নওগাঁর পত্নীতলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ

74

বিশেষ প্রতিনিধি; নওগাঁর দিবর ইউনিয়নের এক কলেজ ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। পত্নীতলায় উজেলার নজিপুর পৌরসভার পাশের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেক উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। বিয়ের চাঁপ দিতেই, পাওনা টাকার মিথ্যা দাবি চাপানো হচ্ছে ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে।

এমনকি অভিযোগ ঠেকাতে চৌকিদার পাহারায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে ভুক্তভুগির পরিবারকে। এঘটনার প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান ওই কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী। সে উপজেলার দিবর ইউনিয়নের বাকরইল গুচ্ছগ্রামের মৃত অনিল চন্দ্রের মেয়ে ও সাপাহার সরকারি কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

ভুক্তভুগির অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীর্ঘ ৫বছর ধরে বিয়ের কথা বলে দৈহিক সম্পর্ক চালে আসছিলো। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী গর্ভবতী হয়ে পড়লে বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চেয়ারম্যান চাপসৃষ্টি করেন। গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করতে না চাইলে ছোটমেয়ের বিয়ের পর তারা আনুষ্টানিকভাবে বিয়ে করবে বলে বাচ্চাটি নষ্ট করতে বাধ্য করেন। সম্প্রতি তাকে বিয়ের করার কথা বললে ভুক্তভুগির কাছে ৪০লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন চেয়ারম্যান সাদেক। অভিযোগ ঠেকাতে গত সোমবার থেকে চৌকিদার পাহারায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে ভুক্তভুগির পরিবারকে। এতে সহযোগীতা করছেন দিবর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরকার ও দিবর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হারুন-অর রশীদ।

ভুক্তভুগি ছাত্রীর মা দৈব্য বালার অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আতাঁত করে ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে ৪০ লাখ টাকার চাঁদা দাবী করছে। আমারা নিজেরায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছগামে বসবাস করছি। মানুষের বাড়িতে দিন মজুরের কাজ করে জিবীকা নির্বাহ করে থাকি। বর্তমানে মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্ত পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাদেক উদ্দিনয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এবিষয়ে দিবর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মাষ্টার বলেন, মেয়েটির সঙ্গে নজিপুর ইউপির চেয়ারম্যান সাদেক এর সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল সত্য। মেয়েটি তার কাছে টাকা নিয়েছে বলে শুনেছি। তাই মেয়েটি যেন কোথাও পালাতে না পারে সে জন্য আমি গ্রাম পুলিশদের দেখতে বলেছি।

এবিষয়ে পত্নীতলা থানার ওসি পরিমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, গ্রাম পুলিশকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।এবিষয়ে আমরা উভয় পক্ষকে ডেকে একটি সমাধান করার জন্য ডেকেছি। ধর্ষনের মামলা রুজু না করে উল্টো ভিকটিমের বিরুদ্ধে সালিশের সমাধান করার এখতিয়ার পুলিশের আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসপি স্যারের নির্দেশেই ডাকা হয়েছে। এবিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়ার সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য থানা পুলিশকে বলেছি। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।