“আজ ঐতিহাসিক ৭ই নভেঃ বিপ্লব ও সংহতি দিবস”

44

তাজ মাহমুদঃ প্রখ্যাত ব্রিটিশ লেখক-নাট্যকার বার্নার্ড শ বলেছিলেন , ‘ইতিহাসের শিক্ষা হলো ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না।’ শিক্ষা না নিলে কি হবে , ইতিহাস বার বার পুনরাবৃত্তি হয় । যুগ যুগ ধরে হচ্ছে । আমাদের ভারতবর্ষে শত শত বছরের পুরোনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির নজির আছে । ক্ষমতার জন্য মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব তার ভাইদের হত্যা করেছিলেন । ক্ষমতার সেই লোভ এবং মোহ যুগ যুগ ধরে নানান চেনা অচেনা ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে এবং দিচ্ছে । সেই ইতিহাসে যেমন অসুরের আবির্ভাব ঘটে তেমনি যুগে যুগে দেশপ্রেমিক সৈনিকেরও দেখা মেলে । সেইসব দেশপ্রেমিকদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ে ওঠেন অদ্বীতিয় , ক্ষনজন্মা । আর এমনই এক ক্ষনজন্মা দেশপ্রেমিক সৈনিক ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান । দেশমাত্রিকার টানে তিনি এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ে বেহাল অর্থনীতির হাল ধরেছিলেন । সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শিখিয়ে দিয়েছিলেন দেশ কিভাবে গড়তে হয়। আর তাই তার আবির্ভাবের সেই দিনটি , বিপ্লব ও সংহতির দিন নামে পরিচিত। সিপাহী ও জনতার সেই মহামিলন পূর্বে কেউ কখোনো দেখেনি । ক্ষমতালোভী , নশ্বর এই পৃথিবীতে আজ শহীদ জিয়ার নামটাও অনেকের গাত্রদাহের কারন হতে পারে । তাই বলে ইতিহাস থেকে তার অবদানগুলোকে মুছে দেয়া যাবে না । কোটি কোটি মানুষের মন থেকে শহীদ জিয়া হারিয়ে যাবেন না । ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পরে খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় আসেন । কিন্তু বঙ্গবন্ধু যেমন আওয়ামী লীগকে এক করে রাখতে পেরেছিলেন, কার্যত খন্দকার মোশতাকের মধ্যে সেই নেতৃত্বের গুনাবলী ছিল না । যদিও আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাই তার সরকারে অংশ নিয়েছিলেন। তবুও মোশতাকের ক্ষমতা শক্তিশালী ছিল না । ১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৬ নভেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর অনিশ্চিত অবস্থা বিরাজ করছিল। অভ্যুত্থান আর পাল্টা অভ্যুত্থানে বার বার ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছিল । রাষ্ট্রপতি হিসেবে খন্দকার মোশতাক থাকলেও তিনি পুতুল রাষ্ট্রপতি হয়ে গিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর একটি দলের নেতৃত্ব ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের হাতে ছিল । তার নেতৃত্বে ৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর একটি উচ্চাভিলাষী দল সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে বন্দি করে । জিয়ার কাছ থেকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মর্মে একটি স্বাক্ষরও নেয়া হয়। বিষয়টি সামরিক অভ্যুত্থান হলেও এ ঘটনা সাধারণ জনগণ ও সিপাহীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর সর্বমহলে, বিশেষত সিপাহীদের কাছে ছিলেন খুবই জনপ্রিয়। বামপন্থি কর্নেল তাহের সেই সুযোগটি গ্রহন করেন । তিন সেনাবাহিনীর সাধারন সৈনিকদের শহীদ জিয়াকে বের করে আনতে উদ্বুদ্ধ করেন । তাহের ও তার দল জাসদ তখন শক্তিশালী ভূমিকা নিয়েছিলো । বলাই বাহুল্য, ইতিহাসে কোেনো বামপন্থী বিপ্লবী অণ্যের হাতে ক্ষমতা দেয়ার জন্য বিপ্লব করেননি । সুতরাং কর্নেল তাহের এর আসল লক্ষ্য ছিল জেনারেল জিয়ার