ডাকাতিয়া নদী অবৈধ লিজ দিলো রায়পুর পৌরসভা

47

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর ডাকাতিয়া নদীর ৯ একর জমি অবৈধ লিজ দিয়েছে রায়পুর পৌরসভা। সম্প্রতি রায়পুর উপজেলা কাঞ্চনপুর এলাকার ভূঁইয়া ট্রেডার্স নামে বদিউল আলমকে দুই বছরের জন্য এই লিজ দেওয়া হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসক বলছেন, ডাকাতিয়া নদীর জমি রায়পুর পৌরসভার লিজ দেওয়ার সুয়োগ নেই।
তথ্য সূএমতে, ডাকাতিয়া নদীর ৯ একর রায়পুর পৌরসভার পেটেসহ ৭৭ একর জমি প্রভাশালীরা দখল করে নেন। আর দখলদাররা নদীর বুকে ২০ থেকে ২৫টি বাঁশের বাঁধ দিয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে বসবাসের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর বাঁধ দিয়ে চলছে অবৈধ মাছ চাষ।

এদিকে, ডাকাতিয়া নদীতে বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনায় পানি নিস্কাশনে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। কচুরিপানাসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। দখল আর দূষণে ডাকাতিয়া নদী হারাতে বসেছে নদীর ঐতিহ্য।

রায়পুর উপজেলার সাবেক পৌর মেয়র রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান জানান যে, ডাকাতিয়া নদীর মহিলা কলেজ থেকে হায়দরগঞ্জ সড়ক পর্যন্ত এক সময় বিএনপি নেতা বদরুল আলম জিন্নাসহ অনেকে, পরে আরও কয়েকজন দখল করে। এবার রায়পুর পৌরসভা থেকে ভূইয়া ট্রেডার্স লিজ নেয়।

এছাড়া কিছু অংশে মহিলা কলেজ থেকে চালতাতলী বর্তমান মেয়র মাছ চাষ করছেন। হায়দরগঞ্জ রোড থেকে উত্তরে দুই অংশে একটিতে শিশির, আরেক অংশে সিরাজ সর্দার মাছ চাষ করছে। রায়পুর পৌর সভার মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকন বলেন, পৌরসভার মধ্যে কোনো বদ্ধ জলমহাল অথবা কোনো পুকুর ২০ একরের নিচে হলে তা পৌরসভা তত্ত্বাবধান করবে এমন সরকারি গেজেটে রয়েছে। তাই নদীর ৯ একর জায়গা ৫ লাখ টাকায় লিজ দিয়েছি।

এছাড়া নদী দখল করে মাছচাষ করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন, আমি পৌর মেয়র বলে আমার নাম আসতেই পারে। রায়পুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক কামরুল হাসান রাছেল জানিয়েছে, অল্প বৃষ্টিতে পৌর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পানি সরতে না পেরে জলাবদ্ধতা হয়ে তাদের বাড়িতে জমে থাকে।
নদীর পারের বাসিন্দা রহিম সওদাগর জানান যে, পানি আটকে থাকায় কচুরিপানা, কুকুর, বিড়াল মরার গন্ধে আশপাশের মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ডাকাতিয়া সুরক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, অবৈধ দখলে ডাতাতিয়ার দু’পাশেই অবৈধভাবে দোকানঘর, বাসাবাড়ি নির্মাণসহ লুট করা হচ্ছে নদীর ঐতিহ্য।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় ডাকাতিয়া নদী লুটে-পুটে খাচ্ছে অবৈধ দখলদাররা। এই কারণেই বাঁধে ময়লা-আবর্জনা আটকে বর্ষায় জলাবদ্ধ হয়ে থাকছে রায়পুরের আশপাশের এলাকা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা বলেন, ডাকাতিয়া নদীর কোনো অংশই ইজারা দেয়া হয়নি। যারা মাছচাষ করছে তারা অবৈধ।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেছেন, কয়েকদিনের মধ্যে ডাকাতিয়া নদীর অবস্থা দেখার জন্য যাব। ডাকাতিয়া নদীকে দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া সরকারিভাবে পৌরসভা লিজ দেয়ার সুয়োগ নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল জানান, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের উদ্যোগসহ স্রােত প্রবাহের আশ্বাস দেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here