রেনিটিডিন বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

122

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসিড নিঃসরণ প্রতিরোধসহ পেটের পীড়ার নানা উপসর্গের চিকিৎসায় বহুল প্রচলিত ওষুধ রেনিটিডিন ট্যাবলেটে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতি মিলেছে। যে কারণে বিশ্ববাজার থেকে ওষুধটি তুলে নেয়ার ঘোষণা এসেছে আগেই। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওষুধ সরবরাহে নিয়েছে বিশেষ সতর্কতা। বাংলাদেশে রেনিটিডিন গ্রুপের ওষুধ উৎপাদন করে ছোট বড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর।

বিশ্বের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী ব্রিটিশ সংস্থা গ্লাক্সো স্মিথক্লাইন (জিএসকে) এ ওষুধটি বাজার থেকে তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রেনিটিডিন ট্যাবলেটে ক্যান্সারের উপাদানের উপস্থিতির বিষয়ে তদন্ত শুরুর পর ওই কোম্পানির পক্ষ থেকে এ ঘোষণাটি আসল।
গ্লাক্সো স্মিথক্লাইন রেনিটিডিন তুলে নিলেও অন্যান্য সংস্থা গ্যাসের চিকিৎসার এই ওষুধ তুলে নিচ্ছে কি-না সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রেনিটিডিনে পরিবেশ দূষণকারী হিসেবে পরিচিত এনডিএমএ-র স্বল্পমাত্রার উপস্থিতি রয়েছে। পরিবেশ দূষণকারী এ উপাদান অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য এবং পানিতেও পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বাংলদেশে রেনিটিডিন গ্রুপের ওষুধ উৎপাদন করে ছোট বড় শতাধিক প্রতিষ্ঠান। তাদের মধ্যে ৭০টি ওষুধ কোম্পানির রেনিটিডিন গুপের ওষুধের উৎপাদন চলবে কি-না তা নির্ধারণে গতকাল রোববার জরূরি সভা হয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে। তিনি আরো বলেন, জিএসকে গত বছর বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা গুঁটিয়ে নিয়েছে। তবুও বাজারে তাদের রেনিটিডিন থাকতে পারে। এ ওষুধগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হবে। তবে দেশীয় ৭০টি কোম্পানির রেনিটিডিন বাজার থেকে প্রত্যাহারের আগে সেগুলো সত্যিই জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি কি-না তা নিশ্চিত হতে হবে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে রেনিটিডিন ও রেনিটিডিন গ্রুপের অন্যান্য সব ট্যাবলেট স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা স্যানডোজ। গ্লাক্সো স্মিথ ক্লাইনের এক মুখপাত্র বলেছেন, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্ববাজারে রেনিটিডিন উৎপাদন, বাজারজাত ও সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া। বর্তমানে বাংলাদেশের ৩১টি ওষুধ কোম্পানি প্রতিবেশী দেশ ভারতের ফারাক্কা নামক একটি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিন ট্যাবলেটের কাঁচামাল আমদানি করে। এছাড়া ডক্টর রেড্ডি নামক আরেকটি কোম্পানির কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্লাক লিস্টে তালিকাভুক্ত থাকলেও সেখান থেকে এখনো আমদানি করা হয়নি। জনস্বার্থ বিবেচনায় এ দুটি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিনের কাঁচামাল আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া ওই কোম্পানি থেকে আমদানিকৃত কাঁচামাল বিষয়ে নতুন করে কোনো রেনিটিডিন উৎপাদন করা যাবে না। শুধু তাই নয়, বাজার থেকে কোম্পানিগুলো স্ব-উদ্যোগে রেনিটিডিন ট্যাবলেট প্রত্যাহার করে নেবে।