নামটি ব্যাবহার করে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান ঘটানো । সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে গেলে জিয়াকে পাশ কাটিয়ে হয়তো তারা ক্ষমতায় যেতে পারতেন । কিন্তু পুরো পরিকল্পনায় জিয়ার জনপ্রিয়তা ও বিচক্ষনতা দেশকে বিপথে যেতে দেয়নি । ৭ নভেম্বরের ইতিহাস তাই কর্নেল তাহেরের ছক অনুযায়ী হয়নি । হয়েছে যেভাবে জনগন চেয়েছে, সেভাবাই । ৬ নভেম্বর মধ্যরাতে ঘটে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ এক বিপ্লব । সাধারন সৈনিক ও জনতা একত্রিত হয়ে যান সেদিন । ঢাকার রাজপথে সৈনিকদের ট্যাংক আর সেই সাথে সাধারন জনগনের একাত্মতা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল । সেই বিরল দৃশ্যে ছিল আবেগ , দেশপ্রেম আর পূর্ববর্তী শাসকদের প্রতি বিষেদগার । সবার চোখে তখন একটাই স্বপ্ন , একজন জিয়া বাঁচিয়ে দিবেন দেশকে । শক্ত হাতে হাল ধরবেন দেশের । অবসান হবে রক্তারক্তির রাজনীতিরও । ৭ নভেম্বর ভোরে সৈনিকরা তাদের নেতা জিয়াকে মুক্ত করে আনেন । গৃহবন্দী দশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়া সৈনিকদের উদ্দেশ্যে ভাষন দেন। পরে তার রেকর্ড করা সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা বাংলাদেশ বেতারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। দেশবাসী অধীর আগ্রহে শোনেন তাদের বিপ্লবের ফলাফল। রেডিওতে তাদের প্রিয় নেতার কন্ঠস্বর। আমি মেজর জিয়া বলছি। তিনি বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ,বিমানবাহিনী , বিডিআর, আনসার , পুলিশ ও অন্যান্যদের অনুরোধে আমাকে সাময়িকভাবে চিফ মার্শাল ল এডমিনিষ্ট্রেটর ও সেনাবাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্বভার গ্রহন করতে হয়েছে । এই দায়িত্ব আমি সুষ্ঠুভাবে পালন করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবো। ৭ নভেম্বর বিকেলে তার আরেকটি রেকর্ড করা ঘোষনা রেডিওতে প্রচারিত হয়। সেখানেও কথাগুলো একই রকম ছিল। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তদানীন্তন দৈনিক বাংলার রিপোর্টে বিপ্লব সম্পর্কে বলা হয়, ‘সিপাহী ও জনতার মিলিত বিপ্লবে চারদিনের দুঃস্বপ্ন শেষ হয়েছে। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনীর সিপাহী-জওয়ানরা বিপ্লবী অভ্যুত্থান ঘটিয়েছেন। ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করেছেন বিপ্লবী সিপাহীরা। ৭ নভেম্বর শুক্রবার ভোরে রেডিওতে ভেসে আসে, ‘আমি মেজর জেনারেল জিয়া বলছি।’ জেনারেল জিয়া জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে যথাস্থানে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ওইদিন রাজধানী ঢাকা ছিল মিছিলের নগরী। পথে পথে সিপাহী-জনতা আলিঙ্গন করেছে একে অপরকে। নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর, বাংলাদেশ
জিন্দাবাদ ধ্বনিতে ফেটে পড়েন তারা। সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবে ভণ্ডুল হয়ে যায় স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র। আনন্দে উদ্বেলিত হাজার হাজার মানুষ নেমে আসেন রাজপথে। সাধারণ মানুষ ট্যাঙ্কের নলে পরিয়ে দেন ফুলের মালা। এই আনন্দের ঢেউ রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের সব শহর-নগর-গ্রামেও
