ব্যাপক অস্ত্রসহ ইবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মহড়া : উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

41

অনি আতিকুর রহমান: নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়া ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়গ্রুপের নেতাকর্মীদের সাথে দেশীয় ও ভারী অস্ত্র-সস্ত্রসহ বহিরাগত ক্যাডারদের দেখা গেছে।

দলীয় ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বহিরাগত ক্যাডারসহ ক্যাম্পাসে ঢুকে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বিষয়টি টের পেয়ে বঙ্গবন্ধু হলসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের (মাসুদ-আরাফাত) নেতাকর্মীরা। পরে সাধারণ সম্পাদক রাকিব জিয়া মোড়ে কিছুসময় অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাসের বাহিরে চলে যান। এদিকে বিকেল ৫টার দিকে সভাপতি-সম্পাদকের একটি গ্রুপ লালন শাহ হল থেকে শেখ রাসেল হলের দিকে অগ্রসর হলে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

পরে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা তৌকির মাহফুজ মাসুদ, শিশির ইসলাম বাবু, ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, মিজানুর রহমান লালন, জুবায়ের আল মাহমুদ প্রমুখের নেতৃত্বে প্রধান ফটকের দিকে এগিয়ে যায়। এসময় তারা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে প্রধান ফটক পার হয়ে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কে অবস্থানরত সাধারণ সম্পাদকের কর্মীদের ধাওয়া করে। এতে তারা পালিয়ে যায়। পরে প্রধান ফটকের সামনেই এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বিদ্রোহীরা। সমাবেশ শেষে পুণরায় স্লোগান দিতে দিতে ক্যাম্পাসে ঢুকে এবং বিভিন্ন হলে গিয়ে মহড়া দেয়। মহড়া শেষে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে জিয়া মোড়ে এসে আবার সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।

এদিকে এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। হাসুয়া, চাপাতি, হকস্টিক, বাঁশের লাঠিসোডাসহ দেশীয় ও ভারি অস্ত্র প্রদর্শনের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, সাধারণ সম্পাদক রাকিব ২০-২৫ জন বহিরাগত ক্যাডারদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছিলো। তাই আমরা তাদের প্রতিরোধ করেছি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকিদাতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর গ্রেফতার ও শাস্তি দাবিতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিয়েছে ইবি ছাত্রলীগের দু’পক্ষ। ফলে এনিয়েও বাড়তি ভীতি দেখা দিয়েছে নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমি আগামীকালের প্রেগ্র্রামের জন্য নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলতে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। আমি কয়েক মিনিট সেখানে থেকে বাইরে চলে এসেছি। আমার সাথে কোন বহিরাগত ক্যাডার ছিলো না। আর যারা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবো।

ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি দুঃখজনক। তারা আমাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়া মানে নিজেদের বিরুদ্ধেই স্লোগান দেয়া। কারণ, আমরা সবাই ছাত্রলীগ। তারপরও যদি তাদের কোন অভিযোগ থেকে থাকে সেটি কেন্দ্রে বলুক, তারা আমাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবে। কিংবা তারা নিজেরাই আলোচনার টেবিলে বসুক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাসিমুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাসে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, আমরা তাদের ডাটা কালেক্ট করছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পরিস্থিতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here