ডুয়েট শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবী অবশেষে স্থাপন হল পুলিশ বক্স

48
আফতাবুল ইসলাম শোভন : আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারনে  দীর্ঘদিনযাবৎ গাজীপুর ২৫ নং ওয়ার্ডের মানুষের কাছে ঝুঁকির একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল জয়দেবপুর-শিমুলতলী রোড (বিআইডিসি রোড) রেলগেট। এই রেলগেট ও তৎসংলগ্ন রেললাইনকে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকসেবি, পকেটমার ও ছিনতাইকারীরা তাদের অপকর্মের ঘাটি হিসেবে বেছে নিয়েছিলো।
অবস্থান বিবেচনায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড হচ্ছে ২৫ নং ওয়ার্ড। ২৫ নং ওয়ার্ডে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট),  মডেল ইন্সটিটিউট অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি,  রয়েল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি, গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ, সিটিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, ভাওয়াল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট,  প্রায় বিশের অধিক ডুয়েট এডমিশন কোচিং সেন্টার, দশটির মতো জব  কোচিং সেন্টার আছে। তাছাড়া এলটেক এলুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ , স্টিলটেক স্টীল ইন্ডাস্ট্রিজ , মনির কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি সহ অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। এর ফলে বিপুল সংখ্যক ছাত্র এবং কর্মজীবীর বসবাস এই অঞ্চলে।
ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন সময় অনেক ছাত্র, কর্মজীবী ও অন্যান্য শ্রেণীপেশার মানুষেকে অস্ত্রের মুখে রেখে ছিনতাই ও জখম করার ঘটনাও তারা ঘটিয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র এই রেলগেটে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে আহত হলে এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিষয়টি ডুয়েট প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করা হয়। এভাবে ডুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রনেতাদের শক্ত অবস্থানের ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বিষয়টি একসময় গাজীপুর মহানগরীর পুলিশ কমিশনার মহোদয় এর দৃষ্টিগোচর হয়।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মহোদয় এই জায়গার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রেলগেটে একটি পুলিশ বক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২৫ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে অস্থায়ী পুলিশ বক্স স্থাপন করা হয় জয়দেবপুর-শিমুলতলী রোড রেলগেটে। পরবর্তীতে এলটেক এলুমিনিয়াম এর সহযোগিতায় একটি পাকা পুলিশ বক্স এর কাজ শুরু হয় যা ডিসেম্বর নাগাদ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পুলিশবক্স স্থাপনের পর স্থানীয় জনগণ অনেকটাই স্বস্তি অনুভব করছেন। ডুয়েটের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দ্রুত সময়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করায় তারা পুলিশ কমিশনার মহোদয় এর নিকট কৃতজ্ঞ। পুলিশ তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন বলে তারা আশাবাদী।
উক্ত পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ গাজীপুর সদর থানা পুলিশের এএসআই এইচ. এম. সোহাগ রানা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সর্বস্তরের মানুষের সহায়তা প্রয়োজন৷ পুলিশ সবসময়ই জনগণের পাশে আছে। তবে প্রায় সময়ই রেললাইনে অনেক অসামাজিক কার্যক্রম হয় যা রোধ করতে হলে সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা দরকার। তাছাড়া রাত আটটার পর প্রয়োজন না হলে রেললাইন ধরে না হাটার অনুরোধ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here