মানুষ এখনো কত বোকা !

174

কালজয়ী রিপোর্ট: কাকডাকা ভোর থেকে তেল-পানির বোতল নিয়ে ছুটছেন বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ। শনিবার সকাল ৮ ঘটিকার আগেই প্রায় ৫০,০০০ হাজার নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ফসলের পতিত এই বিশাল মাঠ। সবার অপেক্ষা এখানে আসবেন কাঠুরিয়া কবিরাজ তার জন্য মঞ্চও তৈরি করা হয়েছে। তিনি পানি ও তেলে ফুক দিবেন। তার ঝাড়ফুকের পানি খেলে অথবা তেল মালিশ করলে সব রোগবালাই থেকে মুক্তি পাবে এবং মনোবাসনা পূরণ হবে। এমন অন্ধ বিশ্বাস থেকেই ৫০,০০০ হাজার নারী-পুরুষ উপস্থিত এখানে।

কাঠুরিয়া কবিরাজের আগমনের বার্তা জানিয়ে মাইকে একটু পর পর ঘোষণা দিচ্ছেন তার ভক্তরা। এক পর্যায়ে এই উদ্ভট পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঠুরিয়া কবিরাজের জন্য তৈরি করা মঞ্চে উঠেন স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইমলাম ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ টিটু তারা ভক্তদের শান্ত থাকার আহবান জানান।

বেলা যখন ১১টা পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার রাজ্য ইউনিয়নের পাইলাবর গ্রামের কাঠুরিয়া কবিরাজ এসে হাজির । তিনি সমাগত লোকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন আমি মাইকে ফুক দেব, মাইকে আমার ফুকের আওয়াজ যে পর্যন্ত যাবে সে পর্যন্ত তেল-পানির বোতলে ফুক কাজ করবে। বক্তব্য শেষ হতে না হতেই কাঠূরিয়া কবিরাজ মাইকে ফুক দিলেন। আর চারপাশে অবস্থানরত ৫০.০০০ হাজার নর-নারী তেল-পানির বোতল উঁচিয়ে ধরলেন। রোগবালাই মুসিবত দূর এবং মনোবাসনা পূরণের বাসনা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন হাজার হাজার নর-নারী।

এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেণু বলেন, ভক্তদের অনরোধে এখানে কাঠুরিয়া কবিরাজের আগমন ঘটে। পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো: মফিজুর রহমান বলেন, তিনি এ খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে দ্রুত শেষ করার জন্য দেন। এ বিষয়ে দেশের সর্ববৃহৎ শোলাকিয়া ঈদগাহের সাবেক ইমাম মুফতি মাওলানা এ কে এম সাইফুল্লাহ জনান, এভাবে মাইকে ফুক দেয়া ইসলাম মোটেই সম্ভোধন করে না। এ ধরণের আয়োজন প্রতারণা ও শিরকের শামিল।

এ ব্যাপারে দেশের সর্ববৃহৎ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের সাবেক ইমাম কিশোরগঞ্জ শহরের বড়বাজার জামে মসজিদের খতিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের গবেষক মুফতি মাওলানা এ কে এম সাইফুল্লাহ জানান, এভাবে মাইকে ফুক দেয়া মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের আয়োজন প্রতারণা ও শিরকের শামিল। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সবুজ মিয়া নামের এই কবিরাজ ভালুকা উপজেলার রাজ্য ইউনিয়নের পায়লাবের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি বনে কাঠ কেটে জীবিকার্জন করেন। সপ্তাতে ৪দিন কাঠ কাটেন এবং ৩দিন কবিরাজি করেন। স্বপ্নপ্রাপ্ত হয়ে এ ধরনের কবিরাজি করেন তিনি।