কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় স্বপ্ন দেখিয়ে সৌদিতে নিয়ে পাঠালেন কফিন!

36

আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়: কুমিল্লা জেলার ব্রাম্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ গ্রামের প্রতিবন্ধী নূরু মিয়া পরিবারের অভাব অনাটন দূর করতে তার ছেলে আবুল বাশারকে বিদেশ পাঠানোর স্বপ্ন দেখে। তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে একই এলাকার রেছু ব্যাপারীর ছেলে শফিকের প্লবনে পড়ে প্রতিবন্ধী বাবা নূরু মিয়া।দেখাতে থাকেন কোটি টাকার স্বপ্নও।সেই কোটি টাকার স্বপ্ন লালন করে শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ০৮/১২/২০১৮ইং তারিখে সৌদির আল ফায়াদ কোম্পানির একটি ভিসার মাধ্যমে পাঠানো হয় আবুল বাশারকে।

কিন্তু আবুল বাশাারকে ঐ কোম্পানিতে না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় সৌদির এক মরুভূমিতে। সে খানে অনাহারে থাকতে থাকতে মানুষটি ভারসম্য হারিয়ে ফেলে।বাড়িতে প্রতিবন্ধী বাবা নূরু মিয়ার কাছে হঠাৎ একদিন ফোন আসে তার ছেলে আবুল বাশার গত ১ জুলাই ২০১৯ ইং তারিখে রিয়াদ এমবিসির কাছে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে। খবর শোনার পর পরে পুরো পরিবারের মাঝে নেমে আসে শোকের কালো ছায়া। ছেলের শোকে প্রতিবন্ধী বাবা নূরু মিয়া এবং মা মমতাজ বেগম ঘুম ও খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেয়। টেনশনে পড়ে যায় বড় ভাই বিশ্বাবিদ্যালয়ে পড়ুয়া সাদ্দাম হোসেন। লাশের সন্ধান নিতে গেলে সৌদির স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারে আবুল বাশারের লাশ পুলিশে নিয়ে গেছে। কোথায় নিয়ে গেছে কেউ বলতে পারে নাই। দালাল সফিক মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে এড়িয়ে যায়। লাশের সন্ধানে সৌদিতে অনেক বাংলাদেশির লোকের কাছে ফোন করতে শুরু করে আবুল বাশারের আত্ত্বীয় – স্বজন। এই ভাবেই খোঁজবর নিতে নিতে বাড়িতে চলে এলো আবুল বাশারের লাশ কফিনে করে।

লাশ দেখে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দাফনে ধূলিসাৎ হয়ে যায় প্রতিবন্ধীর বাবার স্বপ্ন। নিহত আবুল বাশারের ভাই সাদ্দাম হোসেন ও মামা আল আমিন জানান, আবুল বাশার ছিল পরিবারের এক মাত্র উপার্জনকারী। তার উপার্জনে চলতো অভাবের সংসার। তারা প্রশাসের কাছে দালাল সফিকের বিচার চায়। এই দালালের কারাণে পরিবারের স্বপ্ন আজ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তারা আরো জানান,দালাল বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবারকে হুমকি ধুমকি দিচ্ছে।