ধুনটে স্বেচ্ছাশ্রমে নদীতে বাঁশের সাঁেকা নির্মাণ

59

ইমদাদুল হক ইমরান: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মথুরাপুর-খাদুলী গ্রামের বাউ নদীর বুকে অবশেষে স্বেচ্ছাশ্রমে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হয়েছে। কিন্ত এই সাকোঁ তৈরীর কাজে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মথুরাপুর ও খাদুলী গ্রামের মাঝ দিয়ে বহমান বাউ নদী। নদীর দুই পাশেই রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদীর বুকে স্থায়ী সেতু নির্মান করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় ১৫-১৭গ্রামের মানুষকে। বেশি দুর্ভোগে পড়েন মুমূর্ষু রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও শিশু-বৃদ্ধদের।

স্থানীয়রা দুর্ভোগ লাঘবে দীর্ঘদিন ধরে এখানে সেতু নির্মাণের দাবি করে আসলেও কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। বর্তমানে পানিতে নিমজ্জিত এ পথের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানুষের পথচলায় স্বাচ্ছন্দ্য আনতে হক আইটি ফার্ম নামে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নাজমুল হোসেন, সোহেল রানা ও ঠিকাদার মোহাব্বত আলী বাঁশের সাঁকো তৈরীর উদ্যোগ নেন। তাদের স্বতঃস্ফুর্ত উদ্যোগে স্থানীয় লোকজনও বাঁশ, দড়ি কেনার জন্য নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন। এরপর সাঁকো তৈরির কাজে নিজেরাই নেমে পড়েন। এভাবেই সোমবার পর্যন্ত টানা ৩দিনের পরিশ্রমে তৈরী হয় এলাকার লোকজনের কাংখিত বাঁশের সাঁকোটি।

স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণকারী নাজমুল হোসেন, সোহেল রানা ও মোহাব্বত আলী বলেন, নিজেদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ও আর্থিক সহযোগিতায় আমরা ৩দিন ধরে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছি। এই সহযোগীতা করেছেন স্থানীয় গ্রামের শতাধিক মানুষ। এর ফলে এলাকার মানুষের কিছুটা হলেও দুর্ভোগ লাঘব হবে। তবে এই সাঁকো নির্মাণ কাজে প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা মেলেনি।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ সেলিম বলেন, এলাকাবাসীর এ উদ্যোগ দেখে আমি অভিভূত। ইতিমধ্যেই বাউ নদীতে সেতু নির্মানের জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আবারো যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।