টাকা নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের ঠাঁই দিয়েছেন যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিস

348

ফরিদপুর প্রতিনিধি: কেন্দ্রীয় যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানের কমিটি বাণিজ্যে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগ। এই দুই উপজেলায় শক্তিশালী কমিটি থাকতেই মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন ওই কেন্দ্রীয় নেতা। যার ফলে দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় নেতারা। নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছে জামায়াত বিএনপির লোকজন।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৩ মার্চ চতুল ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটুকে আহ্বায়ক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট বোয়ালমারী উপজেলা যুবলীগের একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ। ওই কমিটির আহ্বায়ক শরীফ সেলিমুজ্জামান লিটু ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. দাউদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, নির্দিষ্ট সময়ে উপজেলা সম্মেলন করার নির্দেশনা চাইলেও জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনের কারণে কেন্দ্র থেকে বারবার সম্মেলনের সময় পেছানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ জুলাই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সম্মেলনের সব প্রস্তুতি যখন সম্পন্ন তার এক দিন পূর্বে ৩০ জুলাই কোনো কারণ না দেখিয়েই ফোনে সম্মেলনটি স্থগিত করে দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান।

পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরেও সম্মেলনের তারিখ না দিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর গঠনতন্ত্র ও জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ফরিদপুর-১ আসনের এমপি মো. মুনজুর হোসেন বুলবুল কাজী আনিসকে ম্যানেজ করে ছাত্রদল থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী মো. রফিকুল ইসলামকে বোয়ালমারী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক করে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন একটি কমিটি অনুুমোদন করান। নতুন আহ্বায়ক কমিটির ১৯ নম্বর সদস্য শেখর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিয়ার, ২২ নম্বর সদস্য ঘোষপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ওবায়দুর রহমান, ১৬ নম্বর সদস্য মো. সাগর উপজেলা ছাত্রদলের ৫৫ নম্বর সদস্য ও ১৩ নম্বর সদস্য মো. নাজমুল উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির ১৫ নম্বর সদস্য। এ ছাড়াও নতুন কমিটিতে জামায়াত বিএনপির একাধিক কর্মী রয়েছে। যে কারণে নতুন কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে উপজেলার সর্বস্তরের যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে আলফাডাঙ্গা পৌর মেয়র ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফার রহমান সাইফুর জানান, বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মুনজুর হোসেন নিজের খেয়াল খুশি মতো জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দিয়ে উপজেলার শক্তিশালী যুবলীগ কমিটিকে বাদ দিয়ে নতুন একটি কমিটির অনুমোদন এনেছেন। যে কমিটির ১নং সদস্য জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী সাইফুল্লাহসহ একাধিক জামায়াত বিএনপির নেতাকর্মী।

ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুনজুর হোসেন বুলবুলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় (০১৭৬৬-৬৯৬০৯৯) এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।