জগতবিখ্যাত দেবী বিবি নানির ভয়ে আজও থর-থর কাঁপে

42

অনলাইন ডেস্ক: ইসলামী দেশ ও মৌলবাদী অধ্যুষিত পাকিস্তান করাচি থেকে ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। আরব সাগর থেকে ১৯ কিমি দূরে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সিন্ধু নদ থেকে ৮০ কিমি দূরে অঘোর বা হিংগুল নদীর তীর। হিন্দু সম্প্রদায়ের বালুচিস্তান প্রদেশের লাসবেলা জেলার হিংগুল ন্যাশনাল পার্কের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে হিংগুল নদী। এই নদীর তীরে একটি দুর্গম পর্বতগুহায় বিরাজ করছেন বালুচিস্তানের জগতবিখ্যাত নানি। হিন্দু সম্প্রদায়ের একান্নটি শক্তিপিঠের শ্রেষ্ঠ পিঠের অধিশ্বরী মাতা হিংলাজদেবী। যে পীঠস্থানকে হিন্দু সম্প্রদায়ের চিনি মরুতীর্থ হিংলাজ নামে। সারা পাকিস্তানের মুসলিমরা চেনেন ‘নানি কি হজ’ নামে। ‘হজ’ শব্দের অর্থ কোনো দৈব বা ধর্মীয় স্থান দর্শনের সংকল্প করা।

সারা বিশ্বে এই দেবীর জুড়ি মেলা ভার। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের পুরো প্রতিরক্ষার দায়িত্ব একা সামলান। হিন্দু দেবীকে পুজো করেন বালুচ মুসলিমরাও। নিজেদের সাংসারিক সুরক্ষা ও মঙ্গল কামনায় এই দেবীর দরবারে আসেন মুসলিমরা। ইসলামী দেশ ও মৌলবাদী অধ্যুষিত পাকিস্তানে ও আফগানিস্তানে প্রচুর হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন মন্দির ধূলিসাৎ করা হয়েছে, কিন্তু এই হিন্দু দেবীকে স্থানচ্যুত করা সম্ভব হয়নি। বালুচ মুসলিমদের বাধায় ও জাগ্রতা দেবীর কোপের ভয়ে। দেবীর শরণাপন্ন হন পাকিস্তানের মন্ত্রী আমলারাও। হিন্দু পুরাণ মতে, এই স্থানে সতীর ব্রহ্মরন্ধ্র পড়েছিল। তাই দেবী এখানে কোট্টারী ও তাঁর ভৈরবকে ভীমলোচন রূপে পূজা করা হয়। হিংলাজ পিঠটি শিবসরিতায় একান্ন পিঠের প্রথম পিঠ। কুলার্ণব তন্ত্রে আঠারোটি পিঠের তৃতীয় পিঠ। কুব্জিকা তন্ত্রের বিয়াল্লিশটি সিদ্ধপিঠের পঞ্চম পিঠ। তন্ত্রচুড়ামণির পিঠনির্ণয় বা মহাপিঠনির্ণয় বিভাগে প্রাথমিক ভাবে তেতাল্লিশটি পিঠের কথা বলা হলেও পরবর্তীকালে একান্নটি দেবীপিঠের কথা সংযোজিত হয়েছে। কিন্তু হিংলাজ মাতার পিঠটি সব শাস্ত্রের সব পুস্তকেই জাগ্রত শক্তিপিঠ হিসেবে বর্ণিত। হিংলাজ মাই ও বিবি নানী ছাড়াও প্রচুর নাম এই দেবীর। কোট্টরি, কোট্টভি, কোট্টরিশা এবং দেবীর ভৈরবের নাম ভীমলোচন।

যিনি কচ্ছর কোটেশ্বর মন্দিরে বিরাজমান। এপ্রিল মাসে করাচি থেকে নানীর হজ যাত্রা শুরু হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সিন্ধুপ্রদেশ বাংলা ও আসামেই মূলত শক্তির পূজারী শাক্তদের বসবাস তবে হিংলাজের তীর্থযাত্রীরা আসেন ভারত, পাকিস্তান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। প্রাচীন কালে তীর্থযাত্রীরা হিংলাজ যেতেন উটের পিঠে চড়ে যাত্রা শুরু হত করাচি শহরের কাছে হাব নদীর ধার থেকে। যাত্রীদের সঙ্গে থাকত এক মাসের রসদ, যেমন তাঁবু, জ্বালানি, চাল, ডাল, আটা, ঘি, তেল, মশলা, শুকনো খাবার, পানীয় জল ইত্যাদি মরুদস্যুদের প্রতিরোধ করার জন্য থাকতো অস্ত্রশস্ত্রও। এ ছাড়া, সঙ্গে থাকত হিংলাজ মাতার প্রসাদের জন্য শুকনো নারকেল, মিছরি, বাতাসা ইত্যাদিএক মাসের অত্যন্ত কঠোর যাত্রার পর শ্রান্ত তীর্থযাত্রীরা পৌঁছতেন হিংলাজে অঘোর নদীতে স্নান সেরে তাঁরা দর্শন করতে যেতেন হিংলাজ মাতাকে এখন করাচি থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা গাড়িতে করে মরুভুমির ভেতরে দুর্গম স্থানে অবস্থিত নানী কি হজে আসেন হিন্দু ও মুসলিম শ্রদ্ধালুরা। মহাভারতের সময়কাল বা দ্বাপর যুগেরও আগে ত্রেতা যুগে এই হিংলাজ শক্তিপীঠের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। হিংলাজ মাতাকে নিয়ে বেশ কিছু কিংবদন্তী রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো ব্রহ্মক্ষত্রিয়ের কাহিনী।

