ক্যান্সারে আক্রান্ত সাংবাদিক নয়নের জন্য প্রার্থনা

83

শাহাদাৎ হোসেন শিপন ::
যেতে আমি দিব না তোমায়। তবুও সময় হল শেষ, তবু হায় যেতে দিতে হল।’ কবি গুরূ রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের সোনার তরী কবিতার পঙতি এগুলো। কবিতার পঙতি গুলোর মতোই যেন ফটো সাংবাদিক মেহেদী হাসান নয়নের জীবনের বর্তমান অবস্থা। ক্যান্সার আক্রান্ত নয়ন বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলুরে সিএমসি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে একমাত্র ছেলে নাভিলকে জড়িয়ে ক্রন্দনরত নয়নের কথা ছিল-‘বাবারে আমি যে তোর জন্য কিছুই করতে পারলাম না।’ নয়নের একথায় যে কারোরই চোখের কোণে জল নিয়ে আসতে বাধ্য।নয়নের বাবা মারা গেছেন বহু আগে। বেশ কয়েক বছর আগে নয়নের মাও মারা যান। বলতে গেলে এ জগৎ সংসারে এতিম ছিল নয়ন।

পেশা ও আর সহযোগিরাই ছিল তার জগৎ। সেই জগতে একটু স্থান করে নিয়েছিল স্ত্রী আর একমাত্র সন্তান নাভিল। কিন্তু বিধির কী বিধান। নয়নের মতো তার ছেলেও এতিম হতে চলেছেন। তবে একথা এখনই পুরোপুরি বলা চলে না। নয়ন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও তার বেঁচে থাকার সম্ভবনাই বেশি। তবে এজন্য প্রয়োজন সুচিকিৎসা। যে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল।নয়নকে শুধু নয়নের জন্য নয়, আমরা তাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই তার একমাত্র সন্তান নাভিলের জন্য আর স্ত্রীকে বিধবার সাদা শাড়িতে আচ্ছাদিত হওয়া থেকে। আমাদের দেশে সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলেও এই সাংবাদিকদের জীবনের কোন মূল্য জীবন মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোন পদেক্ষপ নেই। তবে একটি সমাজ পরিবর্তনে একজন ভাল সাংবাদিকের অবদান সব সময়ই অনস্বীকার্য। কিন্তু এই সাংবাদিকরাই যখন অকালে মৃত্যু মুখে পতিত হয় তখন সাহার্য্যরে হাত বাড়িয়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় হাতে গোনা। তাই সমাজের বিবেকবান আর সামর্থবানদের প্রতি আহবান আসুন আমরা নয়নের পাশে দাঁড়াই। নয়নের স্বপ্ন গুলোকে বাঁচিয়ে রাখি তাকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে।
এদিকে ক্যান্সারের আক্রান্ত বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান নয়নের পাশে দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের পুত্র একেএম অয়ন ওসমান। সাংবাদিক নয়নের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে ২লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন অয়ন ওসমান। গতকাল শনিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে নয়নের স্ত্রী’র হাতে অয়ন ওসমানের অর্থ তুলে দেন মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফেল প্রধান, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা আহাম্মেদ কাউছার, সুমিত, সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামন প্রমুখ। নয়নের ফিরে আসাটা হবে আমাদের প্রার্থনার সুফসল । আমরা তার ফিরে আসার অপেক্ষায় রইলাম। আল্লাহ যেন তোমাকে সুস্থ করে আবারো আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনেন সেই প্রত্যাশায় রইলাম।