পৌঁছে যায়।’ ৭ নভেম্বর সম্পর্কে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইতে লেখেন, ‘১৯৭৫ সালের ৫ ও ৬ নভেম্বর ক্যান্টনমেন্টসহ সারা শহরে ছড়ানো হলো হাজার হাজার প্রচারপত্র। একটি ব্যাপারে ডান ও বাম উভয় রাজনৈতিক দলই একমত ছিল, আর তা হচ্ছে খালেদ মোশাররফ একজন বিশ্বাসঘাতক, ভারতের দালাল এবং সে ঘৃণিত বাকশাল ও মুজিববাদ ফিরিয়ে আনতে চাইছে।’ ৭ নভেম্বরের ভোরের দিকে জওয়ানরা ব্যারাক থেকে বেরিয়ে পড়ল। সারা ঢাকা শহরে এই ‘সিপাহী বিপ্লব’ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। রাত ১টার মধ্যেই সিপাহীরা পুরো ক্যান্টনমেন্ট দখল করে নিল। একদল জওয়ান গেল জেনারেল জিয়ার বাসভবনে। চারদিন বন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেন জেনারেল জিয়া। নৈশ পোশাক পরা অবস্থাতেই জিয়াকে উল্লসিত জওয়ানরা কাঁধে করে নিয়ে গেল ২ ফিল্ড আর্টিলারির হেডকোয়ার্টারে। ঘটনার আকস্মিকতায় তখন বিহ্বল হয়ে পড়েন জিয়া। নাম না জানা অনেক জওয়ানের সঙ্গে আলিঙ্গন, করমর্দন করেন তিনি। গ্রন্থটিতে আরও বলা হয়েছে, ‘রেডিওতে ক্রমাগত সিপাহী জনতার বিপ্লবের ঘোষণা এবং জেনারেল জিয়ার ক্ষমতা দখলের খবর শুনে হাজার হাজার লোক স্রোতের মতো রাস্তায় নেমে এলো। তিন দিন ধরে তারা বিশ্বাস করছিল যে, ভারত খালেদ মোশাররফের মাধ্যমে তাদের কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতাকে বিপন্ন করছে। এখন সেই দুঃস্বপ্ন কেটে গেছে। সর্বত্র জওয়ান এবং সাধারণ মানুষ খুশিতে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করল,
রাস্তায় নামল। সারারাত তারা স্লোগান দিল, ‘আল্লাহু আকবর, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, সিপাহী বিপ্লব জিন্দাবাদ।’ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের মতো এদেশের মানুষ আবার জেগে উঠেছে। তবে জিয়া মুক্ত হয়ে বরং সৈনিকদের শান্ত থাকতে বলেন । অফিসারদের হত্যা করতে নিষেধ করেন।’ ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ তাহেরের আসল উদ্দেশ্য ও জিয়ার ভুমিকা নিয়ে গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ লিখেছেন , ঢাকা নগর গণবাহিনীর উদ্যোগে সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল এবং জিয়া ও তাহেরের সেখানে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। জিয়া সেনানিবাসের বাইরে আসতে অস্বীকার করেন। তিনি জানান, একজন সৈনিক হিসেবে তিনি কোন জনসমাবেশে গিয়ে বক্তৃতা দেয়ার পক্ষপাতি নন। ততক্ষণে জিয়ার আশপাশে অনেক সেনাকর্মকর্তা উপস্থিত হয়েছেন। জিয়া তখন অনেকটা স্বচ্ছন্দ এবং ভারমুক্ত। ৭ই নভেম্বর রাষ্ট্রপতি সায়েম বেতার ও টেলিভিশনে একটা ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদে জনাব খোন্দকার মোশ্তাক আহমদের পুনর্বহালের পক্ষে স্বতঃস্ফূর্ত দাবি সত্ত্বেও তারই অনুরোধক্রমে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। বিচারপতি সায়েমের ভাষণের পরপর খোন্দকার মোশ্তাক আহমদের একটি ভাষণ প্রচার করা হয়। ভাষণে তিনি দেশের সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, সকল নিরাপত্তা বাহিনী ও সর্বস্তরের জনগণকে ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য যে অভূতপূর্ব বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাহের জিয়াকে বেতারকেন্দ্রে নিয়ে আসতে এবং তাকে দিয়ে একটি ভাষণ দেওয়াতে চেয়েছিলেন। জিয়া তাহেরের সঙ্গে কোথাও যেতে চাননি। কয়েকজন সেনাকর্মকর্তা পরামর্শ দেন, সেনাপ্রধানের বেতার কেন্দ্রে যাওয়ার কি দরকার? ভাষণ তো এখানেই রেকর্ড করা যায়। শেষ পর্যন্ত জিয়ার ভাষণ সেনানিবাসেই রেকর্ড করা হয়। ৭ই নভেম্বর সন্ধ্যায় এই ভাষণ প্রচার করা হয়। জিয়ার এই ভাষণে কোথাও জাসদ, গণবাহিনী বা তাহেরের উল্লেখ নেই। ৩রা নভেম্বরের অভ্যুত্থানের কুশীলবদের অনেকেই যে যেখানে পারেন, গা ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করেন। অনেকেই গ্রেপ্তার হন। শাফায়াত জামিল পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত
