নওগাঁয় হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া শিশু ১১ দিন পর ঠাকুরগাঁও থেকে উদ্ধার

142

রুহুল আমিন: নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া শিশু মুসা ১১দিন পর উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ঘটনায় আজিজা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির বাবার নাম ইসমাইল হোসেন ও মা বৃষ্টি বেগম। চুরি যাওয়া শিশুটির বাড়ী নওগাঁ সদর উপজেলার মঙ্গলপুর গ্রামে। আটক আজিজা বেগম জেলার বদলগাছী উপজেলার খাদাইল গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী। মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নওগাঁ সদর থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া।

তিনি বলেন, শিশুটি উদ্ধারে পুলিশের বিভিন্ন দল কাজ করেছে। ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগীতায় শিশুটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে সুস্থভাবে উদ্ধার করে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি এটাই বড় কথা। তবে আটককৃত মহিলা শিশু পাচারের সাথে জড়িত আছে কিনা বা এর সাথে আরো কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মামলার তদন্তের সার্থে অনেক কিছু বলাও সম্ভব না।

এসময় নওগাঁ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ফারজানা হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সুরাইয়া খাতুন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন, তদন্ত কর্মকর্তা ফায়সাল বিন আহসান সহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর নওগাঁ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে শিশু মুসা চুরি হয়। এর আগে ২ অক্টোবর ডায়রিয়া জনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালের নতুন ভবনের শিশু ওয়ার্ডে শিশু মুসাকে ভর্তি করানো হয়। এসময় তার মা বৃষ্টি ও দাদি সাথে থাকতেন। শিশু কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠায় তার মা তাকে নিয়ে ওয়ার্ডের বাহিরে এসে পায়চারি করছিলেন। তার পাশে এক অপরচিত মহিলাও ঘুরাঘুরি করছিল। ওই মহিলার হাতে শিশু মুসাকে দিয়ে ওয়ার্ডের ভিতরে বাচ্চার প্যান্ট নিতে যান। ওই মহিলা এক সময় কৌশলে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বাহিরে চলে যান। এতে শিশু ওয়ার্ডে কান্না ও হৈ চৈ শুরু হয়। পরে হাসপাতালের সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ থেকে বোরখা পরিহিত এক নারীকে ওই শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ বিষয়ে শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর শিশুটি উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ।