এমপি বাহারের নেতৃত্বে আগরতলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান পরিদর্শন

31

দেলোয়ার হোসেন জাকির: বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি দল ভারতের আগরতলা সফরের দ্বিতীয় দিনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেণ।  ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের আমন্ত্রনে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ একাডেমী ট্রাস্ট, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, বাংলাদেশ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রানালয় ও ত্রিপুরার আগরতলা বাংলাদেশের সহকারি হাই কমিশন যৌথ ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের এ সফরের আয়োজন করে। বৃহস্পতিবার ( ৫ সেপ্টেম্বর ) মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান পরিদর্শনের নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রতিনিধি দল ত্রিপুরা বিশ^বিদ্যালয়, সিপাহীজলা জেলার দক্ষিন ছরিারাম ছেসুরিমাই গঙ্গা-যমুনা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প, বিশালগড় প্রধান মুক্তিযুদ্ধ ইয়ুথ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

প্রথমে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান পরিদর্শন দল। সেখানে এমপি বাহার ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাগত জানান ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভি কে ধারুরকার। পরে বিশ^বিদ্যালয় হল রুমে আলোচনা ও পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিনিধি দলের সদস্যদের উত্তরীয় ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরার নিজ নিজ জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন প্রতিনিধি দলের প্রধান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি ভি কে ধারুরকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন প্রফেসর চন্দ্রিকা বাসু, ট্রেজারার প্রফেসর সুকান্ত বনিক, প্রফেসর ড. আলোক ভট্টাচার্য, প্রফেসর ড. জার কৌশল, নিউ দিল্লি বাংলাদেশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার এ টি এম রকিবুল হক, আগরতলা বাংলাদেশ হাই কমিশনের সহকারি হাই কমিশনার কিরিটি চাকমা, মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হাসান পাখি, এডভোকেট রুস্তম আলী, সাবেক তথ্য কমিশনার মো. আজিজুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. আবুল কালাম আজাদ ও কুমিল্লা জেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফিউল আহমেদ বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর আনোয়ারা বেগম।

জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জম্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পুর্তি উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ত্রিপুরা রাজ্যে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর স্বরণার্থী শিবির ও স্মৃতি বিজড়িত স্থান সমূহ পরিদর্শন ও ভারত বাংলাদেশে যৌথভাবে তিন বছর ব্যাপি অনুষ্ঠানমালা হাতে নেয়। এর অংশ হিসেবে প্রথম চার দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় ৪ সেপ্টেম্বর। উদ্বেধনী অনুষ্ঠানের দিতীয় দিনে সফরকারি মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি দল ও দুই দেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা সিপাহীজলা জেলার দক্ষিন ছরিরাম ছেসুরিমাই গঙ্গা-যমুনা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ও বিশালগড় প্রধান মুক্তিযুদ্ধ ইয়ুথ ক্যাম্প স্থানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। সেখানে সকলে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্মৃতিচারণ করেন। মুক্তিযুদ্ধেও স্মৃতি বিজড়িত সিপাহীজলা জেলার দক্ষিন ছরিারাম ছেসুরিমাই গঙ্গা-যমুনা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প, বিশালগড় প্রধান মুক্তিযুদ্ধ ইয়ুথ ক্যাম্প এলাকায় স্মৃতি ভাস্কর্য নির্মান করার জন্য দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে দ্রুত আলোচনা করার কথা জানান।

ওই স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় কুমিল্লা সদও আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রন জানানোর জন্য ভারত সরকার ও ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এমপি বাহার বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুর মানুষ যেভাবে সে সময়ে বাংলাদেশের জনগনকে সাহায্য সহযোগিতা করেছে তা ভুলবার নয় বাংলাদেশের মানুষ কৃতজ্ঞতার সাথে তা স্মরণ করে। দুই দিনের সফর শেষে ৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে সফর সঙ্গীদের নিয়ে দেশে ফিরেন সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here