বুড়িচংয়ে ২০-২৫টি গ্রামে বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদন

31
সৌরভ মাহমুদ হারুন: কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমশার এলাকা, ময়নামতি ইউনিয়ন এবং  ভারেল্লা দক্ষিণ ও ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের  চাষিরা নিরাপদ বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।চলতি মৌসুমে এই সমস্ত ইউনিয়নের প্রায় ২০-২৫ টি গ্রামের কৃষকরা বিষ মুক্ত বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে বাজার জাত করছেন কৃষকরা। এতে ওই এলাকার জন সাধারণের মাঝে সবজি স্বাস্থ্য সম্মত হিসেবে  পরিচিতি লাভ করছে এবং এধরণের সবজি উৎপাদনে কৃষকগন খুবই আগ্রহী হয়ে উঠছে। এলাকা ঘুরে জানা গেছে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়ন, ময়নামতি ইউনিয়ন, ভারেল্লা উত্তর এবং ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের চাষিরা এ মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে বিষ মুক্ত ভাবে উৎপাদন করা হচ্চে। এদিকে মোকাম ইউপির নিমসারের আশপাশের  কয়েকটি গ্রামে বিষমুক্ত ও কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণমুক্ত রেখে ক্ষতিকর পোকা ও রোগবালাইমুক্ত এই সবজি এখন বিক্রি চলছে উপজেলার ৭-৮ টি হাট বাজারে। কুমিল্লার  বুড়িচং উপজেলা কৃষি অফিসের এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার পিকেএসএফের সহযোগিতায় এই সবজি উৎপাদন করছে। উপজেলার সৈয়দপুর,  নিমসার,কোরপাই, কেদারপুর, শাহদিলার বাগ, মনশাসন, হালগাঁও, পাঁচকিত্তা, কেমতলী, কালীরবাজার, কাকিয়ারচর, চানগাঁও, চানগাছা, চিকুটিয়া, কৃষ্ণপুর, কোরপাই, পরিহলপাড়া, লোহারচর, মিথলমা, কাবিলা ও গোবিন্দপুর,কংশনগর, পশ্চিম সিংহ,আবিদপুর,গজারিয়া,জিয়াপুর,শাহদৌলতপুর,দেবপুর,এলাকায় নিরাপদ এই সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। এই এলাকার কয়েকটি  গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে সবুজের মধ্যে নানা প্রজাতির সবজি। কোনোটি হলুদ, কোনটি সবুজ। প্রান্তিক কৃষক কেউ চিংড়া (দেখতে চালকুমড়ার মতো, কিন্তু হলুদ রং, এটি সালাদ ও সবজি হিসেবে খাওয়া যায়) কাটছেন। কেউ বরবটি তুলছেন। কেউ পুঁইশাক, ডাঁটা লালশাক, লাউ কিংবা ঝিঙা তুলছেন। পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের কৃষি কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ বলেন, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৭০৫ শতক জমিতে ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০ কেজি সবজি উত্পাদিত হয়। এর বাজারমূল্য ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ২৫০ টাকা। এ ছাড়া ১৪৫ শতক জমিতে ব্রকলি, রেড ক্যাবেজ, শালগম, গাজর, বেবি তরমুজ ও ক্যাপসিকাম উত্পাদন করা হয়। এতে ১২ হাজার ৪৬০ কেজি সবজি উত্পাদিত হয়। ৪ লাখ ৫ হাজার ৭০০ টাকায় এই সবজি বিক্রি করা হয়। পরে সেগুলো মোকাম কৃষিপণ্য বিপণনকেন্দ্রে তোলা হয়। সেখান থেকে পাইকারেরা এসে নিয়ে যান। কোরপাই গ্রামের আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার এখানে গাজর ভালো হয়েছে।’ গোবিন্দপুর গ্রামের আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমার এখানে চিংড়ার ভালো ফলন হয়েছে।’ পেইজের নির্বাহী পরিচালক লোকমান হাকিম বলেন, সবজি চাষে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার, ভার্মি কম্পোস্ট উত্পাদন ও ব্যবহার করে নিরাপদ সবজি চাষ করা হয়। ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। পেইজের কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘২০১৪ সালের জুলাই মাসে আমরা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী ও বাগমারা এলাকায় সবজি চাষ শুরু করি। গত বছর থেকে এ পর্যন্ত ৭৫ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এরপর ২৩২টি প্রদর্শনী করেছি। ৪৫ দিনের মধ্যে সবজি চলে আসে। লাভ বেশি।’ এদিকে বুড়িচং উপজেলা কৃষি বিদ কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শামীম হোসেন  বলেন আমরা বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদন কৃষকদের বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বিষ মুক্ত সবজি স্বাস্হ্য সম্মড।এ মৌসুমে সবজির জন্য লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৮৫ হেক্টর জমি। সেক্ষেতে অর্জিত হয়েছে ৫৮০ হেক্টর জমি। দিন দিন কৃষকগন এধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তারা সবজি ও ফসল উৎপাদন করছে এবং আগ্রহী হয়ে উঠছে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে সকল সবজি ও ফসলে উৎপাদনে বিষ মুক্ত ভাবে চাষ করা। তাহলে জন স্বাস্থ  হবে ঝুঁকি মুক্ত। জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, ‘নিরাপদ বিষমুক্ত সবজি কুমিল্লা নগরবাসীও খেতে পারবেন। পেইজের উৎপাদিত সবজি কুমিল্লা নগরে কৃষি বিপণন কেন্দ্র করে বিক্রির জন্য বলা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here