পরিদর্শকহীন বন্ধ ঘরে বসে একদিনেই দিলেন ৩ পরীক্ষা!

32

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: পরীক্ষার হলে নেই কোন পরিদর্শক, ভিতর থেকে সিটকিনী আটকে দরজাও বন্ধ। এই রকম পরীক্ষার হলে বসে একদিনেই তিনটি পরীক্ষা দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক শিক্ষার্থী। ১৮ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অবশ্য সেই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি কর্তৃপক্ষ। তবে তিনি নবম ব্যাচের ছাত্র বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সেই পরীক্ষার হল আসলে কোন হল ছিলো না। সেটি ছিলো আইন বিভাগের স্টোর রুম। ওই শিক্ষার্থী সেখানে বসে মোবাইল ফোনে নকল বহন করে একদিনেই তিনটি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

প্রথম সেমিস্টারের ১০৫, ১০৬ ও ১০৭ কোর্সের পরীক্ষা তিনি তৃতীয় সেমিস্টারে এসে দিয়েছেন। উক্ত কোর্সগুলোর প্রশ্নপত্র সংশিষ্ট শিক্ষক কর্তৃক প্রণীত হয়নি বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনায় আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর সাজ্জাদুর রহমান টিটুকে বিধিবহির্ভূত ও পরীক্ষা শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করায় সান্ধ্যকালীনসহ সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের সভাপতি ও ছাত্র উপদেষ্টা কর্তৃক উপাচার্য বরাবর পৃথক পৃথক লিখিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধিবিধান না মেনে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা তৃতীয় সেমিস্টারে দেয়া, পরিদর্শক ব্যতীত একই দিনে ৯ ঘণ্টায় তিন পরীক্ষা নেয়া, নকল করার সুযোগ দিয়ে স্টোর রুমে পরীক্ষা নেয়া, প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষক কর্তৃক প্রণয়ন না করা, মনোনীত পরিদর্শক কর্তৃক পরীক্ষা গ্রহণ না করে কর্মচারীর মাধ্যমে পরীক্ষার খাতা ও প্রশ্নপত্র প্রদান করায় প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাজ্জাদুর রহমান টিটুর বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে না; তা পত্র প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সান্ধ্যাকালীন কোর্স নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও বহু বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী তা তুলে দেন। কিন্তু শিক্ষক সমিতির চাপে এই বিতর্কিত কোর্স পুণরায় চালু করতেতিনি বাধ্য হন। চালুর কয়েক মাসের মাথায় পুণরায় এমন গুরুতর জালিয়াতির কথা প্রকাশ পেয়েছে। এতে সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here