তানজিলার করুণ অবস্থার জন্য দায়ী কারা?

34

হুমায়ুন কবির সুমন: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দুখিয়াবাড়ী গ্রামের বইয়ের দোকানি আনোয়ার হোসেন ও রেহেনা খাতুনের সাত বছর বয়সের মেয়ে তানজিলা। ডান ও বাঁ কানে চিপের পাশে চামড়ায় সূক্ষ্ণ ছিদ্র নিয়ে জন্মেছে সে। যাকে চিকিৎসকদের ভাষায় বলে ‘প্রি-অরিকুলার সাইনাস’ রোগ। ছিদ্রের কারণে কানের নিচে চামড়ার ওপরে মাঝেমধ্যে গোটাকৃতি হলেও কিছুদিন পর আপনা-আপনি তা মিশে যেত। এতে তেমন অসুবিধাও হতো না তার। অন্যান্য শিশুর মতোই উচ্ছল, দুরন্তপনা ছিল সে। তবে কিছুদিন আগে অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকদের কাছে গিয়েই ঘটেছে আরেক বিপদ। অস্ত্রোপচারের সময় ‘অক্সিজেন-স্বল্পতায়’ মস্তিস্কের ক্ষমতা লোপ পেয়েছে তার।

শিশুটির বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে গত ২০ মে তানজিলার অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ‘প্রি-অরিকুলার সাইনাস’ ছিদ্র বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচারের সময় অক্সিজেন-স্বল্পতায় শ্বাসকার্যে ব্যাঘাত ঘটায় আকস্মিক ‘ব্রেইন স্ট্রোক’ হয় তানজিলার। তিনি বলেন, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম ও আবুল হোসেন তার মেয়ের অস্ত্রোপচার করেন। অ্যানেসথেটিস্ট ছিলেন ডা. কমল কান্তি দাস। মেয়েকে অজ্ঞান করার পর পরই অপারেশন থিয়েটার থেকে অ্যানেসথেটিস্ট কমল কান্তি দাসকে বাইরে বের হতে দেখা যায়। আধা ঘণ্টায় অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর গড়িয়ে যায়। অজ্ঞান অবস্থায় শিশুটির আকস্মিক জটিলতা দেখা দেয়। এরপর ডজনখানেক চিকিৎসক ও নার্স অপারেশন থিয়েটারে আসা-যাওয়া শুরু করেন। আমাদের জানানো হয়, শিশুটির হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছে। এ অবস্থায় তানজিলাকে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে আইসিইউতে রাখার পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসকরা একে একে ওটি থেকে চলে যান। এরপর তিন মাস ধরে বগুড়া ও ঢাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেও পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছে না তার মেয়ে। তার অভিযোগ, শুরুতেই যদি সঠিকভাবে অস্ত্রোপচার হতো, তাহলে আজ এভাবে ভুগতে হতো না তানজিলাকে।

এ ব্যাপারে ডা. শফিকুল ইসলাম ও ডা. আবুল হোসেন বলেন, এ ধরনের অপারেশন এর আগেও আমরা অনেকবার করেছি, কিন্তু সমস্যা হয়নি। অপারেশনের আগে অ্যানেসথেসিয়ার পর অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে শিশুটির আকস্মিক ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে। ডা. কমল কান্তি দাস অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পরপরই চলে যান। তিনি সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকলে হয়তো শিশুটির অক্সিজেনের ঘাটতি হতো না।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, দুখিয়াবাড়ী গ্রামের শিশুটির অপারেশন-পরবর্তী জটিলতার বিষয়টি পরস্পর শুনলেও শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও অভিযোগ করা হয়নি। সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, পেটে গজব্যান্ডেজ রেখে প্রসূতির অস্ত্রোপচারের ঘটনায় অ্যানেসথেটিস্ট কমল কান্তি দাসের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। শিশুটির বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তারও তদন্ত করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে অ্যানেসথেটিস্ট ডা. কমল কান্তি দাস বলেন, ‘শিশুটিকে অজ্ঞান করার পর বাইরে গেলেও কিছুক্ষণ পরই ফিরে আসি। তার এ অবস্থা কেন হয়েছে, তা বোধগম্য নয়। পরে সেভাবে শিশুটির খোঁজ-খবর নেওয়াও সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here