সরাইলে দুস্থ শ্রমিকরা জেলে! মূল আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে 

82

মোঃ তাসলিম উদ্দিন: সরাইলে রিলিফের চাল পাচারে মামলার মুল আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে একটি বিশেষ মহলের বিশেষ কৌশলে কলকাঠি নারছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন সবার প্রশ্ন  সরকারি রিলিফের চাল পাচারে মুল আসামীরা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার  সরাইলে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ লিখা শতাধিক বস্তা রিলিফের চাল পাচারের সময়ে আটক হওয়া মামলার মূল আসামীরা অদ্যাবদি গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়,মামলায় প্রকৃত আসামিদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখতে একটি বিশেষ মহল তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ মামলায় এজাহারভুক্ত সাতজন ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও রিলিফের এসব চাল উদ্ধারের সময়ে আটক পাঁচ দুস্থ শ্রমিককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এ মামলার এজাহার নামীয় অন্যতম আসামি শাহজাহান ও ওসমান এই দুইজনকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। এলাকাবাসী মনে করেন, শাহজাহান গ্রেফতার হলে সরকারি এ চাল পাচারের সাথে জড়িত মূল হোতাদের আসল গুমর ফাঁস হবে। উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি’র ১০০ বস্তা চাল আটক করে পুলিশ। এসময় দুটি ট্রাক্টর সহ পাঁচ শ্রমিক শাকিল, রাজন, সাইফুর রহমান, মাসুদ ও তৌহিদ মিয়া ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের হাতে আটক হন। আটক শ্রমিকেরা পুলিশকে জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্যের ছেলে শাহজাহান মিয়ার কথামতো তারা এসব চালের বস্তা শাহজাদাপুর ইউপি ভবন থেকে এনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মামার বাড়িতে মজুত করেন। এদিকে সরকারি এ চাল উদ্ধারের ঘটনায় সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব ও সেই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারকে (রিলিফ অফিসার) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পরবর্তীতে তাঁরা তিন কার্য দিবসের মধ্যে নোটিশের জবাবও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সেই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা কাজী আবদুল মোমেন জানান, আমি শোকজ এর জবাব দিয়েছি। তিনি দাবি করেন, ভিজিডি’র রিলিফ বিতরণে ইউপি চেয়ারম্যান নিয়মবহির্ভূত কাজ করেছেন। এসবের আমি কিছুই জানিনা, অথচ চাল বিতরণ করা হয়েছে। এই রিলিফের চাল বিতরণের দায়ভার সম্পূর্ণ চেয়ারম্যানের। এ ব্যাপারে সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুরুল হকের সাথে হলে  এ প্রতিবেদককে বলেন, এ মামলায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। এটি সরকারি চাল আত্মসাৎ মামলা। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ মামলায় আটক পাঁচজনের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্তকারী অফিসার আদালতে উপস্থিত থেকে এ রিমান্ড শুনানিতে অংশ নিবেন। আসামি শাহজাহান মিয়াকে গ্রেফতার করতে আমরা ইতোমধ্যে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছিলাম। তবে তাকে গ্রেফতারে আমরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।