আ’লীগের সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন: উৎসবমুখর কার্যালয়

35

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম চার সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ২ নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর যুবলীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ২৩ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এ ঘোষণার পরেই সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরূ করেছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ অফিসে আড্ডা ও শোডাউন দিতে শুরূ করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। বিকাল হলেই সংগঠনগুলোর অফিস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী অনেকেই কোণঠাসা ছিলেন। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণায় তারাও মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রীসহ নিজ নিজ বলয়ে যোগাযোগ বাড়াতে শুরূ করেছেন তারা। এছাড়া এতদিন সংগঠনগুলোর যেসব নেতাকর্মী শীর্ষ নেতাদের সুনজর কাড়তে সক্ষম হননি, তারাও সক্রিয় হতে শুররূ করেছেন।

বুধবার রাতে গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে অনির্ধারিত এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগেই সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম চার সংগঠনের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তিন সহযোগী সংগঠন- যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করতে হবে। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশ দিয়েছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, সম্মেলনের ঘোষণার পর থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় এবং দলের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগের চেয়ে ভিড় বেড়েছে। দুই অফিসের সামনে টানানো হয়েছে ব্যানার। এছাড়া শেখ হাসিনার আস্থাভাজন নেতাদের সঙ্গে কেউ কেউ যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার সুনজর পেতে বিভিন্ন কর্মসূচিও হাতে নিচ্ছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুররূ করেছেন অনেকে।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরূ হওয়ার পর প্রথম দিকে নেতাকর্মীদের খুব বেশি উপস্থিতি দেখা যায়নি যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। তবে সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশ আসার পরদিন সকাল থেকেই জমজমাট হতে শুরূ করে যুবলীগের অফিস। বৃহস্পতিবার বিকালে অফিসে সময় কাটিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. হারূনুর রশীদ। ছিলেন কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যও। তারা হলেন- মো. ফারূক হোসেন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার নিখিলগুহ প্রমুখ। এছাড়া বিভিন্ন সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় কমিটির আরও অন্তত ১৫-২০ জন নেতা এদিন যুবলীগ অফিসে আড্ডা দেন।

একই অবস্থা ছিল শুক্রবারও। এদিন বিকালে যুবলীগ অফিস ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। জানতে চাইলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় এক নেতা দৈনিক কালজয়ী প্রতিবেদককে বলেন, ‘সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর নেতাকর্মীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। যারা দলীয় প্রোগ্রাম ছাড়া খুব একটা আসতেন না, তারাও আসছেন। দু’দিন ধরে তো অফিসে বসার জায়গায়ই পাওয়া যায় না।’

জানতে চাইলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী শুক্রবার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়েছে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে নানা কারণে বিপর্যস্ত যুবলীগ নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ও বিশ্বাস বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বস্ত, সৎ, মেধাবী ও যোগ্যদেরই নেতৃত্বে বসাবেন।’

সম্মেলন সামনে রেখে যুবলীগের মতো স্বেচ্ছাসেবক লীগ অফিসেও ভিড় বেড়েছে। অন্যান্য দিনের চেয়ে ওই অফিসে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সংগঠনটির সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ উভয়েই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। ফলে সংগঠনটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের প্রাধান্য রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় যোগ্য অনেক নেতাই কোণঠাসা হয়ে আছেন। সম্মেলনের আভাস পেয়ে তাদের তৎপরতাও বেড়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হয় না প্রায় এক যুগ। সম্মেলনের ঘোষণার পর মহানগর নেতারাও উজ্জীবিত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদ বলেন, ‘সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরে মহানগরের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। আমরা চাই সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব আসুক।’ একই কথা বলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম মনোয়ারূল ইসলাম বিপুল।

সম্মেলনের ঘোষণায় নেতাকর্মীদের ভিড় বেড়েছে কৃষক লীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের অফিসেও। অফিসের সামনে এরই মধ্যে পোস্টার ও ব্যানার টানাতে শুরূ করেছেন কেউ কেউ। আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরূ করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্মেলনের চিঠি পেয়েছি। আমরা আগে থেকেই সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। এখনও আছি।’

এদিকে গত কয়েক দিনে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মতো আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়েও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে। কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের আসা-যাওয়া থাকে। দলের সংবাদ সম্মেলন বা কোনো বৈঠক থাকলে সেদিন উপস্থিতির সংখ্যা বেশি থাকে। তবে কয়েক দিন হল সন্ধ্যায় বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিত বেড়েছে। বিশেষ করে ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটিসহ সাবেক নেতাদের ভিড় অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হয়। ওই কাউন্সিলে সংগঠনটির চেয়ারম্যান হন ওমর ফারূক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হন হারূন-অর-রশিদ। ২০১২ সালের ১১ জুলাই মোল্লা মো. আবু কাওসারকে সভাপতি ও পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ কমিটি হয়। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কৃষক লীগের সর্বশেষ কমিটি হয় মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি ও খন্দকার শামসুল হক রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করে। সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন শ্রমিক লীগের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় ৩ বছর আগে।

নভেম্বরে এ চার সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে। রীতি অনুযারী কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের সম্মেলন সম্পন্ন করতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here