিয়ে যাওয়া উত্তর পত্রের পরীক্ষার্থী ফাইমা বেগমের পিতা আক্কাছ মিয়া ও সুমাইয়া আক্তার নিপার পিতা শাহিনুর রহমান তাদের মেয়েদের জেএসসি পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।