দুর্নীতির আরো তথ্য মিলছে শাহজাদপুর সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে

59

হুমায়ুন কবির সুমন: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল গ্রহিতাদের কৌশলে প্যাচে ফেলে হয়রানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ বাণিজ্য এবং গুনে গুনে ঘুষের টাকা নেবার ভিডিও চিত্র ভাইরাল নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত ক’দিন থেকে সংবাদ প্রকাশ হতে শুরু করেছে। সংবাদ প্রকাশ হলেও অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসসহ ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারীরা এখনও বহাল তবিয়তে।

ভাইরাল ভিডিওতে ঘুষের টাকা গুনে গুনে নেবার বাস্তব চিত্র দৃশ্যমান হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনও বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। অভিযোগসহ ভাইরাল ভিডিও হাতে পেয়ে জেলা রেজিস্ট্রার নিজেই স্বপ্রনোদিত হয়ে গত বুধবার শাহজাদপুরে যান। তিনি ঘটনাটির নিজস্ব কায়দায় তদন্ত শুরু করলেও সেটি অনেকটাই দায়সাড়া বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, জেলা রেজিস্ট্রার সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে রোববার দুপর ১২ টা পর্যন্ত উর্ধ্বতনদের অবগত করতে পারেননি। বরং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিপরীতে শাহজাদপুর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস রোববার সকালে সরকারী নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সন্মেলন করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে নির্দোষও দাবি করেন তিনি। কিন্তু, সরকারী কর্মকর্তা হয়ে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনের আগে উর্দ্বতনদের নিকট থেকে পূর্বানুমতি নেবার বিধান থাকলেও তিনি তা করেননি। বরং গায়ের জোরে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে শাহজাদপুর টেওসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ অনেক সিনিয়র সাংবাদিক উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শাহজাদপুর সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নতুন নতুন তথ্য মিলছে। দলিল লেখক সেড নির্মানের সময় সাব রেজিস্ট্রার বিধি বর্হিভুতভাবে সরকারী দু’টি বড় মেহগনি গাছ কর্তৃক করিয়েছেন। একটি বিক্রি করা হলেও অন্যটি দিয়ে তিনি নিজের বাড়ির ফার্ণিচার গড়েছেন। গাছ কর্তৃনের আগে সরকারী নিয়ম নীতি মানা হয়নি। নিজের দপ্তর বা বনবিভাগের অনুমতি নেয়া তো দুরের কথা‘গাছ কর্তৃন বা বিক্রয়’ কমিটি গঠন করা হয়নি। এর আগের কর্মস্থলে এ ধরনের হঠকারী উদ্দ্যোগের কারনে সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার ঘোষ বিভাগীয় শাস্তিপ্রাপ্ত হন বলে তার ক’জন সহকর্মী জানিয়েছেন।

জেলা রেজিস্ট্রার আবুল কালাম মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম রোববার দুপুরে বলেন, ভাইরাল ভিডিও ও লিখিত অভিযোগ পেয়ে যে তদন্ত শুরু করি, সেটি বিভাগীয় নয়। শাহজাদপুর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার এবং তার অফিসের কতিপয় কর্মচারীর

দুর্নীতি নিয়ে গত ক’দিন থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত সংবাদ আমার দৃষ্টি গোচর হলেও উর্ধ্বতনরা সেটি অবগত কি-না, তা আমি জানিনা। উর্ধ্বতনদের কেউই এ বিষয়ে জানতেও চাননি। সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস কর্তৃক সরকারী গাছ কর্তন বা সংবাদ সন্মেলনের বিষয়ে কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। তিনি গায়ের জোরে যেমন দু’টি বড় বড় মেহগনি গাছ কাটিয়েছেন, সেভাবে সংবাদ সন্মেলনেরও আয়োজন করেন। এ ধরনের নির্ববুদ্ধিতায় তিনি পূর্ববর্তী কর্মস্থলে শাস্তিপ্রাপ্ত হন বলেও পরস্পর জেনেছি।

সংবাদ সম্মেলন ও সরকারী গাছ কর্তৃনের বিষয়ে সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস রোববার বিকেলে দাবি করেন, ‘তার সব ধরনের অনুমতি আছে।’ এর আগে আপনি কেন সাসপেন্ড হয়েছিলেন, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি দ্রুত মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। শাহজাদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুমার কুন্ডু বলেন, সংবাদ সন্মেলনটি বিতর্কীত হওয়ায় আমরা তা বর্জন করেছি।

এসব প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে রোববার দুপুরে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিস্ট্রার (আইজিআর) খান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের মুঠোফোনে বার বার রিং এবং ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য: শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারসহ তার কার্যালয়ের কতিপয় কর্মচারীর ঘুষ বাণিজ্য ও ঘুষের টাকা গুনে গুনে নেবার একটি ভিডিও চিত্র গত ১৭ আগষ্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি সোহেল রানা । সোহেল রানার ছড়িয়ে দেয়া ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় আলোচনায় উঠে আসেন সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসসহ তার অফিসের দুর্নীতিবাজরা।

এ বিষয়ে গত ৩০ আগষ্ট দৈনিক যুগের কথা” পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশ হলে জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও জাতীয় সংবাদপত্র ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ অব্যহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here