সিরাজগঞ্জে ভুয়া ডাক্তার কামরুল হাসান অপু কারাগারে

109

হুমায়ুন কবির সুমন: সিরাজগঞ্জ কামারখন্দ উপজেলায় এমবিবিএস পাস না করেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার (ভুয়া ডাক্তার) কামরুল হাসান অপু এখন কারাগারে। তিনি টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলার সাবালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে ও সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল বাজার এলাকার বিশিষ্ট ঠিকাদার ও সাধারণ ব্যবসায়ী এসএম নজরুল ইসলামের জামাতা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদৎ হোসেন প্রাং এর আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তার আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. আব্দুর রউফ পান্না।

তিনি জানান, বিভিন্ন অনলাইনে ‘সিরাজগঞ্জে এমবিবিএস পাস না করেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার!’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ও কামারখন্দ থানাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু উভয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ভুয়া ডাক্তার পলাতক ও ডায়াগনষ্টিক কমপ্লেক্সটি বন্ধ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে বিজ্ঞ আদালত জনস্বার্থ বিবেচনায় কামারখন্দ থানাকে মামলা করার নির্দেশ দিলে ১৬জুলাই ২০১৯ এসআই ইয়ামিন সরকার বাদি হয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৮(২)(৩)/২৯(১)সহ পেনাল কোর্টের ৪১৯/৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০৮ এবং জিআর নং-৬৩/২০১৯। তিনি আরো জানান, কথিত ডাক্তার কামরুল হাসান অপু ২০ আগষ্ট মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ক্রিমিনাল মিস কেস নং- ৪৭৫৭৮/২০১৯ মুলে আদালত থেকে দুই সাপ্তাহের জন্য জামিন প্রাপ্ত হন। ২ সেপ্টেম্বর সোমবার ছিলো ওই জামিন মেয়াদের শেষ দিন। ০৩ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিজ্ঞ আদলত জামিন নামুঞ্জুর করে।

উল্লেখ্য, ভুয়া ডাক্তার কামরুল হাসান অপু প্রায় তিন বছর ধরে কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল বাজারের বিশিষ্ট ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী এসএম নজরুল ইসলামের মেয়েকে ডাক্তার পরিচয়ে বিয়ে করে তার শাশুড়ির নামে প্রতিষ্ঠিত ইবনেসিনা আস্থা ডায়াগনষ্টিক কমপ্লেক্সে বসে প্র্যাকটিস শুরু করেন। তিনি তার ‘প্রেসক্রিপশন, ভিজিটিং কার্ড ও সাইন বোর্ডে এমবিএস (আরএমসি), পিজিটি (মেডিসিন), সিএমইউ আল্ট্রা, প্রাক্তন অনারারি মেডিকেল অফিসার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, ব্যবহার করছিলেন। এছাড়া শিশু, বাতব্যথা, মাথাব্যথা, বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিষয়ে বিশেষ অভিজ্ঞ’ বলে এক শ্রেণীর দালালের মাধ্যমে গ্রামের নিরীহ, গরীর ও অসহায় মানুষদের চিকিৎসা দেয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিলেন। সম্প্রতি তথ্যানুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার কামরুল হাসান অপুর প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র।

২৬ জুন ২০১৯ইং তারিখে কামরুল হাসান অপু’র কাছে বিএমডিসি’র নিবন্ধন নম্বর দেখতে চাইলে ডাক্তার অপু নানা টালবাহানা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ডাক্তার অপু জানান, তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ৪৭তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। পেটের তাগিদে ভুয়া ডাক্তার সাজতে বাধ্য হয়েছেন। এমন কাজ অপরাধ বলেও স্বীকার করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here