পরশুরাম তখন ক্ষত্রিয় নিধনের উদ্দেশ্যে সারা পৃথিবী ভ্রমণ করছেন। সেই সময় তিনি ক্ষত্রিয়র খোঁজে আসেন এই বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে, তখন স্থানীয় ক্ষত্রিয়রা হিংলাজ মাতার শরণাপন্ন হন। হিংলাজ মাতা তখন ক্ষত্রিয়দের ব্রাহ্মণ রূপ দান করে পরশুরামের হাত থেকে বাঁচান। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন জয়সেনা। যিনি সিন্ধু প্রদেশে রাজত্বও করেন। কথিত আছে ক্ষত্রিয়দের শুধু বাঁচানোই নয়, পরশুরামকে এই হত্যালীলা থেকে অস্ত্র ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন স্বয়ং হিংলাজ মাতা। দেবী পরশুরামকে বলেছিলেন, প্রত্যেক মানব ব্রহ্মার সন্তান। আর ব্রহ্মত্ব আসে সুকর্মের মধ্যে দিয়ে। ক্ষত্রিয় নিধন করে পৃথিবী ক্ষত্রিয়শূন্য করলেও ব্রহ্মত্ব প্রমাণ হয় না। পরশুরাম বুঝেছিলেন তিনি ব্রাহ্মণ সন্তান তাই তিনি ক্ষত্রিয় নিধন সংকল্পে নেমে ব্রহ্মহত্যাই করছেন। অগত্যা ক্ষত্রিয়হত্যা থেকে সরে আসেন পরশুরাম। মানুষের তৈরি কোনো মূর্তি নয়, সিঁদুর লেপা এক খ- পাথরই হলো বালুচ আদিবাসীদের আদরের নানী ও হিন্দুদের হিংলাজ মাতা। পাহাড়ের একটি গুহার মধ্যে অবস্থিত। গুহাটাই হিংলাজ মায়ির মন্দির বা নানী কি হজ। মন্দিরের ভেতরে একটি প্রাকৃতিক গ্যাসের অগ্নিকু-। এই অগ্নিজ্যোতিকেও হিংলাজদেবীর রূপ বলে মান্য করা হয়। মন্দিরের কাছে আছে একটি কু-। এটিও বেশ রহস্যময়। কু-ের মধ্যে অবিরাম কাদা মাটি ফুটতে থাকে। কিংবদন্তী রয়েছে, এই ফুটন্ত কু-ের কাছে এসে অন্তর থেকে নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করলে পাপ স্খালন হয়। হিন্দুরা ফুল ও নারকেল আর মুসলিমরা সির্নি খেজুর দেন দেবীকে। হিংলাজ মাতা হিন্দুদের হিংলাজ মাঈ ও মুসলিমদের বিবি নানীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সব তীর্থযাত্রী। সকল মনস্কামনা পূরণ করেন নানী। তাই নানীর হজ বুক দিয়ে আগলান বালুচ মুসলিমরা। নানী মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে হজ যাত্রার তদারকি পুরোটাই করেন তাঁরা।

