চাদঁপুরে বজ্রপাতে শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত

109
আকিবুল ইসলাম হারেছঃ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে বজ্রপাতে দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছে। রোববার (৬ অক্টোবর) ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে দুপুর দেড়টায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, চান্দিনা উপজেলার কৈলাইন গ্রামের রাজমিস্ত্রি রশিদের মা অহিদা বেগম(৫৫), তার বোন রেহানা বেগম (২৭) রেহেনার দুই শিশু সন্তান সাব্বির (১২)ও সামিয়া (৮)।
নিহত রেহেনার স্বামীর বাড়ি কচুয়া উপজেলার আন্দির পাড় গ্রামে। এই ঘটনায় আরো ২৪ জন আহত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। সাজ্জাত হোসেন রবিনসহ বেশ কয়েকজন যুবক তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করেন।
বজ্রপাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শত শত মানুষ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভিড় জমায়। একই পরিবারের ৪ জনের লাশ দেখে অনেকেই শোকে কাতর হয়ে দুঃখ প্রকাশ করে, চোখের কোণে জল নেমে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন যুবক জানায়, রোববার দুপুরে তারা চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড একটি চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলো। দুপুরে যখন বৃষ্টি শুরু হয় তখন হঠাৎ বজ্রপাতের শব্দ শুনে তারা বড় স্টেশন মোলহেড নদীর তীরবর্তী বড় একটি গাছের নিচে ধোঁয়া উড়তে দেখে তারা সেখানে এগিয়ে গিয়ে নিহতদেরকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকতে দেখেন। পরে তারা বুঝতে পারেন তাদের শরীরে বজ্রপাত হয়েছে।
তারা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করেন।
নিহত অহিদা বেগমের মেয়ে সাহিদা বেগম জানান,তারা চাঁদপুরে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে তারা রোববার দুপুরে চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড ঘুরতে বের হন। আর তখন দুপুরবেলা হঠাৎ বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হলে তাদের গায়ে পড়ে।
এদিকে এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এস আই পলাশ বড়ুয়া হাসপাতালে গিয়ে লাশের পরিচয় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন।
অপরদিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগে কারো হাত নেই। নিহতদের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ময়না তদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।