জলবায়ু বিপর্যয়রোধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানে ঝিনাইদহে মানববন্ধন

138

তরিকুল ইসলাম তারেক: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৩ নম্বর লক্ষ্যে জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে উচ্চ কার্বন নিঃসরনকারী দেশগুলো দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। আমরা চাই সরকারের পক্ষ হতে জলবায়ুর বিপর্যয় (ঈষরসধঃব ঈৎরংরং) স্বীকার করে জলবায়ু বিপর্যয় জনিত জরুরী অবস্থা ঈষরসধঃব ঊসবৎমবহপু ঘোষণা করার পাশাপাশি বিশ্বনেতৃত্বের উপর চাপ সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রতিরোধে বড় পরিবর্তনের জন্য এখনই আমাদের সবাইকে সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে। এই লক্ষ্যে ১৩ অক্টোবর ২০১৯ দু’ দিন ব্যাপি এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালার উদ্ভোদন করেন ঝিনাইদহ পৌরসভার মাননীয় মেয়র জনাব সাইদুল করিম মিন্টু। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৪ অক্টোবর ২০১৯ সকাল ১১.০০ টায় একতা উন্নয়ন সংগঠন, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউথ ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত “জলবায়ু বিপর্যয়রোধে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান” শীর্ষক মানব বন্ধন থেকে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। স্বাগত বক্তব্যে মো: মিঠুন বলেন, জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর ফলে সারা বিশ্বের প্রাণ-প্রকৃতি আজ হুমকির মুখে। বর্তমান বিশ্বে বাধ্যতামূলক অভিবাসন এবং জলবায়ু বিপর্যয় বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে লাখ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে অভিবাসনে বাধ্য হচ্ছে। এটি সরাসরি সামাজিকভাবে সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, এর ফলে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত এবং কার্যকর পদক্ষেপ। ঝিনাইদহ পৌরসভার মাননীয় মেয়র জনাব সাইদুল করিম মিন্টু, বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৩ নম্বর লক্ষ্যে জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা বলা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার পরও ২০০৯ সালে ৪শ’ মিলিয়ন ডলারের ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন’ করেছে এবং সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যে সাফল্য অর্জন করেছে অনেক দেশ তা অনুসরণ করছে। শুধু তাই নয় প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে কোস্টাল গ্রীন বেল্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মা সমাজ কল্যান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, জলবায়ুর বিপর্যয়ের ক্ষতিকর প্রভাব গত ২০ বছরে অ্যামেরিকা মহাদেশ থেকে শুরু করে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জলবায়ু বিপর্যয়ের অন্যতম কারন হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি। শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই বায়ুমন্ডলে তাপ ধরে রাখতে সক্ষম গ্যাসসমূহের পরিমান বাড়ছে। যার ফলে খরা, ঘূর্ণিঝড়, রেকর্ড পরিমান তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, ও জলোচ্ছাস, শিলাবৃষ্টি, টর্নেডো এবং সাইক্লোনের মাত্রা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, একতা উন্নয়ন সংগঠনের পরিচালক সুমন পারভেজ, বাংলাদেশ ইউথ ক্লাইমেট নেটওয়ার্ক এর শান্তনু বিশ্বাস, এ্যাডভোকেট আ. ন. ম. মাছুম বিল্লাহ ভূঁঞা, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর নেটওয়ার্ক অফিসার মোঃ মিঠুন, পদ্মা সমাজ কল্যান সংস্থার সদস্য, ঝিনাইদহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সহ একতা উন্নয়ন সংগঠনের সদস্য বৃন্দ প্রমুখ। দু’ দিন ব্যাপি এক কর্মশালার সমাপ্তিঘটে অংশগ্রহনকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরনের মধ্য দিয়ে।