কারণ তাঁদের চিরাচরিত বিশ্বাস হিংলাজ মাঈ বা বিবি নানী তাঁদের পরিবারের একজন, আত্মার আত্মীয় ও বালুচিস্তানের জনজীবনে তাঁর পূর্ণ অস্তিত্ব ও কর্তৃত্ব আছে। তাই তো তাঁরা ডাকেন নানী নামে।★★ কালী পূজা কি ও কেন করা হয়ঃ দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনের জন্যেই দেবী কালীর পূজা করা হয়। দেবী কালীর অসংখ্য নামের মধ্যে দক্ষিণ, সিদ্ধ, গুন্য, ভদ্র, শ্মশান, রক্ষা ও মহাকালী। দেবী কালীর আবির্ভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, দেবাসুরের যুদ্ধে পরাজিত দেবতাদের প্রার্থনায় আদ্যাশক্তি ভগবতি পার্বতীর দেহ কোষ থেকে দেবী কৌষিকী আবির্ভূত হন। তখন ভগবতি দেবী কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেন বলে তাঁর নাম কালী বা কালিকা। কথিত আছে বঙ্গদেশে দক্ষিণ কালিকার পূজা প্রবর্তন করেন কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ (আনুমানিক ১৫শ-১৬শ শতক) মতান্দরে ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে কালীনাথ রচিত ‘শ্যামা সপর্যাবিধি’তে এই পূজার সর্বপ্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। “ক্রীং কালিকায়ৈ নমঃ”— মন্ত্রে দেবীকে আবাহন করা হয়। দুর্গা-চ-ী-কালী একই সত্তায় মহাশক্তি রূপে পরিণত হয়েছেন। ‘দেবঃ তেজঃ সম্ভবা’ রূপে তিনিই কালী কাত্যায়নী, চ-ী রূপে তিনি বধ করেন চ–মু- অসুরদ্বয়কে। দুর্গা রূপে বধ করেন দুর্গমাসুরকে। আবার তিনিই কালী রূপে পান করেন রক্তবীজ অসুর-রক্ত। বহু নামেই তিনি বিরাজিতা — কালী, মাতঙ্গী কালী, ছিন্নমস্তা কালী, শ্মশান কালী, কালা কালী, ভৈরবী বা ভদ্রকালী, ষোড়শী কালী, কমলা কালী, ধুমাবতী কালী। এই সব নাম ও রূপের বাইরেও মহাশক্তি সর্বত্র বিরাজ করছেন।

জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে, বৃক্ষে, লতায়, ঔষধিতে, মানবের দেহে, মনে, প্রাণে, বুদ্ধিতে, অহঙ্কারে। সবেতেই আছেন। তিনি আছেন মানব চেতনায়, স্মৃতিতে, শ্রদ্ধায়, নিদ্রায়, ক্ষুধায়, তৃষ্ণায়, ক্ষমায়, লজ্জায়, শান্তিতে, শক্তিতে। মাতৃ রূপে তিনি সর্বত্রই সংস্থিতা। তিনি আদ্যাশক্তি মহামায়া। তিনি কালিকা, তিনি শ্যামা, তিনি ভবতারিণী। তান্ত্রিক মতে আবার তিনি ‘অষ্টধা’ বা ‘অষ্টবিধ’। এই ‘অষ্টধা’ হলেন চামু-াকালী, দক্ষিণাকালী, ভদ্রকালী, রক্ষাকালী, গুহ্যকালী, শ্মশানকালী, মহাকালী, শ্রীকালী। কালিকাপুরাণে আমরা দেখি আদি শক্তি রূপে তিনি যোগীদের মন্ত্র ও তন্ত্র উদঘাটনে তত্পর। তিনি চতুর্ভূজা, খড়্গধারিণী, বরাভয়দায়িনী, নরমু-ধারিণী। তিনি লোলজিহ্বা ও মু-মালা বিভূষিতা। তিনি মুক্তকেশী, কৃষ্ণবর্ণা, শিববক্ষে দ-ায়মানা মাতৃমূর্তি। তিনি মূলত শাক্তদের দ্বারা পূজিতা হন এবং একাধার দশমহাবিদ্যার প্রথমা দেবী ও বিশ্বসৃষ্টির আদি কারণ। অন্ধকারবিনাষিণী তিনিই, দেবতা তথা শুভাশুভ শক্তির সম্মিলিত রূপ। ”ওঁ করালবদনাং ঘোরাং মুক্তকেশীং চতুর্ভূজাম। কালিকাং দৃক্ষিণাং দিব্যাং মু-মালা বিভূষিতাম।।” প্রাক আর্য যুগ থেকেই ভারতে শক্তি উপাসনা প্রচলিত। সেই যুগে মানুষ প্রাকৃতিক শক্তির ভয়াল রূপকে ঠিক মতো ব্যাখ্যা করতে পারত না। প্রাকৃতিক নানান দুর্যোগের কাছে তারা তখন নিতান্ত অসহায়। সেই হেতু তারা সেই সমস্ত অলৌকিক ও দুর্জয় শক্তিকে দেবতাজ্ঞানে পুজো করতেন।

