শেখ কামাল ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুলের ভাবনা

37

দৈনিক কালজয়ী ডেস্ক:  শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ৩য় আসর নিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, ক্রীড়া সংগঠক ও দেশ জুড়ে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম তার নিজস্ব ভাবনা নিজের ফেইসবুক আইডি তে তুলে ধরেছেন। যা হুবহু পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো……

আগামী ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম এম. এ. আজিজ স্টেডিয়ামে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ৩য় আসর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা যারা বঙ্গবন্ধু, শেখ কামাল ও তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের শ্রদ্ধা-ভালবাসার প্রতিচ্ছবিতে আবাহনীকে ভালবাসি আজ এই টুর্নামেন্টকে সর্বদিক থেকে সাফল্যম-িত করার লক্ষ্যে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে যা যা করা প্রয়োজন তা-তা করতে হবে। আমার সাথে এই ক্লাবে জন্মলগ্ন থেকে জড়িত থেকে যারা বিভিন্নভাবে আর্থিক ও কায়িক পরিশ্রমে বিভিন্ন অবদান রেখেছেন, এমনকি অনেকেই আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়েছেন। কেকেআরসি নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম আবাহনী ক্রীড়া চক্র করার ব্যাপারে মরহুম ইকবাল খাঁন (আকরাম খাঁনের বড় ভাই তামিম ইকবালের পিতা)সহ যে অবদান রেখেছিলেন তাদের কোন স্বার্থপরতা ছিল না। ছিল শুধু অফূরন্ত ভালবাসা। বর্তমানে ক্লাবটি এক ব্যক্তির কাছে পকেট বন্দী হয়ে ক্লাবের ভাবমূর্তি ভূ-লুন্ঠিত করে এটি তার আয়ের উৎস্য হিসেবে পরিণত করেছে। ক্লাবের নিবেদিত প্রাণ ক্রীড়া সংগঠকসহ যে মেয়র সিজেকেএস এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কমিটির বিনা অনুমোদনে কোটি টাকার মত খরচ করে এম. এ. আজিজ স্টেডিয়ামকে বর্নিলরূপে সাজাচ্ছেন আজ নিজের দোষ ঢাকা দিতে গিয়ে কথায় কথায় তাদেরকে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন। টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আবাহনী পরিবারের গর্বিত সদস্য মাননীয় অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাতে চাই: ১) আবাহনী ক্লাব কার্যালয়ে সৃষ্ঠ ঘটনাবলী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসার পর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শামশুল হক চৌধুরী ও তার ছেলে শারুন চৌধুরীকে এই টুর্নামেন্টের সকল প্রকার কর্মকা- থেকে বিরত রাখা হোক। ২) এই টুর্নামেন্টের সকল প্রকার হিসাব-নিকাশের জবাবদিহিতামূলক পরীক্ষা-নিরিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হোক। যাতে টুর্নামেন্টের পরে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিশোধিত টাকা ৩য় পক্ষের আত্মাসাতের মাধ্যমে পূর্বের ন্যায় অপরিশোধিত রেখে ক্লাব ও উহার মা-বাবা ধরে কারো কাছ থেকে কোন প্রকার গালি শুনতে না হয়। ৩) আমার কোন পদের প্রয়োজন নাই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে যখন ইতিহাস থেকে দূরে রাখা যায়নি আজ অথবা কাল চট্টগ্রাম আবাহনী প্রতিষ্ঠাতার স্বীকৃতি অবশ্যই আসবে। আমাদের ক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম বিএসসি ১২ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে কয়েক কোটি টাকা খরচসহ মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন এই ক্লাবের স্বার্থে। তাঁকে আপনার কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে অন্তভূক্ত করা হোক। এছাড়া আবাহনীর জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত যারা বিভিন্ন সময় সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ফুটবল কমিটি, ক্রিকেট কমিটি ও অন্যান্য উপ-কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তার তালিকা নিয়ে তাদেরকে ভিআইপি মর্যাদায় খেলা দেখার সুযোগ করে দেয়া হোক। আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর যে সকল কর্মকর্তা-সদস্য তখন থেকে এ পর্যন্ত ক্লাবের স্বার্থে অত্যাচারিত-নির্যাতিত হয়েছেন এবং ধারাবাহিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন তাদেরকে গ্যালারীর একটি স্থান নির্ধারণ করে খেলা দেখার সুযোগ করে দেয়া হোক। আবাহনী জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত আমার প্রাণপ্রিয় কর্মকর্তা সমর্থক ভাইয়েরা উপরোক্ত বক্তব্যটি আমার দাবী নয়। বিবেচনার জন্য জানানো হল। যদি কোনটিই দেওয়া না হয় তাহলেও আমাদের শপথ নিতে হবে এই টুর্নামেন্টে শহীদ শেখ কামালের আত্মা ও তাঁর সম্মান জড়িত, তাই নিজ নিজ ধর্মের শপথ নিয়ে এই টুর্নামেন্টটি সাফল্যম-িত করার স্ব-স্ব অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব অবশ্যই পালন করতে হবে। বিদেশী দলগুলো যাতে বুঝতে পারে যে, বাংলাদেশের আধুনিক ফুটবলের জনক শেখ কামালের এই ক্লাব ও উহার সমর্থকগণ খেলার জন্য অত্যন্ত আন্তরিক। যাদের রক্তে ক্রীড়া প্রেম আছে তাদের কাছে কোন প্রকার সুবিধা পাওয়াটা মুখ্য নয়।

( চট্টগ্রাম আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, ক্রীড়া সংগঠক দিদারুল আলম এর ফেইসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here