রেলওয়ে জমিতে বসবসাকারীদের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবে ‘অধিকার’

41

শাহজাহান আলী মনন: নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে জমিতে বসবাসকারীদের স্ব স্ব অবস্থানে স্থীয় বরাদ্দ-বন্দোবস্ত না হওয়া পর্যন্ত অধিকারের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন সৈয়দপুরে রেলওয়ে জমিতে বসবাসকারীদের সংগঠন ‘অধিকার’ এর নেতৃবৃন্দ। গত ৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে শহরের শেরে বাংলা রোডস্থ তামান্না সিনেমা হল মোড়ে বিশাল জনসভায় এ প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

অধিকার এর সভাপতি সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন বলেন, উচ্ছেদ আতংকের দিন শেষ, আপনারা ঘরে শান্তিতে ঘুমাবেন কারণ অধিকার মাঠে আছে।

সভায় অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একরামুল হক, বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ওবায়দুর রহমান, উর্দূভাষীদের নেতা ও রেলওয়ে ভূমি থেকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিটকারী আশরাফুল হক বাবু, সাবেক পৌর মেয়র আখতার হোসেন বাদল, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সৈয়দপুর সরকারী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাখাওয়াত হোসেন খোকন, সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সানজিদা বেগম লাকি, বাম গণতান্ত্রিক জোটের নীলফামারী জেলা নেতা এ্যাড. তুষার কান্তি রায়, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক আলাপন সম্পাদক সাংবাদিক আমিনুল হক, সাপ্তাহিক জনসমস্যা সম্পাদক ও বিএনপি নেতা শওকত হায়াত শাহ, রেল শ্রমিক নেতা আব্দুর রশিদ, রেলওয়ে ম্যান্স এর সভাপতি আনোয়ার হোসেন বাঙালী, পৌর বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক শামসুল আলম, অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মোহাম্মদ তাসলীম, আটকেপড়া পাকিস্তানী ক্যাম্প নেতা মাজিদ ইকবাল, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আখতার হোসেন ফেকু, সাবেক কাউন্সিলর আবুল কাসেম দুলু সরকার, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল হাফিজ হাপ্পু, জাতীয় পার্টির নেতা আলতাফ হোসেন, ব্যবসায়ী কায়সার আহমেদ, জেলা যুব সংহতি সভাপতি রওশদ মাহানামা প্রমুখ।

জনসভায় বক্তারা বলেন, উচ্ছেদতো দূরের কথা কোন গরীবের বাড়ীর একটি ইটও খুলতে দেওয়া হবে না। উচ্ছেদ আতংকে থাকা মানুষদের আশ্বস্ত করে বক্তরা আরো বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকুন ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর কোন উচ্ছেদ হচ্ছে না সৈয়দপুরে, আমরা হতে দিবো না। তবে রেলওয়ে জমিতে বসবাসকারীদের এখন স্থায়ী সমাধান একান্ত জরুরী। এভাবে বার বার আতংকে না থেকে আমাদের স্থয়ী সমাধানের দিকে এগুতে হবে। আর স্থায়ী সমাধানের জন্য যা যা করা দরকার এখন অধিকার তাই করবে।

বক্তারা বলেন, যে প্রধানমন্ত্রী শহর থেকে গ্রাম সকল জায়গায় গৃহহীনদের ঘর তৈরী কওে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ যেনো গৃহহীন না থাকে সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নিদের্শ দিয়েছেন। সেই প্রধানমন্ত্রী কখনো পুনর্বাসন না করে কাউকে উচ্ছেদ করতেই পারেন না। ১১ লাখ রোহিঙ্গার স্থান করে দিয়েছেন যিনি। এটা রেলওয়ে কিছু অসাধু আমলার কারসাজী। আর জনগনকে নিয়ে সকল কারসাজীর দাতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে। সভা শেষে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪ টায় বিশাল মানববন্ধন পালনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়। জনসভায় উচ্ছেদ আতংকে থাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ সহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহন করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here