প্রকৃতিকে স্বয়ং শস্যশ্যামলা মাতৃরূপে তথা মাতৃশক্তিরূপিনী জগদম্বা রূপে কল্পনা করা হত। শ্রীশ্রীচ-ীতেও মহামায়াকে পরাশক্তির আদাররূপিনী রূপে কল্পনা করা হয়েছে। কালিকা পুরাণে আমরা দেখি, আদি শক্তিরূপে তিনি যোগীদের মন্ত্র ও মন্ত্রের মর্ম উদঘাটনে তত্পর। পরমানন্দা সত্ত্ববিদ্যাধারিণী জগন্ময়ী রূপ তাঁর। বীজ থেকে যেমন অঙ্কুরের নির্গমন হয় এবং জীবের ক্রমবিকাশ হয় তেমনই সেই সব সৃজনই তাঁর সৃষ্টিশক্তি। মু-কোপনিষদে মহাকালী স্বয়ং কালী, করালী, মনোজবা, সুলোহিতা, সধূম্রবর্ণা, বিশ্বরুচি, স্ফুলিঙ্গিনী, চঞ্চলজিহ্বা ইত্যাদি নামে ভূষিত হন। মাঘ মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে পূজার নাম জৈষ্ঠ্যে ‘ফলহারিণী’ কালী পূজা। কালী তথা ভবতারিণীর পরম উপাসক শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব শাক্ত মন্ত্রে দীক্ষা লাভ করেছিলেন কেনারাম ভট্টাচার্যের কাছে। পরবর্তীতে রানি রাসমণির আনুকূল্যে ও অর্থে সৃষ্ট দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ীর পূজারী রূপে সাধনজীবন শুরু করেন। দেবী ভবতারিণীর পাষানপ্রতিমাকে ‘মা মা’ বলে আপন খেয়ালে তিনি কথা বলতেন।

নিজ কণ্ঠে গান শোনাতেন। কখনও তাঁর ‘ভাব-সমাধি’ হত। রামকৃষ্ণের সেই ভাব-সমাধির মুহূর্তে মনে করা হত তিনি স্বয়ং মাকে প্রত্যক্ষ করছেন। রামকৃষ্ণের অলৌকিক কা-কারখানা ও তাঁর ভাব-সমাধি জনশ্রুতি সৃষ্টি করেছিল। ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত’ গ্রন্থে শ্রীম জানিয়েছেন, ঠাকুর বলতেন,”এমনি মহামায়ার মায়া রেখেছ কী কুহক করে ব্রহ্মা বিষ্ণু অচৈতন্য জীবে কি তা জানতে পারে।” ১২৮০ সালের ১৩ই জৈষ্ঠ্য ফলহারিনী কালী – পূজার দিন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শ্রীশ্রীমাকে সাক্ষাৎ ষোড়শী জ্ঞানে পূজা করেন। সেই মহাঘটনা পৃথিবীর ধর্মজগতের ইতিহাসে রেখে গিয়েছিল। এক গভীর তাৎপর্য। জগতের ইতিহাসে শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনা তুলনাবিহীন-আর এই সাধনাপথের যাত্রা শুরু হয়েছিলো কালীসাধনার মধ্য দিয়ে। কালী দশমহাবিদ্যার প্রথম রূপ -তাঁর রঙ কালো। সাধনার সুচলালগ্নে তো সাধককে অন্ধকার পথেই এগোতে হয়, শ্রীরামকৃষ্ণের কালী সাধনা যেন তাঁরই প্রতীক। এর পর আরো কত পথে তিনি সাধনা করেছেন, বিভিন্ন পথে খুজেছেন ইশ্বরকে, শেষে বন্দনা করেছেন মানবী রূপ ধারিণ দেবী ষোড়শীর।

এছাড়া ইতিহাস সাক্ষী হয়ে রইল নতুন যুগান্তকারী একটি দৃষ্টিভঙ্গীর, আপামর পৃথিবীবাসী দেখল দাম্পত্য প্রেমের সম্পূর্ণ এক নতুন দিক। ফলহারিণী কালিকা অমাবস্যা নামে বিখ্যাত এই অমাবস্যা তিথি যেন সংবৎসর পুরুষদের স্মরণ করিয়ে দেয় গৃহরমণীদের স্থান কোথায় এবং তাদের প্রকৃত স্বরূপ কি। নিজ মাতাকে মন্ত্রপাঠ সহযোগে দেবীজ্ঞানে পূজার কথা শাস্ত্রে রয়েছে, কিন্তু নিজ ধর্মপতœীকে দেবীর বেদিমূলে বসিয়ে উপাচার সহ পূজা করা জগতের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। আসুন আমরা আমাদের অন্তরের কালিমা ধেকে নিজেদের মুক্ত করে যথার্থতায় সার্থক করে তুলি কালী পূজাকে।