হন এবং পরে নারায়ণগঞ্জ থানায় আত্মসমর্পণ করেন। তাকে ঢাকায় এনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ৭ই নভেম্বর ভোরে খালেদ মোশাররফ তার দুই সহযোগী কর্নেল হায়দার ও কর্নেল হুদাকে নিয়ে শেরেবাংলানগরে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটে যান। সেখানেই তাদের হত্যা করা হয়। কার নির্দেশে তাদের হত্যা করা হয়েছিল, তা আজও অজানা । ৮ই নভেম্বর চিত্রপট একটু বদলে যায়। রাষ্ট্রপতি সায়েম নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা দেন। তাহেরের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে আসে এবং ১২ই নভেম্বর থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা অভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য শাসক সমাজের ওপর বৈদেশিক মুরুব্বিয়ানার বাধ্যতা প্রত্যাখ্যান করে গণচেতনায় জাতিরাষ্ট্রের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার। দেশবাসীর মনে সার্বভৌমত্বের গর্ববোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠা। পঁচিশ বছর মেয়াদি শান্তি ও মৈত্রী চুক্তির অসম সম্পর্কের মায়াজাল এদেশের অভিজন সমাজে যে ভারতমুখাপেক্ষিতা ও হীনম্মন্যতার প্রসার ঘটিয়ে চলেছিল, তার বজ্রআঁটুনি ছিন্ন করেছিল দিপ্ত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান ও আত্মস্থশক্তির বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে উৎখাত হয়েছিল দিল্লির প্রাসাদকামী পরগাছার জঞ্জাল। আর তাই মুক্তিকামী মানুষের মুক্তির দিন ছিল সাত নভেম্বর । জনগন যে ভুল করেনি, তার প্রমান
পরবর্তী জীবনে দিয়েছেন জিয়া। জিয়ার নেতৃত্ব , সততা ও আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা নিয়ে কারো মনে সন্দেহ নেই । একজন ক্ষনজন্মা জিয়া চিরস্থায়ী হয়ে আছেন মানুষের মনে । বাংলাদেশের উন্নয়নের সত্যিকারের এই কারিগররের আবির্ভাব যেন চিরচেনা পথ । তার সেই পথ চলায় বাকশাল থেমে গিয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষকে
আশার আলো দেখিয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়ার বহুদলীয় গনতন্ত্র । তার সততায় মুগ্ধ ছিল জনগন । জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সত্যিকারের উন্নয়নের কারিগর । যে কারিগর সাধারন জনগনকে দিয়ে গিয়েছেন দেশপ্রেমের এক হাতিয়ার, দেশ গড়ার মন্ত্রনা । কানে কানে বাজিয়ে গেছেন , প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ , জীবন বাংলাদেশ আমার মরন বাংলাদেশ। এ লেখা শেষ করার আগে আমি যে কথাগুলো বলতে চাই। তাহলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা কারো দয়ার দান নয়। বাংলাদেশের কৃষকের সন্তান মওলানা ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, আর্মী, বিডিআর, পুলিশ, আনসার, ছাত্র, শ্রমিক, কামার, কুমার, মাঝি, তাঁতি সকলেই এ স্বাধীনতা সংগ্রামে ছিলেন। এদেশ আমাদের, এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, শান্তি রক্ষা করার দায়িত্ব আমার, আপনার এবং আমাদের সকলের।

লেখকঃ তাজ মাহমুদ
সহকারী শিক্ষক, ইংরেজি
রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
রাঙ্গামাটি।
তথ্যসূত্রঃ
১। উইকিপিডিয়া
২। অ্যান্থনি মাসকারেনহাস এর   ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড
৩। অসমাপ্ত বিপ্লব’ – লরেন্স লিফশুলৎজ