মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা ও মানববন্ধন

110

শাহজাহান আলী মনন: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ২ নম্বর কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ এনামুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন শাখার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলের ভোটগ্রহন অনুষ্ঠানে সভাপতি পদে এক প্রার্থীকে মারপিট ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ওই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামীদের গ্রেফতার ও মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ৭ সেপ্টেম্বর সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি অম্লান চত্বরে মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল স্কুল।
কাউন্সিলে সভাপতি প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোখলেছুর রহমান বাদি হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর নীলফামারীর সৈয়দপুর থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী ছাড়াও তাঁর দুই ছেলে, ভাতিজাসহ ১১ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরো ২৫-৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার হাজারীহাট স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গনে আয়োজিত ওই কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের ভোট গ্রহন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। কাউন্সিলের ভোট গ্রহন শেষে রাত আনুষ্ঠানিক সাড়ে ৮ টার দিকে গণনাকালে সভাপতি পদের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোখলেছুর রহমান ১৪৮ ভোট পেয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। আর এ খবর জানামাত্র কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরীর নির্দেশে তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট মোঃ সৌরভ আলীর (৩৫) জানালা দিয়ে চিৎকার দেয়। এ সময় তার চিৎকারে বাইরে থাকা মোঃ তোফা মামুদ, বুলবুল চৌধুরী, মোঃ ডিউ, অলিয়ার রহমান, মোঃ সায়েম, নবী হোসেন, শাহীন, নাজির মাষ্টার ও রাশেদ চৌধুরীসহ অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০ জন ব্যক্তি লাঠি সোটা, লোহার রড, ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্রেসন্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি অনুযায়ী হাজারীহাট স্কুল ও কলেজ ভবনের ভোট গণনা কক্ষে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরবর্তীতে সৌরভ আলী তাঁর দুই হাত দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমানের গলা চেপে ধরে শ্বাষরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় মামলার অন্যান্য আসামী মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর মেরুদন্ডের মধ্যবর্তী স্থানে সজোরে আঘাত করাসহ কিলঘুষি মেরে কক্ষের বাইরে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে মোখলেছুর রহমানের নাতি স্বপন ঘটনাটি টের পেয়ে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মামলার আসামীরা তাকেও বেদম মারপিট করে। এ সময় হামলাকারী মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমানের পকেটে থাকা ৪৬ হাজার টাকা, স্বপনের প্যান্টের পকেটে থাকা ১২ হাজার টাকা ও একটি আইফোন চুরি করে নেয়।

এ ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত লোকজন মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান ও তাঁর নাতি স্বপনকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। তারা উভয়ে সেখানে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোখলেছুর রহমান নিজে বাদী হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে কাশিরাম বেলপুকুর ইউপি চেয়ারম্যানকে এক নম্বর আসামী করে ১১ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত আরো ২৫-৩০জনকে আসামী করা হয়েছে। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/ ৩২৬/৩০৭/ ৩৭৯/৩৪ ধারায় ওই মামলা রুজ্জু করা হয়। মামলা নম্বর: ২, তারিখ: ০২/০৯/২০১৯ইং।

সৈয়দপুর থানা অফিসার ইনচার্জ শাহ্জাহান পাশা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দিলীপ কুমার রায়কে মামলাটির তদন্ত অফিসার করা হয়েছে।